নদী ও হিমবাহের মত বায়ুও ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়। পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুর কাজ দেখা গেলেও মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে বায়ুর কাজ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
পৃথিবীর মােট স্থলভাগের প্রায় ১৬% মরুভূমি অধ্যুষিত। মরুভূমিকে সাধারণভাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয়,
যেমন—উষ্ণ মরুভূমি, নাতিশীতােষ্ণ মরুভূমি ও শীতল মরুভূমি।
১) উষ্ণ মরুভূমির : আফ্রিকার সাহারা ও কালাহারি, আরবের বারএল-খালি, ভারত ও পাকিস্তানের থর, উত্তর আমেরিকার অ্যারিজোনা, দক্ষিণ আমেরিকার আটাকামা, অস্ট্রেলিয়ার সােনেরান প্রভৃতি ।
২) নাতিশীতােষ্ণ মরুভূমি: মঙ্গোলিয়ার গােবি, চীনের তাকলামাকান, ইরানের মরুভূমি, দক্ষিণ আমেরিকার প্যাটাগােনিয়া মরুভূমি প্রভৃতি।
৩) শীতল মরুভূমি : গ্রীনল্যাণ্ড, অ্যান্টার্কটিকা, লাডাক মালভূমি প্রভৃতিকে। মরুভূমির গঠন ও প্রকৃতির ওপর বায়ুর কাজ নির্ভর করে।
🌍 গঠন ও প্রকৃতি অনুযায়ী মরুভূমিগুলি তিনপ্রকার, যেমন-
১) বালুকাময় মরুভূমি (আর্গ বা কুম),
২) শিলাময় মরুভূমি (হামাদা)
৩) শিলাখণ্ডময় মরুভূমি (রেগ বা সেরীর)।
বায়ুর কাজ সম্বন্ধে কিছু তথ্য ।
বায়ুর কাজ প্রধানতঃ মরু অঞ্চলে ও সমুদ্র উপকূল অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। তবে মরু
অঞ্চলেই বায়ুর কাজের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
🔍 মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্য দেখা যায় কেন?—
[১] মরু অঞ্চল বৃষ্টিহীন বলে উদ্ভিদ তেমন জন্মাতে পারে না। ফলে বায়ু প্রবলবেগে অবাধে বয়ে চলে।
[২] গাছপালা তেমন না থাকায় মাটি সহজেই আলগা হয়ে যায় এবং বায়ুর দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন সহজেই ঘটে।
[৩] মরু অঞ্চলে দিন-রাত্রির উষ্ণতার পার্থক্য বেশি হওয়ায় যান্ত্রিক আবহবিকার বেশিঘটে এবং শিলাসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে বালুকণায় পরিণত হয়।
[৪] বায়ু অবাধে বয়ে চলে বলে বায়ুর সঙ্গে বাহিত বালুকণা বিভিন্ন শিলার ওপর ঘর্ষণ করে শিলাকে ক্ষয় করে।
• বায়ুর ক্ষয়কাজ ও গঠিত ভূমিরূপ:
বায়ুর ক্ষয়কাজের ক্ষমতা নির্ভর করে তিনটি অবস্থার ওপর, যেমন—
[১] বালুকণার পরিমাণ,
[২] বালুকণার আকৃতি ,
[৩] বায়ুর গতিবেগ।
বায়ুর ক্ষয়কারী অস্ত্র হল বালুকণা এবং শক্তি হল বায়ুর গতিবেগ। বালুকণায় থাকে কোয়ার্টজ নামে কঠিন খনিজ যা শিলার ওপর আঘাত করে আঁচড়কাটা দাগ, গভীর গর্ত বা মৌচাকের মত ছােট ছােট গর্তের সৃষ্টি করে। সাধারণভাবে বায়ুর ক্ষয় করার শক্তি বেশি থাকে ভূমি থেকে ওপরে১-২ মিটারের মধ্যে।
• বায়ুর ক্ষয়কাজের পদ্ধতিঃ
বায়ু সাধারণতঃ তিনটি পদ্ধতিতে ক্ষয়কাজ করে, যেমন—
[ক] অবনমন, [খ] অবঘর্ষ ও [গ] ঘর্ষণ।
• [ক] অবনমন [Deflution] : মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কাজের প্রাথমিক অবস্থা হল অবনমন।
প্রবল বায়ুপ্রবাহে মরুভূমির বালি একস্থান থেকে অন্যস্থানে উড়ে গিয়ে সেই স্থানে গর্তের সৃষ্টি
করে। এই অবস্থাকে অবনমন বলে।
• অবনমনের ফলে গঠিত ভূমিরূপঃ
[i] ধান্দঃ অবনমনের ফলে সৃষ্ট এই সব গর্তকে ধান্দ বলে।
সাহারা মরুভূমির পূর্বে নীলনদের অববাহিকায় কাতারা ও ফাইয়ুম নামে দুটি বিশাল গর্তের
সৃষ্টি হয়েছে।
[ii] মরূদ্যান : দীর্ঘদিন ধরে মরুভূমির বালি অপসারিত হলে কোন স্থান ক্রমাগত নিচু হয়ে
ভূ-গর্ভের জলস্তর পর্যন্ত পৌঁছায়। এরূপ ক্ষেত্রে মরূদ্যানের সৃষ্টি হয়।
• [খ] অবঘর্ষ (Abrosion) : বায়ুর সঙ্গে বাহিত বিভিন্ন শিলাখণ্ড, বালিকণা প্রভৃতির আঘাতে
মরু অঞ্চলের শিলাস্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই অবস্থাকে অবঘর্ষ বলে।
• [গ] ঘর্ষণ (Afrition): বায়ুর সঙ্গে বাহিত বিভিন্ন শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর প্রভৃতি পরস্পরের সঙ্গে ঠোকাঠুকি করে। এই প্রক্রিয়াকে ঘর্ষণ বলে। ঘর্ষণের ফলে বিভিন্ন শিলাখণ্ড বালুকণায়
পরিণত হয়। ঘর্ষণ প্রক্রিয়াই বায়ুর ক্ষয়কাজের শেষ পর্যায়।
• অবঘর্ষের ফলে গঠিত ভূমিরূপঃ অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় বায়ুর ক্ষয়কাজের ফলে ভূমিরূপের নানাবিধ পরিবর্তন ঘটে। যেমন—
[j] ভেন্টিফ্যাক্ট (Ventifoct) :
নামকরন: ল্যাটিন শব্দ Ventus = বাতাস ও fact = সৃষ্ট। Ventifact প্রবাহিত বায়ুর দ্বারা সৃষ্ট।
সংজ্ঞা: মরু অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট দিক থেকে সারাবছর প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হলে শিলার বায়ুপ্রবাহের দিকটি ক্ষয় পেয়ে মসৃন ও সঁচাল হয়। শিলার অন্য দিকগুলাে অমসৃণ থেকে যায়। এরূপ ব্রাজিল নাটের মত দেখতে একদিক মসৃণ শিলাকে
ভেন্টিফ্যাক্ট বলে।
দৃষ্টান্ত: কালাহারি মরুভূমিতে এরূপ ভেন্টিফ্যাক্ট দেখা যায়।
[ii] ড্রাইকান্টার (Dreikonfer): যে সব মরু অঞ্চলে বিভিন্ন দিক হতে বায়ু প্রবাহিত হয় সেখানে শিলার বিভিন্ন দিক ক্ষয় পেয়ে মসৃণ হয়। এরূপ বিভিন্ন দিকে মসৃণ শিলাকে ড্রাইকান্টার বলে।
দৃষ্টান্ত: সাহারা মরুভূমিতে এরূপ ড্রাইকান্টার দেখা যায়।
[iii] জুগ্যান ঃ (Zeugen) মরু অঞ্চলে আড়াআড়িভাবে কঠিন ও কোমল শিলা ওপর-নিচে অবস্থান করলে প্রবল বায়ুপ্রবাহের আঘাতে কোমল শিলা বেশি এবং কঠিন শিলা অল্প ক্ষয়প্রাপ্ত ফলে শিলার ওপরের অংশ চওড়া ও চ্যাপ্টা ও নিচের অংশ সরু হয়ে একধরনের মূর্তি জুগ্যান বলে।
দৃষ্টান্ত : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সােনেরান মরুভূমিতে এরূপ জুগ্যান দেখা যায়।
[iv] ইয়ারদাঙ (Yordong): মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর লম্বালম্বিভাবে (Vertically) অবস্থান করলে অবঘর্ষের প্রভাবে কোমল শিলাস্তর দ্রুত ক্ষয়ে যায়। ফলে কঠিন শিলাস্তর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে টিলার আকারে দাড়িয়ে থাকে এদের ইয়ারদাঙ বলে।
দৃষ্টান্ত : আরবের মরুভূমিতে এরূপ ইয়ারদাঙ দেখা যায়।
[v] গৌর (Gour) : মরু অঞ্চলে কোন বৃহৎ শিলাখণ্ডের নিচের অংশ কোমল শিলাস্তর দ্বারা গঠিত হলে, নিচের অংশ দ্রুত ক্ষয় পেয়ে সরু হয়ে যায়। ফলে ওপরের অংশ ব্যাঙের ছাতার মত চওড়া ও চ্যাপ্টা হয়ে অবস্থান করে।এদের গৌর বলে।
দৃষ্টান্ত: সাহারা মরুভূমিতে এরূপ ইয়ারদাঙ গৌর দেখা যায়।
[vi] ইনসেলবার্জ (Inselberg): মরু অঞ্চলে কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়ের ফলে প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়। এইরূপ সমতল অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত কঠিন শিলাস্তর অনেকসময় অনুচ্চ টিলার আকারে বিচ্ছিন্নভাবে দাড়িয়ে থাকে। গােলাকৃতির এইসব অনুচ্চ টিলাকে ইনসেলবার্জ বলে।
বৈশিষ্ট্য:
১) দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়ের ফলে এইসব ইনসেলবার্জ ক্ষয়কাজ বেশি টরের আকার ধারণ করে।
২) ক্ষুদ্রতম ইনসেলবার্জকে বর্ণহার্ট বলে ৷
দৃষ্টান্ত: দক্ষিণ আফ্রিকার কালাহারি ও অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি এবং ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে এইরূপ ইনসেলবার্জ দেখা যায়।
[vii] মেসা ও বাটে (Meso & Butte) : নামকরণ: স্পেনীয় শব্দ ‘মেসা’-র অর্থ হল টেবিল।
সংজ্ঞা: অঞ্চলের কোন মালভূমি দীর্ঘক্ষয়ের ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে টেবিলের মত সমতল আকৃতিযুক্ত হয় এদের মেসা বলে।
মেসাগুলি ক্রমশঃ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যখন ক্ষুদ্রকায় ঢিবির আকারে অবস্থান করে, তখন তাদের বলে বাটে।
• বায়ুর বহন কাজ ও গঠিত ভূমিরূপ •
প্রবল বায়ু প্রবাহের প্রভাবে মরু অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষয়জাত পদার্থ একস্থান থেকে অন্যস্থানে বাহিত হয়। একে বায়ুর বহন কাজ বলে। বায়ু তিনভাবে এই বহন কাজ করে, যেমন—
[i] ভাসমান অবস্থায় অতিসূক্ষ্ম বালুকণা বায়ুর সঙ্গে ভাসমান অবস্থায় বহু দূরে প্রবাহিত হয়।
[ii] লাফিয়ে লাফিয়ে অপেক্ষাকৃত বড় বড় শিলাখণ্ড ভারী বলে বায়ুর টানে ভূমির সঙ্গে ঠোক্কর খেতে খেতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাহিত হয়।
[iii] গড়িয়ে গড়িয়ে বড় বড় নুড়ি, পাথর প্রভৃতি বায়ুর টানে ভূমির সঙ্গে গড়াতে গড়াতে বাহিত হয়। এইভাবে বিভিন্ন পদার্থ বায়ুর দ্বারা বাহিত হওয়ার ফলে কোন স্থান অবনমিত হয়ে যায়।
(সাহারা মরুভূমিতে যে ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয় তার সাধারণতঃ বায়ুর গতিকে বাধা দেওয়ার প্রভাবে একবারে প্রায় ২০ লক্ষ টন ধূলিকণা জন্য দীর্ঘ শিকড়বিশিষ্ট গাছ লাগানাে হয়। একস্থান থেকে অন্যস্থানে বাহিত হয়। বর্তমানে লাগানাে বিভিন্ন গাছের ফাকে মরুভূমির আয়তন বৃদ্ধি ও বায়ুর বহন কাজের ফাকে একপ্রকার তেল ছড়িয়ে দিয়ে বালির ফলে মরুভূমির আয়তন ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায়। ওপর প্লাস্টিক আবরণ তৈরি করা হচ্ছে।
এইভাবে সাহারা, থর প্রভৃতি মরুভূমির আয়তন ফলে লাগানাে গাছগুলি সহজে মরছে না ও
ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মরুভূমির এই বিস্তৃতিকে বালুকণা উড়ে যেতে পারছে না। বন্ধ করার জন্য বায়ু প্রবাহের গতিপথে আড়াআড়িভাবে গাছ লাগানাের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
• বায়ুর সঞ্চয়কাজ ও গঠিত ভূমিরূপ বায়ুর গতিপথে কোন ঝােপঝাড়, বড় শিলাখণ্ড বা কোন উঁচু ভূমি অবস্থান করলে বায়ুবাহিত বিভিন্ন বালুকণা তাতে বাধা পেয়ে ঐ স্থানে সঞ্চিত হয়। একে বায়ুর সঞ্চয় কাজ বলে।
• সঞ্চয় কাজের ফলে গঠিত ভূমিরূপঃ বায়ুর সঞ্চয় কাজের ফলে প্রধানতঃ দু'ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়—
[ক] বালিয়াড়ি ও [খ] লােয়েশ সমভূমি।
[ক] বালিয়াড়িঃ ]
সংজ্ঞা ঃ বায়ু প্রবাহপথে কোন স্থানে বাধা পেলে যে ঢিবির আকারে বালির স্তুপ গঠন করে, তাকে বালিয়াড়ি বলে। সাধারণতঃ মরু অঞ্চলে বালিয়াড়ির প্রাধান্য দেখা যায়। তবে সমুদ্র উপকূল অঞ্চলেও বালিয়াড়ি গঠিত হয়।
বালিয়াড়ির শ্রেণীবিভাগঃ বায়ুপ্রবাহের দিক, বায়ুর গতিবেগ, বালুকণার পরিমাণ ও আকৃতিরওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে। ভূবিজ্ঞানী ব্যাগনল্ড, কুক, ওয়ারেন প্রভৃতির শ্রেণীবিভাগ অনুসারে অবস্থান ও আকৃতি অনুযায়ী বালিয়াড়িকে বিভিন্নভাগে ভাগ করা হয়।
মস্তক বালিয়াড়িঃ কোন শিলাখণ্ডে বায়ু বাধা পেলে শিলাখণ্ডের সামনে বা প্রতিবাত অংশে যে বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয়, তাকে মস্তক বালিয়াড়ি বলে।
যেমন:-
• [i] পুচ্ছ বালিয়াড়ি ঃ বায়ুপ্রবাহ শিলাখণ্ডে বাধা পেলে শিলাখণ্ডের অনুবাত বা বিপরীত
অংশে লেজের আকারে যে বালিয়াড়ি গঠিত হয়, তাকে পুচ্ছ বালিয়াড়ি বলে।
[i] অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি ও মস্তক বালিয়াড়ির সামনে ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়ে যে বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয়, তাকে অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি বলে।
• [iv] পার্শ্বস্থ বালিয়াড়ি ঃঃঃঃ শিলাখণ্ডের উভয়দিকে বালুকণা সঞ্চিত হয়ে যে বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয়, তাকে পার্শ্বস্থ বালিয়াড়ি বলে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরূপ বালিয়াড়িকে ওয়েক বালিয়াড়িও বলা হয়।
• [v] চলন্ত বালিয়াড়ি: প্রবল বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে অনেকসময় মরু অঞ্চলে বিভিন্ন বালিয়াড়িকে সরে সরে সঞ্চিত হতে দেখা যায়। এদের চলন্ত বালিয়াড়ি বলে। রাজস্থানের মরুস্থলীতে চলন্ত বালিয়াড়িকে প্রিয়ান বলে।
• [vi] বাখানঃ বায়ু যেদিক থেকে প্রবাহিত হয় তার আড়াআড়িভাবে যেসব বালিয়াড়ি গঠিত হয়, তাকে তির্যক বালিয়াড়ি (Transverse বাখান(dones) বলে। যেসব তির্যক বালিয়াড়ি দেখতে ধীর বাতাস অনেকটা আধখানা চাদের মত, তাদের বাখান বলে ।
(বারখান’ তুর্কী শব্দ এর অর্থ খিরগিজ স্তেপ অঞ্চলের বালিয়াড়ি')।
বৈশিষ্ট্যঃ
[১] বাখানের বায়ুপ্রবাহের দিকটিউত্তল (খাড়া নয়) এবং পেছনের দিকটি অবতল (খুব খাড়া) প্রকৃতির হয়।
[২] বাখানের দু’প্রান্তে প্রবল বাতাস বারখানয়েড দু’টি শিং-এর মতাে শিরা দেখা যায়।
[৩] বাখান সাধারণতঃ অস্থায়ী হয়।
[৪] মরূদ্যান অঞ্চলের নিকট বাখান সাধারণতঃ স্থায়ী হয়।
[৫]ভূ-বিজ্ঞানী ব্যাগনন্ডের মতে বারখানগুলি ক্রমশঃ ভেঙে গিয়ে সিফ বালিয়াড়ি গঠিত হয়।
[৬]আকলে বালিয়াড়ি বা উচ্চতা সাধারণতঃ ১৫-৩০ মিটার পর্যন্ত হয়। এক একটি বাখান প্রায় ৫-২০০ মিটার স্থান জুড়ে অবস্থান করে।
• [vi] আকলে বালিয়াড়ি (Akle dune) : একাধিক বাখান পাশাপাশি গঠিত হলে অনেক সময়
সাপের বা মাছের কাটার মত আঁকাবাকা বালিয়াড়ি শ্রেণী দেখা যায়। এদের আকলে বালিয়াড়ি বলে। এরূপ বালিয়াড়ির বাকের সামনের অংশকে লিংগুঅয়েড ও পেছনের অংশকে বাখানঅয়েড বলে।
• [vi] সি বালিয়াড়ি (Seif dune) : বায়ুর গতির সঙ্গে সমান্তরালে যে সব বালিয়াড়ি গঠিত হয়, তাদের অনদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বলে। এদের মধ্যে যে সব বালিয়াড়ি খুব লম্বা ও সরু, তাদের সি বালিয়াড়ি বলে (‘সি’ আরবী শব্দ। এর অর্থ ‘সােজা তরবারি)।
বৈশিষ্ট্য ঃ
[১] সি বালিয়াড়িগুলি পরস্পরের সমান্তরালে অবস্থান করে।
[২] ভূ-বিজ্ঞানী ব্যাগনল্ডের মতে বাখানগুলি ক্রমশঃ ভেঙে সিফ বালিয়াড়িতে পরিণত হয়।
[৩] সি বালিয়াড়ি লম্বায় কয়েক কিলােমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
[৪] এদের উচ্চতা অনেক সময় ১০০ মিটারেরও বেশি হয়।
[৫] দু’টি সি বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী অংশকে করিডোের বলে।
[6] সাহারা, কালাহারি, থর প্রভৃতি মরুভূমিতে সি বালিয়াড়ি দেখা যায়।
• [ix] পিরামিড বালিয়াড়ি ঃ যে সব বালিয়াড়ি দেখতে অনেকটা পিরামিডের মত তাদের
পিরামিড বালিয়াড়ি বা রাের্ডস বালিয়াড়ি বলে। সাধারণতঃ বাখানের পাশে এই ধরনের
বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে। অনেকসময় এইরূপ বালিয়াড়ি দেখতে অনেকটা তারা মাছের মত হয়।
তাই এদের তারা বা নক্ষত্র বালিয়াড়ি বলে।
মন্তব্যসমূহ