Chotanagpur mineral and industrial complex:
(ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল):
🚜অবস্থান ও বিস্তৃতি
ভারতের খনিজ ভান্ডার ও শিল্পসমৃদ্ধ ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল টি সমগ্র ঝাড়খন্ড রাজ্য (রাচি, হাজারীবাগ, সিংভূম , ধানবাদ এবং সাঁওতাল পরগনা জেলা) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার বিস্তারিত।
🚜অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ:
উত্তর অক্ষাংশ ২২ ডিগ্রি থেকে ২৫°৩০`[উত্তর অক্ষাংশ]
🏗️ক্ষেত্রফল:
🏭স্থানের সাপেক্ষে অবস্থান:
ছোটনাগপুর অঞ্চলের, উত্তরে মধ্য গঙ্গা সমভূমি, দক্ষিণে উড়িষ্যা রাজ্য ,পূর্বে নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি ও পশ্চিম মধ্য প্রদেশ রাজ্য ও বাঘেলখন্ড মালভূমি অবস্থিত।
🏭ভূপ্রকৃতি:
রাচি মালভূমি, হাজারীবাগ মালভূমি, কোডারমা মালভূমি অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছোটনাগপুর মালভূমির গড় উচ্চতা ৪০০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত।
১)পূর্বদিকে ছোটনাগপুর মালভূমি ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় সমভূমি তে পরিণত হয়েছে এবং ধাপে ধাপে রাঢ় সমভূমি তে নেমে এসেছে।
২) পূর্বের এই সমভূমিতে অনেক ছোট ছোট টিলা দেখা যায়।
৩) ছোটনাগপুর মালভূমির পূর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত দামোদর গ্রস্ত উপত্যকার দক্ষিনে মানভূমি-রাচি-নেতারহাট অঞ্চল।
৪) উত্তরে সাঁওতাল পরগনা হাজারীবাগ মালভূমি অবস্থিত।
৫) এই মালভূমিতে অনেকগুলি জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে যেমন হুড্রু, জোনা, দশম ও রাজরাপ্পা জলপ্রপাত।
৬) হাজারীবাগ মালভূমির উত্তরে লাভা গঠিত রাজমহল ও দলমা পাহাড় অবস্থিত।
৭) দামোদর উপত্যকার দক্ষিনে অবস্থিত রাচি মালভূমির পশ্চিম অঞ্চল প্যাট অঞ্চল (Pat region) নামে পরিচিত। এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা ১০০০ মিটার।
৮) ছোটনাগপুর মালভূমির উচ্চতম পাহাড় পরেশনাথ পাহাড়, উচ্চতা ১৩৬৬ মিটার।
৯) ছোটনাগপুর মালভূমিটি সুবর্ণরেখা নদী ও দামোদর নদ বরাবর পূর্ব দিকে ঢালু হয়ে গেছে।
১০) ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলটি খনিজ সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ হওয়ায় একে ভারতের খনিজ ভান্ডার বলা হয়।
(ছোটনাগপুরের খনিঅঞ্চল)
১)কয়লা:
দামোদর উপত্যকার গন্ডোয়ানা শিলাস্তরের মধ্যেে প্রচুর কয়লা সঞ্চিত রয়েছে ।এখানে ভারতের মোট কয়লা সম্পদের ৮০% সঞ্চিত রয়েছে বলে ভূতাত্ত্বিক দের অভিমত।
প্রধান প্রধান কয়লা খনি গুলি দামোদর ও ঔরাঙ্গা নদীদ্বয় বরাবর পশ্চিমের ছটার খনি অঞ্চল থেকে পূর্ব ঝরিয়া খনি অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত।
ঝরিয়া (ভারতের শ্রেষ্ঠ কয়লা খনি) ধানবাদ , বোকারো উত্তর ও দক্ষিণ কর্পুরা,রামগড়,দেওঘর ডালটনগঞ্জ,গিরিডি, প্রভৃতি ছোটনাগপুর অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য কয়লা খনি।
এই সমস্ত খনি গুলিতে কোক কয়লা উৎপাদন এর উপযোগী উন্নত শ্রেণীর বিটুমিনাস জাতীয় কয়লা পাওয়া যায়। এখানে মোট সঞ্চিত কয়লার পরিমাণ প্রায় ৪৫৮৪ কোটি টন।
ভারতের অধিকাংশ কয়লা ছোটনাগপুর থেকে সংগ্রহ করা হয় প্রায় ৫০%।
২) লৌহ আকরিক:
নবগঠিত ঝাড়খন্ড রাজ্যের সিংভূম জেলা কোন অঞ্চলের ধারওয়ারা লৌহ আকরিক শ্রেণীটি প্রধানত অশ্বক্ষুরাকৃতি দুটি সমান্তরাল শৈলশিরা বিস্তৃত হয়েছে। এর পশ্চিমাঞ্চল এর পশ্চিমাঞ্চল যা "আকরিক লৌহের পাহাড়" নামে পরিচিত।
সেখানে ৬০% লৌহসমৃদ্ধ হেমাটাইট শ্রেণীর উৎকৃষ্ট লৌহ আকরিক এর সন্ধান পাওয়া যায় ভারতের মোট উৎপাদনের প্রায় ১৪.৭৭% লৌহ আকরিক উৎপাদন করে ছোটনাগপুর অঞ্চল বর্তমান পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
ছোটনাগপুর অঞ্চলের অন্তর্গত বিহারের সিংভূম জেলার গুয়া,নোয়ামুন্ডি,পানশিরবরু,কোটামাটিবরু প্রভৃতি খনি থেকে উৎকৃষ্ট হেমাটাইট জাতীয় লৌহ পাওয়া যায়।
১৯৮৩ সালে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যের চিরিয়াতে বিশ্বের বৃহত্তম লৌহ খনি আবিষ্কৃত হয়েছে। (আনুমানিক সঞ্চিত ২০০ কোটি টন আকরিক লোহা)
৩) চুনাপাথর:
ছোটনাগপুরের পালামৌ,হাজারীবাগ, রাচি, সিংভূম জেলা এবং পুরুলিয়া ঝালদা অঞ্চলে চুনা পাথরের খনি ছড়িয়ে রয়েছে।
৪) অভ্র খনিজ সম্পদ:
কোডারমা মালভূমি উত্তরাংশে ১২৮ কিমি দীর্ঘ ও ৩২ কিমি বিস্তৃত একটি অভ্র বলয় গয়া, কোডারমা, হাজারীবাগ,মুঙ্গের উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র।
এটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভ্র বলয়। এখানে শ্বেতবর্ণের স্বচ্ছ রুবি অভ্রের পরিমাণ ভারতের মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ।
৫) বক্সাইট:
রাচি জেলার প্যাট অঞ্চল এবং পালামৌ জেলায় বক্সাইট পাওয়া যায়। পালামৌ খনি অঞ্চলটি হল ভারতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বক্সাইট উৎপাদক অঞ্চল।
৬) ম্যাঙ্গানিজ:
ছোটনাগপুর অঞ্চলের কালাহান,চাইবাসা, সিংভূম অঞ্চলে ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়।
৭) তেজস্ক্রিয় খনিজ দ্রব্য:
জামশেদপুর এর নিকটবর্তী জাদুগুন্ডা খনি থেকে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ জারকন, ইলমেনাইট, মোনাজাইট পাওয়া যায়।
৮) চুনাপাথর:
ছোটনাগপুরের পালামৌ,রাচি,হাজারীবাগ,সিংভূম জেলায় পাওয়া যায়।
৯) সীসা:
ছোটনাগপুর অঞ্চলের সাঁওতাল পরগনা (পঞ্চ পাহাড়,শংকর পাহাড়) ভাগলপুর (দুধেয়ার ও গৌরীপুর) হাজারীবাগ (পরসিয়া ও হাতাসু) এইসব অঞ্চলে সীসা পাওয়া যায়।
১০) গ্রাফাইট:
হাজারীবাগ জেলা ও পালামৌ জেলার ডালটনগঞ্জ অঞ্চল।
মন্তব্যসমূহ