মাধ্যমিকের সেরা প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আমরা যে সমস্ত নিবেদন করে থাকে সেই নিবেদনের এক নব প্রয়াস সংযোগ ।
দশম শ্রেণীর ভূগোলের সেরা প্রস্তুতি আমরা এই ওয়েব পেজে নিবেদন করলাম তোমরা প্রত্যেকে পিডিএফ নিতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটের কন্টাক্ট নাম্বারে ফোন করে তোমরা পিডিএফ গ্রহণ করতে পারবে।
1.জলবিভাজিকা কী?
উত্তর : যে উচ্চভূমি পাশাপাশি অবস্থিত দুই বা ততােধিক নদী অববাহিকা বা নদীগােষ্ঠীকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে।
2. নদী অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর : একটি প্রধান নদী তার উপনদী, শাখানদী,
প্রশাখানদী মিলিয়ে যতটুকু স্থান অধিকার করে আছে, তা হল ওই প্রধান নদীর অববাহিকা। উদাহরণ—গঙ্গা অববাহিকা ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকা।
3. ধারণ অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর : নদীর উৎস অঞলের অববাহিকাতে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা বা শীর্ষনদী একত্রে মিলিত হয়ে নদীরূপে একটি নির্দিষ্ট খাতে নীচের দিকে প্রবাহিত হয়। নদীর উৎস অঞলে এই অববাহিকাকে ধারণ অববাহিকা বলে।
উত্তর : নদীর গতিবেগের সঙ্গে বহন ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক আছে। দেখা গেছে নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা 64 গুণ বা 2 হারে বেড়ে যায়। ইহাই যষ্ঠঘাতের সূত্র নামে পরিচিত। 1842 সালে W. Hopkins এই সূত্রের ব্যাখ্যা
দেন।
5)নদী উপত্যকা কাকে বলে?
উত্তর : উৎস থেকে মােহানা গতিপথের দু'পাশের উচ্চভূমির মাঝে যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ নিম্নভূমির মধ্যদিয়ে নদীর জলধারা প্রবাহিত হয়, তাকে নদী উপত্যকা বলে।
6. নদীর ক্ষয়সীমা বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : নদী ভূ-পৃষ্ঠে যে উচ্চতা পর্যন্ত ক্ষয় করতে সক্ষম, সেই উচ্চতাকে নদীর ক্ষয়সীমা বলে। সাধারণভাবে নদীর ক্ষয়সীমা হল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। আবার মরু অঞ্চলে নদীর ক্ষয়সীমা হল প্লায়া হ্রদ।
7. কিউসেক ও কিউমেক কী?
উত্তর : এটি হল নদীর জলপ্রবাহ পরিমাপেএকক। কিউসেক হল কিউবিক ফুট/সেকেন্ড। আর মেট্রিক পদ্ধতিতে কিউমেক হল কিউবিকমিটার/সেকেন্ড।
8. সমপ্রায় ভূমি কী ?
উত্তর : বৃষ্টিবহুল আর্দ্র অঞ্চলে নদীর জলপ্রবাহ, বৃষ্টির জল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে, প্রাচীন মালভূমি, উচ্চভূমি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে এক সময় উঁচু নীচু ঢেউ খেলানাে বা প্রায় সমতলভূমিতে পরিণত হলে তাকে সময় ভূমি বলে।
9. পাখির পায়ের মতাে ব-দ্বীপ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর : মূল নদী তথা প্রধান নদী বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পাখির পায়ের আঙুলের মতাে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ হয়ে সমুদ্রের দিকে এগােলে নদীর সঞ্চয়কার্যে এরূপ ব-দ্বীপের সৃষ্টি হয়। যেমন—মিসিসিপি-মিসৌরী ব-দ্বীপ।
10) ধারণ অববাহিকা কী ?
উত্তর। পাহাড়, পর্বত বা কোনাে উচ্চভূমি অর্থাৎ নদীর উৎস অঞ্চলের অববাহিকায় বৃষ্টি ও তুষারগলা জলে সৃষ্ট বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা একত্রে মিলিত হয়ে নদীরূপে একটি নির্দিষ্ট খাতে এর মধ্যে দিয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। নদীর উৎস অঞলের এই অববাহিকাকে ধারণ অববাহিকা বলে।
উদাহরণ—উত্তরাখণ্ডের হিমালয় হলাে গঙ্গার ধারণ অববাহিকা।
11) আদর্শ নদী বলতে কী বােঝ ?
অথবা
গঙ্গাকে আদর্শ নদী বলা হয় কেন ?
উত্তর। যে সব নদীর উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন—এই তিনটি গতিই সুস্পষ্ট, তাকে আদর্শ নদী বলে। উদাহরণসহ ব্যাখ্যা গঙ্গাকে আদর্শ নদী বলা হয়।
কারণ
(i) উচ্চগতি-উৎস থেকে হরিদ্বার ;
(ii) মধ্যগতি-হরিদ্বার থেকে বিহারের রাজমহল পাহাড় ;
(iii) নিম্নগতি –রাজমহল পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর—এই তিনটি গতি সুস্পষ্ট।
12। ষষ্ঠঘাতের সূত্র বলতে কী বােঝ ?
উত্তর।
প্রবক্তা : বিজ্ঞানী হপকিন্স এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন।
সূত্রের ব্যাখ্যা : নদীর বহন ক্ষমতা নির্ভর করে নদীর গতিবেগ, ঢাল, জলের পরিমাণ ও পদার্থের পরিমাণের উপর। নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলে নদীর বহন ক্ষমতা 25 বা 64 গুণ বৃদ্ধি পায়, একে ষষ্ঠঘাতের সূত্র বলে। তবে নদীতে জলের পরিমাণ দ্বিগুণ হলে বহনক্ষমতা দ্বিগুণ হয়, 64 গুণ হয় না।
13) জলপ্রপাত কী ? অথবা জলপ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয় ?
উত্তর। পার্বত্য গতিতে নদীর বৈষম্যমূলক ক্ষয়ের ফলে জলতলের প্রভেদ ঘটাকেই জলপ্রপাত বলে।
সৃষ্টির কারণ—
(1) কোমল ও কঠিন শিলা আড়াআড়িভাবে
পাশাপাশি অবস্থান করলে অসম ক্ষয়ের ফলে ; (2) ঝুলন্ত উপত্যকায় উচ্চতার পার্থক্যের কারণে ; (3) মালভূমির খাড়া প্রান্তভাগের উপর দিয়ে নদী বয়ে গেলে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ—যােগ জলপ্রপাত।
14। জলপ্রপাতের পশ্চাদ অপসারণ বলতে কী বােঝ ?
অথবা, জলপ্রপাত ক্রমশ উৎসের দিকে সরে যায় কেন ?
উত্তর। জলপ্রপাত ক্রমশ উৎসের দিকে সরে যায়। কারণ:
(i) পার্বত্য প্রবাহে নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা সমান্তরালে পরস্পর উপর নিচে অবস্থান করলে জলের আঘাতে কোমল শিলা অধিক ক্ষয় পেয়ে খাড়াভাবে নেমে গিয়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
(ii) জলপ্রপাতের নিচের কোমল শিলা অংশে অবঘর্ষ, জলপ্রবাহ ক্ষয় ও বুদবুদজনিত ক্ষয়ের মাধ্যমে কঠিন শিলার নিচের অংশ ক্রমশ ফাঁকা হতে থাকে।
15) নদী বাঁক বা মিয়েন্ডার (River Bend or Meander)
নামকরণ : গ্রিক পৌরাণিক দেবতা মিয়েস (Maindros) এর নাম নামানুসারে যে-কোনাে নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথকেই মিয়েন্ডার বলে।
সংঙ্গা :সমভূমি প্রবাহে বা মধ্যগতিতে ভূমির ঢাল কমে যায় বলে নদী ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। ফলে নদী সামান্য বাধা পেলেই এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়। নদীর এই বাঁককেই নদী বাঁক বলে।
বৈশিষ্ট্য :
১) বাঁকযুক্ত নদী সাপের মতাে এঁকেবেঁকে চলে
বলে একে সর্পিল নদী বাঁক বলা হয়।
২)নদী বাঁকের অবতল পাড়ে ক্ষয় এবং উত্তল পাড়ে সঞ্জয়কাজ চলে।
৩) নদী বাঁকে পুল ও রিফল সৃষ্টি হয়।এ নদীবাঁকের
উত্তল পাড়ে পয়েন্ট বার গড়ে ওঠে।
দৃষ্টান্ত : বারাণসীর কাছে গঙ্গা নদীতে মিয়েন্ডার দেখা যায়।
16) ইয়্যাজু নদী (Yazoo Stream) কাকে বলে? অথবা,
বিলম্বিত নদীসঙ্গম (Deferred Junction)বলতে কী বােঝাে?
নামকরণের কারণ : মিসিসিপির উপনদী ইয়াজুর নাম অনুসারে এই ধরনের নদীকে ইয়্যাজু নদী বলা হয়। (ভারতে পাটনা ও মুঙ্গেরের মধ্যে বহু ইয়্যাজু নদী দেখা যায়)
সংজ্ঞা : যে নদী প্লাবনভূমিতে প্রবেশ করার পর স্বাভাবিক বাঁধ থাকার কারণে মূল নদীর সঙ্গে মিলিত হতে না পেরে মূল নদীর সমান্তরালে অনেক দূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে মূল নদীর সঙ্গে মিলিত হয়, সেই নদীকে ইয়্যাজু নদী বলে।
বিলম্বিত নদী সঙ্গম: প্রধান নদীর সাথে ইয়াজু নদী মিলিত হলে সেই স্থানকে বিলম্বিত নদী সংগম বলে।
দৃষ্টান্ত : মিসিসিপির উপনদী ইয়্যাজু নদী 280 কিমি পথ প্রবাহিত হয়ে মিসিসিপির সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
17)নদী বর্তন (River Regime) কী?
উত্তর
মতামত:
Monkhouse-এর মতে, “নদী বর্তন হল নদীর জলের ঋতুভিত্তিক পরিবৃত্তি।”
Philip Lake-এর মতে, “নদী বর্তন বলতে বােঝায় নদীর পােষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলির সাফল্য ও বহিপ্রবাহে তাদের পরিবৃত্তি।”
সংজ্ঞা: নদীর জলের বেগ, জলপ্রবাহের বেগ, জলের পরিমাণ সারা বছর কখনাে কম, কখনাে বেশি থাকে। নদীর জলধারার পরিবর্তনের এই ছন্দটিই হল নদী বর্তন।
যাদের নোট প্রয়োজন তারা এই নিচের লিঙ্ক থেকে PDF ডাউনলোড করতে পারবেন।
1) নদী পরিবারের নোট pdf download
2) নদীর ক্ষয় কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ Pdf download
3) নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ
4) জলবায়ু পরিবর্তনের সুন্দরবন কিরূপ প্রভাব পড়ে? Pdf download
5) জলপ্রপাতের তালিকা Pdf download
6) কয়েকটি জলপ্রপাত ও সংযুক্ত নদী Pdf download
আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল :
মন্তব্যসমূহ