দশম শ্রেণী ভূগোল | বারিমন্ডল 1 Mark's / 2Mark's – প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Geography Suggestion
বারিমন্ডল এক ঝলকে
1. সমুদ্র জলের উপর নিচ সঞ্চালন হলাে -সমুদ্র তরঙ্গ।
2. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ-নিয়ত বায়ুপ্রবাহ।
3. পেরু চিলি উপকূল বরাবর প্রবাহিত হয়- পেরু বা হামবােল্ড স্রোত
4. জাপান স্রোতের অপর নাম-উষ্ণ কুরোশিয়ো স্রোত।
5. মেক্সিকো উপসাগরে প্রবাহিত স্রোতের নাম- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত।
6. আফ্রিকার উঃ-পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রবাহিত হয়- শীতল ক্যানারি স্রোত।
7. আফ্রিকার দঃ-পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রবাহিত হয়- শীতল বেগুয়েলা স্রোত।
৪. দঃ-আমেরিকার দঃ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত স্রোতটি হলাে- শীতল ফকল্যান্ড স্রোত।
9. মাদাগাস্কার ও মােজাম্বিক স্রোতের মিলিত প্রবাহ হলাে -আগুলহাস স্রোত।
10. ঋতু অনুযায়ী সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়-
ভারত মহাসাগরে
11. বেরিং স্রোত প্রবাহিত হয়- প্রশান্ত মহাসাগরে।
12. লাব্রাডর স্রোত প্রবাহিত হয়- আটলান্টিক মহাসাগরে।
13. পৃথিবীর দ্রুততম সমুদ্রস্রোতটি হলাে-উপসাগরীয় স্রোত।
14. পৃথিবীর বৃহত্তম মগ্নচড়া হলাে-গ্রান্ড ব্যাঙ্ক।
15. গ্রান্ড ব্যাঙ্ক মগ্নচড়ার অবস্থিত– আটলান্টিক মহাসাগরে।
16. জাপানের পশ্চিম উপকূল উষ্ণ হয়-
উষ্ণ কুরােশিয়াে স্রোতের প্রভাবে।
17. স্রোতহীন ও ভাসমান উদ্ভিদযুক্ত সমুদ্র অঞ্চলকে বলা হয়- শৈবাল সাগর।
18, পেরু, ইকুয়েডর উপকূলে প্রবাহিত উষ্ণ সমুদ্রস্রোতকে বলে- এল নিনাে।
19. গ্রান্ডব্যাঙ্ক মগ্নচড়াটি সৃষ্টি হয়েছে- উষ্ণ উপসাগরীয় ও শীতল লাব্রাডর স্রোতের মিলনে।
20. হামবােল্ড স্রোত প্রবাহিত হয়- প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু উপকূল বরাবর।
21. শীতলস্রোতের অপর নাম- থার্মো হ্যালাইন।
22. আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে-শীতল বেঙ্গয়েলা স্রোতের কারণে।
23. সােনেরান মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে-ক্যালিফোর্ণিয়া স্রোতের কারণে।
24. চিলির আটকামা মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে- হামবােল্ড স্রোতের কারণে।
25. সমুদ্রস্রোতে জলের আয়তন পরিমাপের একক- সেভেয়ার ড্রপ বা ভাদ্রুপ।
26. উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোত কোরিওলিস বলের কারণে মহাসাগরের মাঝে যে জলাবর্তের সৃষ্টি করে, তাকে বলে- জায়র বা গায়র।
27. হিমপ্রাচীর দেখা যায়- আটলান্টিক মহাসাগরে।
28. পৃথিবীতে জায়রের সংখ্যা – 5 টি।
29. বৃটিশ দ্বীপপুঞ্জ ও নরওয়ের উপকূল সারাবছর তুষারমুক্ত থাকে- উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে।
30, উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের উৎপত্তি ঘটে
– উ:-পূর্ব এবং দ:-পূর্ব আয়নবায়ুর প্রভাবে।
31. সমুদ্রস্রোত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়- পশ্চিমাবায়ুর প্রভাবে।
32. সবচেয়ে বেশি মগ্নচড়া আছে- আটলান্টিক মহাসাগরে।
33. নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত স্রোতটি হলাে-নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত।
34, চাঁদের প্রত্যক্ষ আকর্ষণের ফলে সৃষ্টি হয়-মুখ্য জোয়ার।
35. মুখ্য জোয়ারের প্রতিপাদ স্থানে সৃষ্টি হয়- গৌণ জোয়ার।
36. জোয়ারের 90° কৌণিক অবস্থানে সৃষ্টি হয়– ভাটা।
37. ‘সিজিগি’ শব্দের অর্থ-যােগবিন্দু।
38. সমুদ্রজলে ভাসমান বরফের স্তৃপকে বলা হয়- হিমশৈল।
39. ভরাকোটাল সৃষ্টি হয়-পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে।
40. মরাকোটাল দেখা যায়- কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমি তিথিতে।
41. পূর্ণিমা তিথির তুলনায় অমাবস্যা তিথিতে-জোয়ার প্রাবল্যতা।
42. হিমপ্রাচীর সৃষ্টি হয় আটলান্টিক মহাসাগরে- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল লাব্রাডর স্রোতের মিলন স্থলে।
43. পূর্ণিমাতে পৃথিবী অবস্থান করে- সূর্য ও চন্দ্রের মাঝখানে।
44. অমাবস্যাতে চন্দ্র অবস্থান করে - পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে।
45. পৃথিবী ও চন্দ্রের গড় দূরত্ব = 3, 78,400 km
46. চাঁদ অপেক্ষা সূর্য-27.7 কোটি গুণ বড়াে।
47. অ্যাপােজি অবস্থানে পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে দূরত্ব হয়- 4.07 লক্ষ কিমি।
48. পেরিজি অবস্থানে পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে দূরত্ব হয়- 3.56 লক্ষ কিমি।
49. পৃথিবীর একবার আবর্তনকালে চাঁদ তার কক্ষপথে এগিয়ে যায়- 13°10' কৌণিক দূরত্ব।
50. মরাকোটালের সময় সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর কৌণিক অবস্থান থাকে- 90°
51. চাঁদের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, তাকে বলে -চন্দ্র জোয়ার।
52. সূর্যের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, তাকে বলে- সৌর জোয়ার।
53. জোয়ার ভাটার প্রত্যেকের স্থায়িত্বকাল - 6 ঘন্টা বেশি হয়।
54.সমুদ্রস্রোত:পৃথিবীর আবর্তনগতি, নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রজলের উয়তা, লবণতা, ঘনত্ব ইত্যাদির তারতম্যের কারণে সমুদ্র উপকূলের প্রায় সমান্তরালে সমুদ্রজলের-অনুভূমিক প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
55. সমুদ্রতরঙ্গ:বায়ুশক্তির সাহায্যে সমুদ্র-জলরাশির একই স্থানে উল্লম্বভাবে ওঠানামাকে সমুদ্রতরঙ্গ বলে ।
56. উষ্ণস্রোত:উষ্ণমণ্ডলের উষ্ণ ও হালকা জল পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে সমুদ্রজলের ওপর দিয়ে শীতল মেরুপ্রদেশের দিকে প্রবাহিত হলে তাকে উষ্ণস্রোত বা পৃষ্ঠস্রোত বা বহিঃস্রোত বলে।
57. শীতলস্রোত:উষ্ণমণ্ডলের সমুদ্রজলের অভাব পূরণের জন্য মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জল সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচ দিয়ে মূলত অন্তঃপ্রবাহরূপে উষ্ণ মণ্ডলের দিকে বয়ে যায়।
58.জায়ার: সকল মহাসাগরের মাঝ বরাবর কোরিয়ালিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত বেঁকে গিয়ে ও মিলিত হয়ে জলাবর্ত সৃষ্টি করে, একে জায়ার বলে।
59.শৈবাল সাগর:উত্তর আটলান্টিকের মাঝ বরাবর বায়ুপ্রবাহ ও কোরিয়ােলিস বলের প্রভাবে বিভিন্ন স্রোত চক্রাকারে। আবর্তিত হয়ে যে জায়ার সৃষ্টি করে তার মাঝের অংশের স্থির ও স্রোতহীন অঞ্চলে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়, একে শৈবাল সাগর বলে। সাগর হলেও এর কোনাে উপকূল রেখা নেই।
60. হিমপ্রাচীর:সুমেরু মহাসাগর থেকে আগত গাঢ় সবুজ বর্ণের শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের পাশ দিয়ে বিপরীত দিকে প্রবাহিত গাঢ় নীল বর্ণের উম্ন উপসাগরীয় স্রোতের মধ্যে বহুদূর বিস্তৃত একটি স্পষ্ট সীমারেখা দেখা যায়, একে হিমপ্রাচীর বলে।
61.হিমশৈল: উপকূলীয় হিমবাহের বিশালায়তন বরফের স্থূপ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাগর বা মহাসাগরে ভাসমান থাকলে, সেই ভাসমান বরফের চাইকে হিমশৈল বলে।
62। শৈবাল সাগর কী ?
সংজ্ঞা : সমুদ্রের মাঝে একপ্রকার স্রোতহীন শান্ত শৈবাল বা আগাছাপূর্ণ অংশকে শৈবাল সাগর বলে।
উদাহরণসহ ব্যাখ্যা :
(i) আটলান্টিক মহাসাগরের উ: নিরক্ষীয়, উপসাগরীয়, উ: আটলান্টিক এবং ক্যানারি স্রোতের মিলনের ফলে ইহার সৃষ্টি হয়েছে।
(ii) আবার প্রশান্ত মহাসাগরের উ:নিরক্ষীয়, জাপান স্রোত, উ: প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্রোতের মাঝে ইহার সৃষ্টি হয়েছে।
বৈশিষ্ট্য :
(i) উন্নতা ও লবণতা অনেক বেশি।
(ii) ইহা ডিম্বাকৃতির।
(iii) এখানে জাহাজ চলাচলের অসুবিধা হয়।
63। হিমপ্রাচীর কী ?
উত্তর:
সংজ্ঞা : উ:আমেরিকার নিউ ফাউন্ডল্যান্ড উপকূল বরাবর বা উ:প: আটলান্টিক মহাসাগরে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের ঘন নীল জল এবং শীতল লাব্রাডর স্রোতের ঘন সবুজ জলের সীমারেখা বহুদূর পর্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যায়। একে হিমপ্রাচীর বলে।
প্রভাব :
(i) এখানে বিশ্ববিখ্যাত গ্রান্ড ব্যাঙ্ক মগ্ৰচড়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা বাণিজ্যিক মৎস্যচাষের অনুকূল।
(ii) এখানে ঘন কুয়াশা ও ঝড় ঝঞার সৃষ্টি হয়, ফলে জাহাজ চলাচলের অসুবিধা হয়।
64। মগ্নচড়া বলতে কী বোঝো ?
উত্তর।
সংজ্ঞা : শীতল সমুদ্রস্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমপ্রাচীর হিমশৈলগুলি উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে এসে গলে যায়। হিমশৈল স্থিত নুড়ি, বালি, পলি, কাদা ইত্যাদি সমুদ্রের বুকে সঞ্চত
হয়ে যে চড়ের সৃষ্টি করে, তাকে মগ্নচড়া বলে।
গুরুত্ব : এখানে সূর্যরশ্মি প্রবেশ করায় প্রচুর প্লাঙ্কটন জন্মায়। ফলে বাণিজ্যিক মৎস্য শিকার ক্ষেত্র গড়ে উঠে।
উদাহরণ : গ্রান্ড ব্যাঙ্ক, ডগার্স ব্যাঙ্ক ইত্যাদি।
65। সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোতের পার্থক্য লেখাে।
উত্তর সংজ্ঞা :
1. সমুদ্রজলের উপর নিচ আলােড়ন কে সমুদ্রতরঙ্গ বলে।
1. সমুদ্রজলের একস্থান থেকে অন্য স্থানের
প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
স্থানান্তর :
2. এক্ষেত্রে জলের স্থানান্তর ঘটে না।
2. এক্ষেত্রে জলের স্থানান্তর ঘটে।
অবস্থান :
৩. ইহা কেবল জলের উপরের অংশে দেখা যায়।
৩. ইহা জলের উপর এবং নিচ উভয় অংশেই দেখা যায়।
66. জাপানের পূর্ব উপকূলে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয় কেন?
উত্তর : সাধারণত যে সব এলাকায় উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন হয়, সেখানে উষ্ণ স্রোতের ওপর
সৃষ্ট প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে জমে যায়। ফলে ওই সব এলাকায় ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়। জাপানের পূর্ব উপকূল দিয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তরে উষ্ণ কুরেশিয়ে বা জাপান স্রোত এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে শীতল ওয়াশিও স্রোত প্রবাহিত হয়। এই দুই বিপরীতধর্মী স্রোতের মিলনের ফলে জাপানের পূর্ব উপকূলে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়।
67. নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে মগ্নচড়া সৃষ্টি হয়েছে কেন?
উত্তর : নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপটি কানাডার পূর্ব উপকূলের অদূরে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। এই দ্বীপটির কাছে আটলান্টিকের অগভীর অংশে সৃষ্টি হয়েছে অনেকগুলি মগ্নচড়া। এদের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য হল গ্রান্ড ব্যাঙ্ক (Grand Bank)।
মগ্নচড়া সৃষ্টির কারন: নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে দুটি বিপরীতধর্মী স্রোত
উত্তরমুখী উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং দক্ষিণমুখী শীতল লাব্রাডর স্রোত। এই দুই স্রোতের মিলনের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে মগ্নচড়া। সুমেরু মহাসাগরের ভাসমান হিমশৈলগুলি শীতল লাব্রাডর স্রোতের সাথে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়। নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের অদূরে এগুলি যখন উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে আসে, তখন গলে যায়। এর ফলে হিমশৈলের মধ্যে থাকা বিভিন্ন নুড়ি, কাকর, বালি প্রভৃতি সমুদ্রবক্ষে জমা হতে থাকে এবং এক সময় উঁচু হয়ে অগভীর মগ্নচড়ার সৃষ্টি করে।
68. গ্রান্ড ব্যাঙ্ক মৎস চাষের জন্য অনুকুল কেন?
অথবা
নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূল মৎস্যক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত কেন?
উত্তর : আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত মগ্নচড়াগুলির মধ্যে গ্রান্ড ব্যাঙ্ক বিশেষ উল্লেখযােগ্য। এটি নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের মিলনস্থলে অবস্থিত নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকুল।
গ্রান্ড ব্যাঙ্কে মৎস কেন্দ্র গড়ে ওঠার কারণ:
(i) গ্রান্ড ব্যাঙ্ক মগ্নচড়াটির আয়তন প্রায় 96,000 বর্গ কিমি এবং সমুদ্রজলের গভীরতা খুবই কম, প্রায় 90 মিটার।
(ii) এখানকার নাতিশীতােষ্ণ জলবায়ু মাছের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যেমন অনুকূল, তেমন মাছ সংরক্ষণের পক্ষেও বিশেষ সহায়ক।
(iii) এই মগ্নচড়া এলাকায় উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনের ফলে মাছের প্রধান খাদ্য প্ল্যাঙ্কটন প্রচুর জন্মায়। এজন্য গ্রান্ড ব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে নিউফাউন্ডল্যান্ডের উপকূলে কড, ম্যাকারেল, হেরিং, হ্যালিবুট প্রভৃতি নানা প্রকার সামুদ্রিক মাছ ভিড় করে।
(iv) নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপ এলাকা কৃষিকার্যের পক্ষে অনুকূল না হওয়ায় অধিবাসীরা মৎস্য চাষকে বিকল্প পেশা হিসাবে গ্রহণ করেছে। এই সব অনুকূল অবস্থা একত্রিত হওয়ার ফলে গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক মৎস্যচাষে উন্নতি লাভ করেছে।
69. জাপানের উপকূলের কাছে মৎসক্ষেত্র দেখা যায় কেন?
উত্তর : কয়েকটি অনুকূল ভৌগােলিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে জাপানের মৎসক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। যথা—
(i) অগভীর সমুদ্র জাপানের উপকূলের সমুদ্র অগভীর এবং মহীসােপান বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এই অগভীর সমুদ্রে মাছের প্রধান খাদ্য প্ল্যাঙ্কটন প্রচুর পরিমাণে জন্মায়।
(ii) নাতিশীতােষ্ণ জলবায়ু। জাপানে শীতল নাতিশীতােষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে যা মৎস্যশিকার ও মৎস্য ।
70.উপসাগরীয় স্রোত (Gulf Current) কাকে বলে?
উত্তর : উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মেক্সিকো উপসাগর থেকে উৎপন্ন একটি উষ্ণস্রোত হল উপসাগরীয় স্রোত। এই স্রোতের কয়েকটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য হল—
(i) এই স্রোতের জলের রং নীল।
(ii) এই স্রোত উয় (27-02°C)।
(iii) এই স্রোতের বিস্তার 64 কিমি এবং গভীরতা 914 মিটার। (iv) এই স্রোতের গড় গতিবেগ হল 10-15 মাইল/দিন।
(iv) এই স্রোত প্রতিসেকেন্ডে 74-93 মিলিয়ন ঘনমিটার জল বহন করে।
71. জাপান বা কুরােশীয় স্রোত কাকে বলে?
উত্তর : উত্তর প্রশান্তমহাসাগরের এই স্রোতটি উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত প্রথমে পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে এবং পরে ফিলিপাইল্স দ্বীপপুঞ্জে প্রতিহত হয়ে উত্তরে বেঁকে যায় এবং দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের উত্তরগামী শাখার সঙ্গে মিশে কুরােশীয় স্রোত নামে এবং জাপানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হবার সময় জাপান স্রোত নামে পরিচিত।
72. বেগুয়েলা স্রোত কাকে বলে?
উত্তর : দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই শীতল স্রোতটি কুমেরু স্রোতের একটি শাখা আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে উত্তমাশা অন্তরীপে প্রতিহত হয়ে পশ্চিম উপকূল বরাবর অ্যাগুয়েলার বেঙ্গয়েলা বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্রোতের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় 10 কিমি।
73. ব্রাজিল স্রোত কাকে বলে?
উত্তর : বেগুয়েলা স্রোত ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের মিলিত প্রবাহ দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলে সেন্ট রক অন্তরীপে প্রতিহত হয়ে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়। এর দক্ষিণের শাখাটি ব্রাজিলের পূর্ব উপকূল বরাবর দক্ষিণে 40° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্রোত ব্রাজিলস্রোত নামে পরিচিত। অধিক উয়তা ও লবণাক্ততা এই স্রোতের প্রধান বৈশিষ্ট্য। গতিবেগ 28 km/hour।
মন্তব্যসমূহ