দশম শ্রেণি - মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ার। Madhyamik suggestion.
2 Marks Questions Answers
উঃ-নামকরণ: "ভরা" শব্দটি অর্থ "জলপূর্ন" "কডাল" শব্দটি তামিল শব্দ অর্থ- "সমুদ্র"।
সংজ্ঞা: পৃথিবী চন্দ্র ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করলে যে প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হয় তাকে ভরা কোটল বলে।
শ্রেণি বিভাগ: ভরা কোটাল দুই প্রকার-
১) পূর্ণিমার ভরা কোটাল।
২) অমাবস্যার ভরা কোটাল।
১) পূর্ণিমার ভরা কোটাল: পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী থেকে চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে , একদিকে চাঁদের আকর্ষণ অপরদিকে সূর্যের আকর্ষণে প্রবল জোয়ার হয়।
সিজিগি অবস্থান: চাঁদ 🌙 পৃথিবী 🌍 সূর্য ☀️
২) অমাবস্যার ভরা কোটাল: অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ থাকে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে।
সিজিগি অবস্থান: পৃথিবী 🌍 চাঁদ 🌙 সূর্য ☀️
বৈশিষ্ট্য:
১) পূর্ণিমার ভরা কোটাল অপেক্ষায় অমাবস্যার ভরা কোটাল অনেক তেজি হয়।
২) সাধারণ জোয়ারের অপেক্ষায় ২০ % জল বেশি ফুলে ওঠে।
২) মরা কোটাল বলতে কী বোঝো?
উঃ কৃষ্ণ ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পৃথিবীর অবস্থান করে চাঁদ ও সূর্যের সাথে সমকোণে (৯০°)
ফলে পৃথিবীর ওপর সূর্যের এবং চাঁদের সক্রিয় আকর্ষণ বল কাজ করে না , একে মরা কোটাল বলে।
বৈশিষ্ট্য:
১) পৃথিবীর সাপেক্ষে চন্দ্র ও সূর্য সমকোণে অবস্থান করে।
২) এই জোয়ারের জল সাধারণ জোয়ারের অপেক্ষায় ২০ শতাংশ কম ফুলে উঠে।
৩)সিজিগি (SyzyBy) বলতে কী বোঝো ?
নামকরণ: গ্রিক শব্দ ‘Suzugos’-এর অর্থ ‘একসঙ্গে’ বা ‘সহযোগে’ থাকা।
সংজ্ঞা: জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুসারে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় থাকে তখন তাকে সিজিগি বলে।
অবস্থা:
(i) অমাবস্যা তিথিতে: যখন চাঁদ একই
সরলরেখায় পৃথিবীর ও সূর্যের মাঝখানে থাকে তখন তাকে বলে সংযোগ (Conjunction) ।
(ii) পূর্ণিমা তিথিতে: একই সরলরেখায় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকে তখন তাকে বলে প্রতিযোগ (Opposition)।
৪) অ্যাপোজি (Apogee) ও পেরিজি (Perigee)
বলতে কী বোঝো ?
পৃথিবীর মতো চাদের ও কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব সর্বদা সমান হয় না।
অ্যাপোজি অবস্থান : পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সর্বাধিক হয় (4.07 লক্ষ কিমি) সেই অবস্থাকে অ্যাপোজি অবস্থান বলে। দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে চাঁদের আকর্ষণ বল যেহেতু কমে তাই জোয়ার এই সময় বেশ কম হয়। একেই অ্যাপোজি জোয়ার বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য: সাধারণের থেকে অ্যাপোজি জোয়ারে 20% জোয়ার কম হয়।
পেরিজি অবস্থান : পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম (3.56 লক্ষ কিমি) হয় সেই অবস্থাকে পেরিজি অবস্থান বলা হয়।
দূরত্ব কমে হওয়ার কারণে চাঁদের আকর্ষণ বল
যেহেতু বাড়ে তাই জোয়ার এসময় সাধারণ অবস্থার থেকে 20% প্রবল হয়। একে পেরিজি জোয়ার বলা হয়।
মন্তব্যসমূহ