মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে জেট
বায়ুর সম্পর্ক
(Relation between Monsoon and Jet Stream)
মৌসুমি জলবায়ুর ওপর জেট বায়ুর অপরিসীম প্রভাব রয়েছে। মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের ঋতুপরিবর্তন, শীতকাল এবং গ্রীষ্মকালের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা, বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত প্রভৃতি বিষয় জেট বায়ুর গতিপ্রকৃতি ও অবস্থানের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। এপ্রিল-মে মাসে দুই ধরনের জেট বায়ু দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তি ঘটায়, এর মধ্যে ক্রান্তীয় পূবালি জেট বায়ু বর্ষাকালে এবং উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু শীতকালে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে,
যেমন :
(ক) ক্রান্তীয় পূবালি জেট বায়ু:
জুন মাসে পূর্বদিক থেকে এই প্রবাহটি চিনের দক্ষিণ উপকূল থেকে শুরু করে ৯–১২ কিমি উচ্চতায় পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে, ১২° থেকে ১৫° উত্তর অক্ষাংশ বরাবর থাইল্যান্ড ও ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আফ্রিকা মহাদেশের সাহারা মরুভূমিতে গিয়ে শেষ হয়। পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে এই বায়ুর গতিবেগ ক্রমশ কমতে থাকে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ওপর ক্রান্তীয় জেট বায়ুর প্রভাব :
(১) ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ক্রান্তীয় পূবালি জেট বায়ুর অবস্থানের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। এই জেট বায়ুপ্রবাহটি স্বাভাবিকের তুলনায় উত্তর দিকে বেশি সরে গেলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুপ্রবাহে ছেদ ঘটে।
(২) বর্ষাকালে দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ওপর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি ও তীব্রতার হ্রাসবৃদ্ধি এই বায়ুর (ক্রান্তীয় পূবালি জেট) গতিপ্রকৃতির ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে।(
খ) উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু :
উত্তর ভারতে ২০° থেকে ২৪° অক্ষাংশ বরাবর ৯–১২ কিলোমিটার উচ্চতায় পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত এই জেট বায়ুটি অক্টোবর-নভেম্বর মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের পর ভারতের ওপর সক্রিয় হয় এবং তারপর থেকে মে মাস পর্যন্ত এদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং উত্তরে সরে গিয়ে মে মাসে ভারত ছেড়ে চলে যায়। শীতকালে এই বায়ুপ্রবাহটি যতই দক্ষিণে সরে আসে ভারতে শীতের তীব্রতা ততই বাড়তে থাকে।
.jpeg)
মন্তব্যসমূহ