🪵মুম্বাই বা বোম্বই বা বম্বে
মুম্বাই ভারতের বৃহত্তম নগর, সর্বশ্রষ্ঠ সামুদ্রিক বন্দর , সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ভারতের সর্ব প্রধান শিল্পাঞ্চল এবং বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর।
মুম্বাই শহরকে ভারতের প্রবেশদ্বার বলা হয়। ভারতের মূলধনের রাজধানী এবং ভারতের হলিউড নামে মুম্বাই শহর পরিচিত।
🪵মুম্বাই শহর নামকরনের কারন:
1996 সাল থেকে বোম্বাই মহানগরী পাল্টে মুম্বাই শহর গড়ে ওঠে, এই অঞ্চলের মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের উপাস্য দেবী "মুম্বা"থেকে মুম্বাই নামকরণ হয়ে থাকে।
🪵অবস্থান ও আয়তন:
ভারতের পশ্চিম উপকূলে আরব সাগরের তীরে মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই, লাভা গঠিত ছোট ছোট সাতটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং সেতু দিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এর মোট আয়তন 481 বর্গ কিলোমিটার।
🪵যাতাযাত ও পরিবহন
পশ্চিম রেলওয়ের ও তার সাথে যুক্ত অন্যান্য রেলপথের মাধ্যমে এবং সড়কপথে মুম্বাই নগর ভারতের অন্যান্য শহর এবং শিল্প কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত।
মধ্য ও পশ্চিম রেলের সদর দপ্তর মুম্বাই তে অবস্থিত এবং ভারতে নির্মিত প্রথম রেলপথ এই শহরে 1853 সালে নির্মিত হয়।
মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজ বিমান বন্দরটি পৃথিবীর একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ভারতের বৃহত্তম বিমানবন্দর। বর্তমান সান্তাক্রুজ বিমান বন্দর টির নাম রাখা হয়েছে জহরলাল নেহেরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
🪵জনসংখ্যা:
2001 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মুম্বাইয়ের জনসংখ্যা 1 কোটি 19 লক্ষ 15 হাজার জন যা ভারতের মহানগর গুলির মধ্যে সবথেকে বেশি। বর্তমান জনসংখ্যার বিচারে বৃহত্তম মুম্বাই পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা জনবহুল শহর গুলির মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে।
🪵বাণিজ্য কেন্দ্র :
মুম্বাই ভারতের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ভারতের অধিকাংশ ব্যাংক , সওদাগরী অফিসের প্রধান কার্যালয় এখানে অবস্থিত তাই মুম্বাইকে ভারতের মূলধনের রাজধানী বলা হয়।
🪵বন্দর:
মুম্বাই বন্দর ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ সামুদ্রিক বন্দর মুম্বাইয়ের বন্দর এলাকায় উৎকৃষ্ট স্বাভাবিক পোতাশ্রয় থাকায় জাহাজগুলো নোঙ্গর করে সহজে মাল খালাস করতে পারে এবং এলাকায় মেরামতি সেরে নিতে পারে।
ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা প্রভৃতি মহাদেশ থেকে আগত বিদেশী জাহাজ গুলো মুম্বাই বন্দরের মাধ্যমে প্রথম ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে তাই ভারতের প্রবেশদ্বার মুম্বাই কে বলে।
🪵শিল্পাঞ্চল:
ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে মুম্বাই শিল্পাঞ্চল বর্তমান ভারতের বৃহত্তম ও শ্রেষ্ঠ শিল্পাঞ্চল রূপে পরিগণিত হয়েছে। কাছাকাছি অবস্থিত ট্রম্বে , কয়না , কপালি , মিরপুরী, তারাপুর প্রভৃতি বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলি এই শিল্পাঞ্চলের প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। মুম্বাইয়ে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বস্ত্র বয়ন শিল্প গড়ে উঠেছে। তাই মুম্বাই কে cotton police of India বলে।
এছাড়া সিলিকন, কৃত্রিম তন্তু, কৃত্রিম সার শিল্প, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম , পেট্রোকেমিক্যাল , ঔষধ জাতীয় দ্রব্য , ফটোগ্রাফ প্রভৃতি কারখানা গড়ে উঠেছে।
🪵চলচ্চিত্র শিল্প কেন্দ্র:
মুম্বাই ভারত তথা সারা পৃথিবীর এক অন্যতম উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শিল্প কেন্দ্র। ভারতের অধিকাংশ হিন্দি চলচ্চিত্র মুম্বাইতে নির্মিত হয়। নিকটবর্তী বান্দ্রা , জুহু প্রভৃতি প্রধান চলচ্চিত্র নির্মিত কেন্দ্র।
🪵শিল্প সংস্কৃতি ও দার্শনিক স্থান:
মুম্বাইতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাইকোর্ট আছে। মুম্বাই শহরে প্রচুর দার্শনিক স্থান আছে যেমন মেরিন ড্রাইভ , এলিফ্যান্ট দ্বীপ, তারাপুর এ্যাকুরিয়াম , যুহু বিচ , হ্যাঙ্গিং গার্ডেন প্রভৃতি দেখতে সারা বছর প্রচুর পর্যটক মুম্বাইতে আসেন।
মন্তব্যসমূহ