বহির্জাত প্রক্রিয়া
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]
1. ‘পর্যায়ন’ কাকে বলে?
উত্তর : অসমতল ও বন্ধুর ভূমির ক্ষয়সীমার সাপেক্ষে ক্ষয়, বহন ও সঞ্জয়ের মাধ্যমে সমতলে পরিণত হলে তাকে পর্যায়ন’ বলে। দুটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া-অবরােহণ ও আরােহণের সম্মিলিত ফল হল পর্যায়ন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহির্জাত প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।
2. ‘অবরােহণ’ (Degradation Process) প্রক্রিয়া বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : যে সমস্ত বহিজাত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা পর্যায়ক্রমিকভাবে হ্রাস পায়, তাকে অবরােহণ প্রক্রিয়া বলা হয়। শিলাবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় এবং ক্ষয়ী ভবনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
3. ‘আরােহণ’ (Aggradation Process) প্রক্রিয়া বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : যে সমস্ত বহিজাত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাকে আরােহণ প্রক্রিয়া বলা হয়। এর অপর নাম সঞ্জয়। নদী, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ, ভৌমজল ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তি ক্ষয়জাত পদার্থ নীচু স্থানে সঞ্চিত করে ক্রমশ উঁচু হয়ে ওঠে।
4. পর্যায়িত নদী (Graded Stream) কাকে বলে?
উত্তর : যদি কোনাে নদী তার ক্ষমতা অনুযায়ী যতটুকু বস্তুভার বহন করা সম্ভব ততটুকু বস্তুভার l বহন করে তাকে তখন পর্যায়িত নদী বলা হয়। ডেভিসের মতে পর্যায়িত নদী হল এমন একটি নদী যার, ক্ষয়সাধন, পরিবহন এবং অবক্ষেপন কার্যের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে।
5. ‘নগ্নীভবন’ (Denudation) কাকে বলে?
উত্তর : বহির্জাত অবরােহণ প্রক্রিয়ায় আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় ও ক্ষয়ীভবন—এই তিনটি পদ্ধতির যৌথ ক্রিয়াশীলতায় ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের শিলাস্তর বিচ্ছিন্ন হয়ে অবসারিত হয়ে এবং নীচের শিলাস্তর ভূ-পৃষ্ঠে উন্মুক্ত হলে, এই অবরােহণ প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলা হয়।
ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর :
[প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
1. অবরােহণ প্রক্রিয়া এবং আরােহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করাে।
উত্তর : অবরােহণ প্রক্রিয়া ও আরােহণ প্রক্রিয়ার পার্থক্যগুলি—
উত্তর : বহির্জাত প্রক্রিয়া ও অন্তর্জাত প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্যগুলি:
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]
1. জলবিভাজিকা কী?
উত্তর : যে উচ্চভূমি পাশাপাশি অবস্থিত দুই বা ততােধিক নদী অববাহিকা বা নদীগােষ্ঠীকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে।
উদাহরণ- হিমালয়, বিন্ধ্য, সাতপুরা, পশ্চিমঘাট পর্বত প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকা।
2. নদী অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর : একটি প্রধান নদী তার উপনদী, শাখানদী, প্রশাখানদী মিলিয়ে যতটুকু স্থান অধিকার করে আছে, তা হল ওই প্রধান নদীর অববাহিকা। উদাহরণ-গঙ্গা অববাহিকা ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকা।
3. ধারণ অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর : নদীর উৎস অঞ্চলের অববাহিকাতে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা বা শীর্ষনদী একত্রে মিলিত হয়ে নদীরূপে একটি নির্দিষ্ট খাতে নীচের দিকে প্রবাহিত হয়। নদীর উৎস অঞ্চলে এই অববাহিকাকে ধারণ অববাহিকা বলে।
4. ‘যষ্ঠ-ঘাতের সূত্রটি কী ?
উত্তর : নদীর গতিবেগের সঙ্গে বহন ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক আছে। দেখা গেছে নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা 64 গুণ বা 2° হারে বেড়ে যায়। ইহাই যষ্ঠঘাতের সূত্র নামে পরিচিত। 1842 সালে W. Hopkins এই সূত্রের ব্যাখ্যা দেন।
5. নদী উপত্যকা কাকে বলে?
উত্তর : উৎস থেকে মােহানা গতিপথের দু'পাশের উচ্চভূমির মাঝে যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ নিম্নভূমির মধ্যদিয়ে নদীর জলধারা প্রবাহিত হয়, তাকে নদী উপত্যকা বলে।
6. নদীর ক্ষয়সীমা বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : নদী ভূ-পৃষ্ঠে যে উচ্চতা পর্যন্ত ক্ষয় করতে সক্ষম, সেই উচ্চতাকে নদীর ক্ষয়সীমা বলে।
সাধারণভাবে নদীর ক্ষয়সীমা হল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। আবার মরু অঞ্চলে নদীর ক্ষয়সীমা হল প্লায়া হ্রদ।
7. কিউসেক ও কিউমেক কী ?
উত্তর : এটি হল নদীর জলপ্রবাহ পরিমাপের একক। কিউসেক হল কিউবিক ফুট/সেকেন্ড। আর মেট্রিক পদ্ধতিতে কিউমেক হল কিউবিকমিটার/সেকেন্ড।
৪. সমপ্রায় ভূমি কী ?
উত্তর : বৃষ্টিবহুল আর্দ্র অঞ্চলে নদীর জলপ্রবাহ, বৃষ্টির জল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে, প্রাচীন মালভূমি, উচ্চভূমি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে এক সময় উঁচু নীচু ঢেউ খেলানাে বা প্রায় সমতলভূমিতে পরিণত হলে তাকে সময় ভূমি বলে।
9. পাখির পায়ের মতাে ব-দ্বীপ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর : মূল নদী তথা প্রধান নদী বহু শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পাখির পায়ের আঙুলের মতাে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ হয়ে সমুদ্রের দিকে এগােলে নদীর সঞ্জয়কার্যে এরূপ ব-দ্বীপের সৃষ্টি হয়।
যেমন—মিসিসিপি-মিসৌরী ব-দ্বীপ।
মন্তব্যসমূহ