দশম শ্রেণী ভূগোল | বায়ুমন্ডল – প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Geography Suggestion
✳️ প্রশ্ন : বায়ুমণ্ডল কী কী প্রক্রিয়ায় উষ্ণ হয় তা আলােচনা করাে।
অথবা, বায়ু উষ্ণ হয় কী কী পদ্ধতিতে?
উত্তর : বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতি বায়ুমণ্ডল সূর্যকিরণ দ্বারা প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয় যথা-
i) বিকিরণ পদ্ধতি (Radiation Process): কোনাে মাধ্যম ছাড়াই যখন তাপ এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুত সঞ্চালিত হয়, তাকে বিকিরণ পদ্ধতি বলে।
সূর্যরশ্মি ক্ষুদ্র তাপ-তরঙ্গরূপে বিকিরিত হয়ে মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে বায়ুস্তর ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয় এবং ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। একে বিকিরণ পদ্ধতি বলে। উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে পুনরায় বৃহৎ তরঙ্গরূপে তাপ বিকিরিত হয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
(ii) পরিবহন পদ্ধতি (Conduction Process): পাশাপাশি অণুর সংস্পর্শের মাধ্যমে উষ্ণতার অপসারণ প্রক্রিয়াকে পরিবহন পদ্ধতি বলে। সূর্যতাপে কঠিন ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে ভূপৃষ্ঠের সংলগ্ন বায়ুস্তরকে উত্তপ্ত করে তােলে। উত্তপ্ত বায়ু থেকে উত্তাপ অপেক্ষাকৃত শীতল বায়ুতে সঞ্চারিত হয়। যতক্ষণ না উভয় বায়ুর তাপমাত্রা সমান হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। একে “পরিবহন পদ্ধতি বলে।
(ii) পরিচলন পদ্ধতি (Convection Process): ভূপৃষ্ঠের সংলগ্ন বাতাস অধিক উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। উর্ধ্বমুখী এই বাতাস তাপ বিকিরণ করে শীতল হলে নিম্নগামী হয় এবং ভূপৃষ্ঠের সংলগ্ন হলে তা পুনরায় উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। এই ভাবে বাতাস ওপর-নীচ চক্রাকারে আবর্তিত হয়। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর উত্তপ্ত হয়। এইভাবে বাতাসের উল্লম্ব সঞ্চালন ও তার প্রভাবে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পরিচলন পদ্ধতি বলে।
এছাড়া সূর্যরশ্মি বায়ুস্তর ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে পতিত হওয়ার পূর্বে বায়ুমণ্ডলের অজস্র ধূলিকণা, জলকণা প্রভৃতি সূর্যকিরণ থেকে অল্প পরিমাণে তাপ শােষণ করে বায়ুমণ্ডলকে সরাসরি কিছুটা উত্তপ্ত করে। এই পদ্ধতিকে শােষণ পদ্ধতি (Absorption) বলা হয়।
✳️ প্রশ্ন : পৃথিবীকে তাপমণ্ডলে বিভক্ত করাে। বিভাগগুলি সম্পর্কে আলােচনা করাে।
উত্তর :অক্ষাংশের ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীকে তিনটি তাপমণ্ডলে ভাগ করা যায়। যথা-
(A) উষ্ণমণ্ডল (Torrid zone):
অবস্থান: নিরক্ষরেখার উভয় পাশে উত্তরে কর্কটক্রান্তি রেখা (23°30'N)থেকে দক্ষিণে মকরক্রান্তি রেখা (23°30'S) পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল উষ্মমণ্ডল নামে পরিচিত।
বৈশিষ্ট্য: (i) এখানে বছরের বেশিরভাগ সময় সূর্যরশ্মি প্রায় লম্বভাবে পতিত হয়।
(ii) মাঝের অঞ্চলটিতে সূর্যরশ্মি বছরে দু’বার লম্বভাবে পড়ে।
(iii) সারা বছর ধরে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে।
(iv) সারা বছর উষ্ণতা বেশি থাকে।
(iv) এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় উষ্মতা প্রায় 27°C।
(B) নাতিশীতােষ্ণ মণ্ডল (Temperat Zone)
অবস্থান: উত্তর গােলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখা (23°30'N) থেকে উত্তর মেরুবৃত্ত (66°30' N)এ বং দক্ষিণ গােলার্ধে মকরক্রান্তিরেখা (23°30's) থেকে দক্ষিণ মেরুবৃত্ত (66°30's) পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল নাতিশীতােষ্ণ মণ্ডল নামে পরিচিত।
বৈশিষ্ট্য: (i) এখানে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে।
(ii) দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সারা বছর ধরে গড়ে মাঝামাঝি থাকে এখানে নাতিশীতােষ্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
(iii) এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় উষ্ণতা 0°- 27°C।
(C) হিমমণ্ডল (Frigid Zone):
অবস্থান: উভয় গােলার্ধে সুমেরু বৃত্ত (66°30'N) ও কুমেরু বৃত্ত (66°30'S) থেকে মেরু (90°N/S) পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে হিমমণ্ডল বলে।
বৈশিষ্ট্য: (i) এই অঞ্চলে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তীর্যকভাবে পড়ে।
(ii) বছরের কিছু সময়ের জন্য সূর্যকিরণ একেবারেই পাওয়া যায় না।
(iii) এখানকার বেশিরভাগ এলাকা বরফে ঢাকা থাকে। তাই এই অঞ্চলকে হিমমণ্ডল বলে।
(iv) এই অঞ্চলে উষ্ণতা খুবই কম থাকে।
(v) এই এলাকার গড় বার্ষিক উষ্ণতা থাকে 0°C-এর কম।
(vi) উত্তর গােলার্ধের হিমমণ্ডলকে উত্তর হিমমণ্ডল এবং দক্ষিণ গােলার্ধের হিমমণ্ডলকে দক্ষিণ হিমমণ্ডল বলে।
✳️ প্রশ্ন : বায়ুমণ্ডলের চাপের তারতম্যের কারণগুলি আলােচনা করাে।
উত্তর : বায়ুচাপের তারতম্যের কারণ (Factors Influencing Air Pressure) নানা কারণে ভূপৃষ্ঠে বায়ুচাপের তারতম্য ঘটে। এদের একত্রে বায়ুচাপের নিয়ন্ত্রক বলে। এগুলি হল—
(i) বায়ুর উষ্ণতা (Air Temperature)] বায়ুর চাপ উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে। বায়ু উষ্ম হলে তা হালকা ও প্রসারিত হয়। এর ফলে বায়ুর চাপ কমে। এই জন্য উষ্ণ বায়ুর চাপ কম। অপরদিকে বায়ু শীতল হলে সঙ্কুচিত হয় এবং ঘনত্ব বেশি হয়। এর ফলে বায়ুর চাপ বাড়ে। এই কারণে শীতল বায়ুর চাপ বেশি। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে উষ্ণতার পার্থক্য ঘটে বলে বায়ুচাপের তারতম্য ঘটে।
(ii) ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা (Altitude) যে স্থান সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে যত উঁচুতে অবস্থিত, সেখানে বায়ুর চাপ তত কম। কারণ ক্রমশ ওপরের দিকে বায়ুর স্তর কম ঘন হতে থাকে। পাতলা বায়ুর ওজন কম বলে ওপরের বায়ুর চাপ কম এবং নীচের বায়ুস্তর ঘন বলে তার চাপ বেশি হয়। সমুদ্রতল থেকে প্রতি 300 মিটার উচ্চতায় বায়ুর চাপ প্রায় ্ 34 মিলিবার হ্রাস পায়।
(iii) বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ (Amount of Humidity): জলীয় বাষ্প বিশুদ্ধ বায়ু অপেক্ষা হালকা। সেইজন্য জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু শুষ্ক বায়ু অপেক্ষা হালকা। তাই এর চাপ কম। অপরদিকে শুষ্ক বায়ু ভারী বলে এর চাপও বেশি। বর্ষাকালে বায়ুতে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে বলে বায়ুর চাপ গ্রীষ্মকালের তুলনায় কম থাকে।
(iv) বায়ুমণ্ডলের গভীরতা (Depth of the atmosphere): বায়ুমণ্ডলের উপরিসীমা 10,000 কিমি ধরা হলেও বায়ুমণ্ডলের শতকরা 99 ভাগ ভর 32 কিমি উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত। এছাড়া বায়ুমণ্ডলের মধ্যে বহু স্তর আছে। নীচের বায়ুস্তর ওপরের বায়ুস্তরের ভার বহন করে বলে নীচের বায়ুস্তরের চাপ ও ঘনত্ব বেশি। হয়। ক্রমাগত ওপরের বায়ুস্তরে চাপ কমতে থাকে।
(v) পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of the earth): পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্যও বায়ুচাপের তারতম্য ঘটে। আবর্তন গতির প্রভাবে উভয় মেরু অঞ্চলের বাতাস ক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে ছিটকে যায়। এর ফলে দুই মেরু বৃত্তের কাছে বায়ুর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। আবার নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও হালকা বাতাস আবর্তন গতির প্রভাবে উভয় ক্রান্তীয় অঞলের দিকে বিক্ষিপ্ত হয়। এর ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর নিম্নচাপ এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে বায়ুর উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ