🔰বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের শতকরা পরিমাণ গ্যাস পরিমাণ🔰
1. নাইট্রোজেন ➡️ 78.08%
2. অক্সিজেন ➡️ 20.94%
3. আর্গন➡️ 0.93%
4. কার্বন ডাই-অক্সাইড➡️ 0.033%
5. নিষ্ক্রিয় গ্যাস➡️ 0.003%
🟥বিভিন্ন বায়ুমণ্ডলীয় স্তরের অপর নাম ও তার কারণ উপনাম স্তর নামকরণ-এর কারণ🟥
1. হােমােস্ফিয়ার বা সমমণ্ডল:
🟦কারণ—এখানে বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য একই থাকে।
2. হেটেরােস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল:
🟦কারণ—এখানে এক এক স্তরে এক এক ধর্ম ও বৈশিষ্ট্যযুক্ত গ্যাস বর্তমান থাকে।
3. ট্রপােস্ফিয়ার বা ক্ষুদ্ধমণ্ডল:
🟦কারণ—যাবতীয় আবহমণ্ডলীয় গােলযােগ,
যেমন—মেঘ, ঝড়, বজ্রপাত, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি এই স্তরেই ঘটে।
4. স্ট্রাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল
🟦কারণ—এখানে বায়ু পাতলা, শীতল, শুষ্ক, ধুলিকণা ও জলীয়বাষ্পহীন বলে, আবহাওয়ার কোনাে পরিবর্তন ঘটে না, শান্তই থাকে।
5. আয়নােস্ফিয়ার বা থার্মোস্ফিয়ার:
🟦কারণ—এই স্তরে, O, ও N, সূর্যের অতিবেগুনি ও অতি রঞ্জক রশ্মির প্রভাবে ভেঙে যায়, ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়।
6. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার :
🟦পৃথিবীর চৌম্বক কারণ—এই স্তরে ইলেকট্রন ও প্রােটন দ্বারা গঠিত একটি ক্ষেত্র বা চুম্বকীয় মণ্ডল, স্থায়ী তড়িৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে।
🟥বায়ুমণ্ডলের স্তর সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রশ্ন🟥
🔰তথ্য🔰
1. বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর- ট্রপােস্ফিয়ার
2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে ট্রপােস্ফিয়ারের বিস্তৃতি-16-18 km.
3. মেরু অঞ্চলে ট্রপােস্ফিয়ারের বিস্তৃতি- 7-8 km
4. প্রতি 1 কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে উন্নতা কমে- 6.4°C
5. বায়ুমণ্ডলের 75% উপাদান অবস্থান করে ট্রপােস্ফিয়ারে।
6. নিরক্ষীয় অঞ্চলে ট্রলােপজের তাপমাত্রা- 80°C
7. মেরু অঞ্চলে ট্রপােপজের তাপমাত্রা–45°C।
৪. ট্রপােপজ কথার অর্থ- "Where the mixing stop"
9. ‘ট্রপােপজ’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন-নেপিয়ার শাউ
10. ট্রপােস্ফিয়ার’ স্তরের প্রথম নামকরণ করেন-
টি. ডি. বাের্ট
11. ওজোন গ্যাসের স্তর অবস্থান করে।
স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের 15-35 কিমি উচ্চতায়।
12. নিরক্ষীয় অঞ্চলের তুলনায় মেরু অঞ্চলের বিস্তার বেশি : স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের।
13. জেট বিমানগুলি চলাচল করে-স্ট্রাটোস্ফিয়ার।
14. "Mother of Pearl Cloud"- মৌক্তিক মেঘ বা শুক্তিমেঘ দেখা যায়- নিম্ন স্ট্রাটোস্ফিয়ারে।
15. "Mother of Pearl Cloud" বলা হয়- সিরাস মেঘকে।
16. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর হলাে- মেসােস্ফিয়ার।
17. নকটিলুসেন্ট বা নৈশদ্যুতি মেঘ দেখা যায়-মেসােস্ফিয়ার।
18. পৃথিবীকে উল্কা পিন্ডের হাত থেকে রক্ষা করে-মেসােস্ফিয়ার।
19. মেসােপজের তাপমাত্রা থাকে- -100°C।
20. আয়নােস্ফিয়ারের প্রধান দুটি গ্যাসীয় উপাদান হলাে-আণবিক নাইট্রোজেন এবং পারমাণবিক অক্সিজেন।
21. মেরুজ্যোতির সৃষ্টি হয় - আয়নােস্ফিয়ারে।
22. বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় - আয়নােস্ফিয়ার স্তরে।
23. এক্সোস্ফিয়ারের প্রধান ২ টি গ্যাসীয় উপাদান হলাে-হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন।
24. পৃথিবীর একেবারে বাইরের স্তর হলাে-ম্যাগনেটোস্ফিয়ার।
25. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার-এর আবিষ্কার করেন-ভ্যান অ্যালেন।
26. প্রােটন ও ইলেকট্রন কণার প্রাধান্য দেখা যায়-ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে।
27. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার স্তরের যেখানে পৃথিবীর
চুম্বকীয় ক্ষেত্র থেমে যায়, তাকে বলে-ম্যাগনেটোপজ।
28. নিরক্ষীয় অঞ্চলের দুটি ম্যাগনেটোপজ বলয়কে বলে-ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়।
29. পৃথিবীর সর্বাধিক উয় স্তরটি হলাে-আয়নােস্ফিয়ার/থার্মোস্ফিয়ার।
30. হােমােস্ফিয়ার ও হেটেরােস্ফিয়ারের সীমারেখাকে বলা হয় - টার্বোপজ।
31. বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে পরিবর্তনশীল স্তরটি হলাে-ট্রপােস্ফিয়ার।
32. বায়ুমণ্ডলের সর্বাধিক ঘনত্বযুক্ত স্তরটি হলাে-ট্রপােস্ফিয়ার।
33. আন্টার্কটিকা অঞ্চলে শীতকালে সৃষ্ট মেঘকে বলে-শুক্তি মেঘ।
34. বায়ুতে ভাসমান কঠিন সূক্ষ ধুলাে, বালি, লবণ ও কার্বন কণাকে একসঙ্গে বলে-এরােসল।
35. আকাশকে নীল দেখার কারণ-বায়ুতে ধূলিকণার উপস্থিতি।
🟥ওজোন ক্ষয় সম্পর্কিত কিছু তথ্য প্রশ্ন🟥
1. সংকেত- 0₃
2. সর্বপ্রথম O₃ গ্যাসের অস্তিত্বের আবিষ্কারক-স্কোনবিন।
3. ওজোন স্তরকে বলা হয়-পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌরপর্দা।
4. ওজোন স্তরের অবস্থান-স্ট্রাটোস্ফিয়ারের 15-35 km উচ্চতার মধ্যে।
5. 0₃ গ্যাসের পরিমাপের একক-ডবসন
6. O₃ গ্যাস পরিমাপক যন্ত্র-স্পেকট্রোফটোমিটার।
7. 0₃ স্তর ক্ষয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়-আন্টার্কটিকায়।
8. O₃ স্তর ক্ষয়ের জন্য প্রধান দায়ী-CFC গ্যাস।
9. ওজোন গহ্বর হলাে-মানুষের নানান অবিবেচনা প্রসূত কার্যকলাপের ফলে আন্টার্কটিকা মহাদেশের উপর ওজোন স্তরের পুরুত্ব হ্রাস।
10. ওজোন ছিদ্রের আবিষ্কারক- জে. সি. ফারম্যান।
11. 0₃ গ্যাসে অক্সিজেন পরমাণু থাকে-3টি।
12. O₃ গ্যাসের বর্ণ-নীলাভ।
13. আন্টার্কটিকায় ওজোন গহ্বর বৃদ্ধি পায়-বসন্তকালে।
14. ওজোন স্তর ক্ষয় সম্বন্ধীয় কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি-(i) মন্ট্রিল চুক্তি (1987), (ii) লন্ডন চুক্তি
(1990), (iii) কোপেনহেগেন চুক্তি (1992)।
15. 0₃ সংকেতটি উদ্ভাবন করেন-সােরেট।
🟦গ্রীন হাউস এফেক্ট সম্বন্ধীয় কিছু তথ্য🟦
1. প্রধান গ্রীনহাউস গ্যাস ➡️ co₂
2. অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাসসমূহ ➡️ CH₄, CFC, N₂,O, O₃, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি।
3. প্রধান প্রভাব পৃথিবীর➡️ গড় উয়তার বৃদ্ধি বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন।
4. সূর্যরশ্মি পৃথিবীতে এসে পৌছায় ➡️ ক্ষুদ্রতরঙ্গ রূপে।
5. সূর্যরশ্মি পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত হয় ➡️ বৃহৎ তরঙ্গ রূপে।
প্রশ্ন : উচ্চতা অনুসারে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস সংক্ষেপে বর্ণনা করাে। (Marks - 5)
উত্তর :
ভূপৃষ্ঠ থেকে ঊর্ধ্বে 10,000 কিমি পর্যন্ত গভীর বায়ুমণ্ডলকে উচ্চতা অনুসারে ছয়টি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) 🔰 ট্রপােস্ফিয়ার (Troposphere)🔰
🔳অবস্থান: বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরের নাম ট্রপােস্ফিয়ার। এই স্তর নিরক্ষীয় অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 17 কিমি এবং মেরু অঞ্চলে ৪ কিমি উর্ধ্ব পর্যন্ত বিস্তৃত।
🔳বৈশিষ্ট্য:
(i) এই স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট হারে উষ্ণতা ক্রমশ কমতে থাকে।
(তাপমাত্রা হ্রাসের হার সাধারণভাবে প্রতি 1 কিমি।
উচ্চতায় 6:4°C)
(ii) আবহাওয়ার যাবতীয় পরিবর্তন অর্থাৎ
মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, ঝঞ্ঝা প্রভৃতি এই স্তরেই দেখা
যায়। তাই একে ক্ষুন্ধমণ্ডল বলে।
(iii) বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদানের
প্রায় 75% এবং সমস্ত রকম জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা এই স্তরেই দেখা যায়।
(iv) ট্রপােস্পিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর মধ্যবর্তী
2-3 কিমি বিস্তৃত স্তরটির নাম ট্রপােপজ।
(খ) 🔰 স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)🔰
🔳অবস্থান: ভূপৃষ্ঠে ট্রপােপজের ওপরে প্রায় 50 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরটির নাম স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
🔳বৈশিষ্ট্য:
(i) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
(ii) এই বায়ুস্তরে জলীয় বাষ্প নেই, কিন্তু সূক্ষ্ম ধূলিকণা আছে। মেঘ বা ঝড় বৃষ্টি এখানে দেখা যায় না আবহাওয়া শান্ত থাকে। তাই এই স্তরকে শান্তমণ্ডল বলে। মেঘ ও ঝড় বৃষ্টি হয় না বলে জেট বিমানগুলি এই স্তরের মধ্য দিয়ে চলাচল করে।
(iii) এই স্তরেই ওজোন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়। এই কারণে এই স্তরকে ওজোনস্ফিয়ারও বলে।
(iv) স্ট্রাটোস্ফিয়ার ও মেসােস্ফিয়ার স্তরের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে স্ট্রাটোপজ বলে।
(গ) 🔰মেসােস্ফিয়ার (Mesosphere)🔰
🔳বৈশিষ্ট্য:
(i) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। এই স্তরের সর্বোচ্চ সীমায়
তাপমাত্রা হ্রাস পেয়ে প্রায়—100°C-এর মতাে হয়।
(ii) মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে তারা এই স্তরে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
(iii) মেসােস্ফিয়ারের ওপরের স্তব্ধ স্তরটির নাম মেসােপজ। এই স্তরেই বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন উষ্ণতা থাকে।
(ঘ) 🔰আয়নােস্ফিয়ার (lonosphere)🔰
🔳অবস্থান: মেসােপজের ওপরে প্রায় 500 কিমি. পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে আয়নােস্ফিয়ার বলে।
🔳বৈশিষ্ট্য:
(i) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা খুব দ্রুত হারে বাড়তে থাকে। 500 কিমি উচ্চতায়
তাপমাত্রা দাঁড়ায় প্রায় 1200°C। বায়ুমণ্ডলের সর্বাধিক উষ্ণ এই স্তরটিকে থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere) বলে।
(ii) তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই স্তরের বায়ু আয়ন যুক্ত হয়।
(iii) ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানাে বিভিন্ন বেতার তরঙ্গ এই আয়নিত বায়ুস্তর ভেদ করে আর ওপরে উঠতে
পারে না বলে এই স্তরেই বাধা পেয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।
(iv) তড়িতাহত অণুর চৌম্বক বিক্ষেপে দুই মেরু অঞ্চলে মৃদু আলােকপ্রভার সৃষ্টি হয়। একে উত্তর মেরুতে সুমেরুপ্রভা এবং দক্ষিণ মেরুতে কুমেরুপ্রভা বলে।
(ঙ) 🔰এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere)🔰
🔳অবস্থান: আয়োনােস্ফিয়ারের ওপরে প্রায় 750 কিমি পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোস্ফিয়ার বলে।
🔳 বৈশিষ্ট্য:
(i) এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য রয়েছে।
(ii) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
(চ) 🔰ম্যাগনিটোস্ফিয়ার (Magnitosphere)🔰
🔳অবস্থান: এক্সোস্ফিয়ারের ওপরে বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমা পর্যন্ত বায়ুস্তরকে ম্যাগনিটোস্ফিয়ার বলে।
🔳বৈশিষ্ট্য:
(i) এই স্তরে রয়েছে ইলেকট্রন ও প্রােটন।
(ii) এই স্তরকে পৃথিবীর চৌম্বক বর্ম বলে।
(iii) এই স্তর পৃথিবীর সমগ্র বায়ুমণ্ডলকে বেষ্টন করে অবস্থান করছে।
প্রশ্ন: রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডল কে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় কি কি তা বর্ণনা করো?
উত্তর: রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডল কে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-
১) হোমোস্ফিয়ার বা সমমন্ডল
২) হেটেরোস্ফিয়ারের বা বিসমমন্ডল
১) 🔰হোমোস্ফিয়ার বা সমমন্ডল🔰
🔴আক্ষরিক অর্থ: "হোমো" কথার অর্থ "সমান" "স্পিয়ার" কথার অর্থ "স্তর বা মন্ডল"
🔴অবস্থান: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 90 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত সমমন্ডল স্তর বিস্তৃত।
🔴 বৈশিষ্ট্য:
১) এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন এবং বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত একই রকম থাকে তাই একে সমমন্ডল বলে।
২) উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে সমমন্ডল কে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়-ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার , মেসোস্ফিয়ার।
৩) এই স্তরে নাইট্রোজেন , অক্সিজেন , কার্বন-ডাই-অক্সাইড , আর্গন , নিয়ন বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় ছাড়াও জলীয়বাষ্প জৈব-অজৈব কোন প্রচুর থাকে।
২) 🔰হেটেরোস্ফিয়ার বা বিষমমন্ডল🔰
🔴আক্ষরিক অর্থ: "হেটেরো" কথার অর্থ "অসমান" "স্পিয়ার" কথার অর্থ "স্তর বা মন্ডল"
🔴অবস্থান: হোমোস্ফিয়ার এর ওপরে 10000 কিমি পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের স্তর।
🔴 বৈশিষ্ট্য:
এই স্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত এবং বিভিন্ন গ্যাসের স্তর গুলি একই রকম থাকে না তাই একে বিষমমন্ডল বলে।
🔴শ্রেণীবিভাগ:
বিষমমন্ডল কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়-
ক) পারমাণবিক নাইট্রোজেন স্তর-হোমোস্ফিয়ার এর উর্দ্ধে 90 থেকে 200 পর্যন্ত।
খ) পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর-নাইট্রোজেন স্তরের ওপরে 200 থেকে 1100 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
গ) হিলিয়াম স্তর: অক্সিজেন স্তরের উপরে 1100 কিমি থেকে 3500 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
ঘ) হাইড্রোজেন স্তর: হিলিয়াম স্তরের ওপরে 3500 কিমি থেকে 10000 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
🔰আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন 🔰
বায়ুমণ্ডল
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?
উঃ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ওপরে যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে।
🔰প্রঃ বায়ু কিভাবে পৃথিবীর সঙ্গে লেগে থাকে?
উঃ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণের বলে।
🔰প্রঃ বায়ুতে কোন্ কোন্ উপাদান থাকে?
উঃ অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন, নিওন, আর্গন, হিলিয়াম,
হাইড্রোজেন, জেনন, ক্রিপটন, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডলে শতকরা কত ভাগ অক্সিজেন আছে?
উঃ ২১%।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডলে শতকরা কতভাগ নাইট্রোজেন আছে?
উঃ ৭৮%।
🔰প্রঃ ওজোন গ্যাস বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সবচেয়ে বেশি থাকে?
উঃ উচ্চস্তরে।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডল কি পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে আবর্তিত হয় ?
উঃ হ্যা।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডল কিসের সমন্বয়ে গঠিত?
উঃ কতকগুলাে গ্যাসের সমন্বয়ে।
🔰প্রঃ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ওপরে বায়ুমণ্ডল কি অবস্থায় অবস্থান করছে?
উঃ ক্রমশঃ হাল্কা হয়ে গেছে।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানের শতকরা ১৭ পদার্থ কোথায় অবস্থান করছে?
উঃ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২৯ কি.মি. উচ্চতার মধ্যে।
🔰প্রঃ ভূ-বিজ্ঞানীগণ বায়ুমণ্ডলের উদ্ধসীমা কত পর্যন্ত ধরে থাকেন?
উঃ ১০,০০০ কি.মি.।
🔰প্রঃ মেঘ, বৃষ্টি ও তুষারপাত হয় কেন?
উঃ বায়ুতে জলীয় বাষ্প থাকার জন্য।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরে প্রচুর সংখ্যক ধূলিকণা ভেসে বেড়ায়?
উঃ নিম্নস্তরে।
🔰প্রঃ জলীয় বাষ্প কাকে আশ্রয় করে মেঘ, বৃষ্টি ও তুষারপাত প্রভৃতি সৃষ্টি করে ?
উঃ ধূলিকণাকে আশ্রয় করে।
🔰প্রঃ শহরের কারখানা থেকে কোন কোন গ্যাস নির্গত হয় ?
উঃ কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও অ্যামােনিয়া।
🔰প্রঃ গ্যাস ছাড়া বায়ুমণ্ডলের উল্লেখযােগ্য উপাদান কি?
উঃ জলীয় বাষ্প।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডলে জলের অণুগুলাে কিভাবে ভেসে বেড়ায়?
উঃ অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের অণুর মতই।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কেন কম-বেশি হয়?
উঃ ঋতু অনুসারে।
🔰প্রঃ বায়ুপ্রবাহের ওজন সমগ্র বায়ুমণ্ডলের শতকরা কত অংশ এবং কেন?
উঃ ৭৫%। জলীয় বাষ্প বেশি বলে।
🔰প্রঃ বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলাে কি কি?
উঃ (ক) ট্রপােস্ফিয়ার, (খ) স্ট্যাটোস্ফিয়ার, (গ) মেসোস্ফিয়ার (ঘ) থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নােস্ফিয়ার (ঙ)এক্সোস্ফিয়ার(চ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
✳️মনে রাখার কৌশল✳️
(টুসি মা থাম এনেছি ম্যাগি)
মন্তব্যসমূহ