বিভিন্ন প্রকার হ্রদ। Different types of Lakes
ভারতের গুরুত্বপূর্ণ হ্রদের তালিকা || Important Lake of India Click here
পৃথিবীতে নানা ধরনের হ্রদ দেখা যায়। কোন হ্রদের জল মিঠে, আবার কোনও হ্রদের জল লবণাক্ত। কোন হ্রদ উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত, কোন হ্রদ সমতলভূমিতে অবস্থিত, আবার কোন হ্রদ সমুদ্রতলের চেয়ে নিচুতে অবস্থিত। এই যে বিভিন্ন প্রকার হ্রদ এগুলি আমাদের জীবনযাত্রার ওপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে। হ্রদে মাছ চাষ, পর্যটন কেন্দ্ৰ, নৌ-পরিবহন প্রভৃতি ছাড়াও বড় বড় হ্রদগুলি জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হ্রদ কাকে বলে?
প্রাকৃতিকভাবে গঠিত স্থলভাগের কোন অবনমিত বা নিচু অংশে বৃষ্টির জল, নদীর জল, হিমবাহ-গলিত জল, সমুদ্রের জল বা ভূ-গর্ভস্থ জল সঞ্চিত হয়ে যে ছোট-বড় জলাশয়ের সৃষ্টি হয়, তাকে হ্রদ বলে। সুতরাং, হ্রদ হল চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত স্বাভাবিক জলরাশি।
উদাহরণ—
A) এশিয়ার কাস্পিয়ান সাগর, আরল সাগর, মরু সাগর (আয়তনে বৃহৎ বলে এগুলিকে সাগর বলা হয়), বৈকাল হ্রদ।
B) উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত পঞ্চ হ্রদ -সুপিরিয়র, মিচিগান, হিউরণ, ইরি, অন্টারিও এবং গ্রেট বিয়ার, গ্রেট শ্লাভ প্রভৃতি।
C) আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া, ট্যাঙ্গানিকা, চাদ; অস্ট্রেলিয়ার আয়ার হ্রদ।
D) ভারতের ডাল, উলার, সম্বর, প্যাংগং প্রভৃতি হ্রদ উল্লেখযোগ্য।
হ্রদের শ্রেণীবিভাগ
ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থিত বিভিন্ন হ্রদসমূহকে প্রধানতঃ দু'ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে; যেমন—
[ক] জলের স্বাদ অনুসারে হ্রদের শ্রেণীবিভাগ ।
[খ] হ্রদের উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণীবিভাগ।
[ক] জলের স্বাদ অনুসারে হ্রদের শ্রেণীবিভাগ : জলের স্বাদ অনুসারে বিভিন্ন হ্রদকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে, যেমন—
[১] সুপেয় বা মিষ্টি জলের হ্রদ
[২] লবণাক্ত জলের হ্রদ।
[১] সুপেয় বা মিষ্টি জলের হ্রদ :
যে হ্রদের জল স্বাদু বা সুমিষ্ট, যার জল পান করা যায়,তাকে সুপেয় বা মিষ্টি জলের হ্রদ বলে।
উদাহরণ—আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপিরিয়র, রাশিয়ার বৈকাল, ভারতের ডাল, উলার, আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া প্রভৃতি।
সুপেয় বা মিষ্টি জলের হ্রদ সৃষ্টির কারণ—
[ক] শীতপ্রধান অঞ্চলে বাষ্পীভবন কম হয় বলে মিষ্টি জলের হ্রদ সৃষ্টি হয় (যেমন—বৈকাল)
[খ] যে সব অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় সেখানে মিষ্টি জলের হ্রদ সৃষ্টি হয় (যেমন— আফ্রিকার নিরক্ষীয় অঞ্চলে ভিক্টোরিয়া)
[গ] যে সব হ্রদের মধ্য দিয়ে বড় নদী প্রবাহিত হয় বা মিলিত হয় সেইসব হ্রদের জল মিষ্টি হয় (যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ইরি, অন্টারিও প্রভৃতি)
[২] লবণাক্ত জলের হ্রদ :
যে সব হ্রদের জল লবণাক্ত, যাদের জল পানের অযোগ্য, তাদের লবণাক্ত জলের হ্রদ বলে।
উদাহরণ—
ভারতের সম্বর, পুষ্কর; মধ্য এশিয়ার মরুসাগর; আফ্রিকার চাদ; ইউরোপের কাস্পিয়ান সাগর, আরল সাগর প্রভৃতি।
লবণাক্ত জলের হ্রদ সৃষ্টির কারণ—
[১] যে সব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয়, অথচ বাষ্পীভবন বেশি সেখানে লবণাক্ত জলের হ্রদ সৃষ্টি হয় (যেমন— মরুসাগর)
[২] যেসব হ্রদ একসময় সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের জল লবণাক্ত হয় (যেমন—কাস্পিয়ান সাগর)
[3] যেসব হ্রদ বর্তমানে সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত তাদের জল লবণাক্ত হয় (যেমন—চিল্কা ও পুলিকট উপহ্রদ)
[8] যেসব হ্রদ থেকে কোন নদী নির্গত হয়নি তাদের জল লবণাক্ত হয় (যেমন- আরল সাগর)।
[খ] হ্রদের উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণীবিভাগ :
উৎপত্তি অনুসারে বিভিন্ন হ্রদকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে, যেমন—
[I] প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট হ্রদ।
[II] কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট হ্রদ।
[I] প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট হ্রদ:
প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট হ্রদগুলিকে সাধারণভাবে পাঁচভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এগুলি হ'ল–
[১] ভূ-আলোড়নের ফলে সৃষ্ট হ্রদ,
[২] ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট হ্রদ,
[৩] সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট হ্রদ,
[৪] অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট হ্রদ
[৫] অন্যান্য হ্রদ।
[১] ভূ-আলোড়নের ফলে সৃষ্ট হ্রদ :
যে সমস্ত হ্রদ ভূ-আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়, তাদের ভূ- আলোড়নের ফলে সৃষ্ট হ্রদ বলে।
[i] ভূ-পৃষ্ঠ বসে গিয়ে সৃষ্ট হ্রদ—
প্রবল ভূ-আলোড়নে ভূ-ত্বকের কোন কোন অংশ বসে গিয়ে স্বাভাবিক উপায়ে জলপূর্ণ হলে এই ধরনের হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ—আরল সাগর, কাশ্মীরের উলার হ্রদ, কাস্পিয়ান সাগর (ভূ-ভাগ বসে গিয়ে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে) প্রভৃতি।
[ii] চ্যুতির ফলে সৃষ্ট হ্রদ—
ভূ-আলোড়নের প্রভাবে কোন স্থানে চ্যুতি ও গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি হলে ঐ স্থানে জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ—পূর্ব আফ্রিকার ট্যাঙ্গানিকা, কিছু, এডওয়ার্ড, রুডলফ, আলবার্ট, নিয়াসা; চ্যুতিরেখা বরাবর কুমায়ুন হিমালয়ের নৈনি তাল, ভীম তাল, সাত তাল, পুনা তাল (তাল = হ্রদ); মরুসাগর প্রভৃতি ।
[iii] ভূ-ত্বকে ভাঁজের ফলে সৃষ্ট হ্রদ— ভঙ্গিল পর্বত গঠনের সময় ভূ-ত্বকে ভাঁজ (ঊর্ধ্বভঙ্গও অধোভঙ্গ) সৃষ্টি হলে ঊর্ধ্বভঙ্গে নদীর গতি রুদ্ধ হয়ে বা অধোভরে জল সঞ্চিত হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ—
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা, কনস্ট্যান্স হ্রদ। "প্রভৃতি।
[iv] ভূ-পৃষ্ঠ উঁচু হয়ে সৃষ্ট হ্রদ ভূ-আলোড়নে ভূ-ত্বকের কিছু অংশ উঁচু হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ-অসমের নওঙ্গা-ইয়ঙ্গা হ্রদ।
[v] ধসের ফলে সৃষ্ট হ্রদ—
পার্বত্য অঞ্চলে ধসের ফলে অনেক সময় নদীপথ রুদ্ধ হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ- হিমাচলের স্পিতি উপত্যকায় চন্দ্ৰ তাল হ্রদ।
[vi] ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট হ্রদ—
ভূমিকাম্পের ফলে কোন স্থান বসে গেলে বা নদীপথ উঁচু হলে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ - কচ্ছের রণ জলাভূমি।
[২] ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট হ্রদ নদী, হিমবাহ, বায়ু প্রভৃতি বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কাজের ফলে এই ধরনের হ্রদের সৃষ্টি হয়,
যেমন—
[i] হিমবাহের উপত্যকায় সৃষ্ট হ্রদ পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহের ঘর্ষণে হিমবাহ উপতাকা বহু গর্তের সৃষ্টি হয়। হিমবাহ সরে গেলে এই গর্তগুলিতে হিমবাহ-গলা জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ—কুমায়ুন হিমালয়ের বাসুকি ভাল, চোরাবালি ভাল, নন্দাঘুন্টির কাছে রূপকুণ্ড, ভুঞ্জর উপত্যকার হেমকুণ্ড প্রভৃতি।
এই ধরনের হ্রদকে রকবেসিন হ্রদও বলে। ফিনল্যাণ্ডে এরূপ অসংখ্য হ্রদ দেখা যায় বলে একে 'সুয়োমি' বা 'হ্রদের দেশ' বলে।
[ii] সার্ক পার্বত্য হিমবাহের ক্ষয়কাজের ফলে যে সার্ক বা করি গঠিত হয় তার তলদেশে হিমবাহ-গলা জল জমে, সার্ক, বা করি হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ— গঙ্গোত্রী, জেমু প্রভৃতি হিমবাহের গতিপথে এরূপ বহু সার্ক বা করি হ্রদ দেখা যায়।
(iii) মহাদেশীয় হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ—
মহাদেশীয় হিমবাহের প্রবল ক্ষয়কাজ ও ভূ-আলোড়নের মিলিত প্রভাবে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ—
রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত পঞ্চহ্রদ—সুপিরিয়র, মিচিগান, হিউরন, ইরি, অন্টারিও প্রভৃতি। কানাডায় এরূপ বহু হ্রদ দেখা যায়।
(iv) প্লায়া হ্রদ—
মরু অঞ্চলে প্রবল বেগে বায়ুপ্রবাহের ফলে বালি অপসারিত হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। গতগুলি যদি খুব গভীর হয়ে ভু-গর্ভের জলস্তর পর্যন্ত বিস্তৃতহয়, তাহলে ভূ-গর্ভস্থ জল ও বৃষ্টির জল জমা হয়ে সেখানে হ্রদের সৃষ্টি করে। অত্যধিক বাষ্পীভবনের ফলে এইসব হ্রদ সাধারণতঃ লবণাক্ত হয়।
উদাহরণ—
রাজস্থানের সম্বর হ্রদ, দিদওয়ানা, কুচামন মিশরের কাতার অববাহিকার হ্রদ প্রভৃতি।
(v) মরূদ্যান সৃষ্ট হ্রদ মরূদ্যান অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ ভৌম জলস্তর ভূ-পৃষ্ঠের খুব কাছেই অবস্থান করায় এবং প্রবেশা শিলাস্তরের নিচে অপ্রবেশ্য শিলাস্তর থাকায় হ্রদের সৃষ্টি হয় ।
উদাহরণ—
জয়শলমীরের চাট্টানি খাল এরূপ হ্রদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
[vi] কার্স্ট হ্রদ বা পোলজি হ্রদ—
চুনাপাথর ও ডলোমাইট যুক্ত অঞ্চলে বৃষ্টির জল ও নদীর "জলের রাসায়নিক দ্রবণের ফলে চুনাপাথর ও ডলোমাইট দ্রবীভূত হয়ে গুহার সৃষ্টি করে। অনেক সময় গুহার ছাদ ধসে গিয়ে তার মধ্যে জল সঞ্চিত হয়ে হ্রদের সৃষ্টি করে। এরূপ হ্রদকে কার্স্ট হ্রদ বা পোলজি হ্রদ বলে।
উদাহরণ-
যুগোশ্লাভিয়ার স্কুটারি হ্রদ এইভাবে সৃষ্টি হয়েছে।
(vii) লবণ হ্রদ যেসব অঞ্চল খনিজ লবণ দ্বারা গঠিত সেই সব অঞ্চলে রাসায়নিক দ্রবণের ফলে অসংখ্য হ্রদের সৃষ্টি হয়। এদের লবণ হ্রদ বলে।
উদাহরণ—
ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের চেশায়ার অঞ্চলে এরূপ বহু হ্রদ দেখা যায়।
[৩] সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট হ্রদঃ
নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির সঞ্চয় কাজের ফলে এই ধরণের হ্রদের সৃষ্টি হয়,
যেমন-
(i) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ-নদীর মধ্য ও নিম্ন গতিতে নদী আঁকা বাঁকা গতিপথে প্রবাহিত হয় এবং একসময় প্রচণ্ড বাকের প্রান্তদেশ নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও নদী সোজা পথে প্রবাহিত হয়। এইরূপ পরিত্যক্ত নদী বাঁকটি ঘোড়ার ক্ষুরের মত হ্রদের আকারে অবস্থান করে। এদের অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
উদাহরণ—পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলায় ভাগীরথী নদীর গতিপথে বহু অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায়।
(ii) ব-দ্বীপ হ্রদ—
নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে অগভীর সমুদ্রে নদীবাহিত পলি জমে অনেক সময় হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ — সুন্দরবন ব-দ্বীপ অঞ্চলে এরূপ বহু হ্রদ দেখা যায়। অনেক সময় দু'টি ব-দ্বীপের মধ্যবর্তী নিচু জায়গায় জল জমে হ্রদ সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ—
কৃষ্ণা ও গোদাবরী ব- দ্বীপের মধ্যবর্তী কোলের হ্রদ।
[iii]গ্রবোরেখা হ্রদ—হিমবাহের শেষপ্রান্তে প্রাস্ত গ্রাবরেখাগুলি অনেক সময় নদী উপত্যকায় আড়াআড়িভাবে বাঁধ সৃষ্টি করে। এরূপ বাঁধের পেছনে জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়। এদের গ্রাবরেখা হ্রদ বলে।
উদাহরণ—ইতালির গাদা, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের উইন্ডারমিয়ার, সিকিমের ছাংও প্রভৃতি।
[iv] গোক্ষুর হ্রদ—
হিমবাহের শেষ প্রাপ্তে পর্বতের পাদদেশে যে হিমবাহ-বিধৌত সমভূমির সৃষ্টি হয় সেখানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হিমবাহের শেষ অংশ গলে গিয়ে গরুর ক্ষুরের মত আকৃতিবিশিষ্ট হ্রদের সৃষ্টি হয়। এদের গোক্ষুর হ্রদ বলে ।
উদাহরণ— স্কটল্যান্ডের অর্কনি অঞ্চলে এরূপ হ্রদ দেখা যায়।
[v] উপহ্রদ বা লেণ্ডন—
সমুদ্রের অগভীর উপকূল অঞ্চলে নদী ও সমুদ্রের ঢেউ এর কাছে আনা বিভিন্ন নুড়ি, বালি, কাকর প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ বাঁধের সৃষ্টি করে। এই বাঁধের পেছনে সমুদ্রের জল আবদ্ধ হয়ে উপহ্রদ বা লেগুনের সৃষ্টি করে।
উদাহরণ—
ওড়িশা উপকূলে চিলিকা অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে পুলিকট।(লেগুন)
কেরল উপকূলে ভেমবানাদ কয়াল, অষ্টমুদি কয়াল (কয়াল = উপহ্রদ) প্রভৃতি।
(vi) প্রবাল হ্রদ— সমুদ্রের মাঝে প্রবাল জমে যে বৃত্তাকার প্রবাল প্রাচীর গঠিত হয়, তার মধ্যে অপেক্ষাকৃত নিচু স্থানগুলিতে জল সঞ্চিত হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হয়। এরূপ হলকে প্রবাল হ্রদ বলে।
উদাহরণ—
লাক্ষদ্বীপে বহু প্রবাল হ্রদ দেখা যায়।
[৪] অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট হ্রদ :
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নানাধরনের হ্রদের সৃষ্টি। হয়, যেমন-
i) জ্বালামুখ হ্রদ—
অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ প্রশস্ত হয়ে বড় গত বা ক্যালডেরার সৃষ্টি করে। এই ক্যালডেরায় অনেক সময় জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়। এদের জ্বালামুখ হ্রদ বলে।
উদাহরণ—
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের লোনার হ্রদ, মধ্য আমেরিকার নিকারাগুয়া হ্রদ সুমাত্রার টোবা হ্রদ, ইতালির বোলসেনা হুম, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন হ্রদ প্রভৃতি।
ii) লাভাসঞ্চিত হ্রদ —
লাভাসঞ্চিত ভূমিভা অনেক সময় ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়( লাভার মধ্যে আবদ্ধ বাতাসের বুদবুদ থেকে তৈরি হয়)।। এইসব গর্তে জল জমে লাভাসঞ্চিত হদের সাধ করে।
উদাহরণ—আইসল্যাণ্ডের মাইভত্ন হ্রদ ।
[ii] লাভা আবদ্ধ হ্রদ :
অগ্ন্যুৎপাতের ফলে অনেক সময় উত্তপ্ত তরল লাভা নদী উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীপথকে রুদ্ধ করে দেয়। এর ফলে লাভা আবদ্ধ হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ— জর্ডন উপত্যকায় গ্যালিলি আবিসিনিয়ার টানা হ্রদ, নিউজিল্যাণ্ডের টাওগো হ্রদ প্রভৃতি। এরূপ হ্রদকে কুলি হ্রদও বলে।
[৫] অন্যান্য হ্রদ :
[I] বীভার হ্রদ –
বীভার নামে একপ্রকার ইঁদুরজাতীয় প্রাণী দলবেঁধে বনের মধ্যে কাঠের টুকরো, আবর্জনা প্রভৃতি নদীর মধ্যে ফেলে বাধ তৈরি করে। এর ফলে নদীপথ রুদ্ধ হয়ে একপ্রকার হ্রদের সৃষ্টি হয়। এরূপ হ্রদকে বীভার হ্রদ বলে।
উদাহরণ- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ইয়োলোস্টোন জাতীয় উদ্যানে বীভার হ্রদ দেখা যায়।
[ii] র্যাফ্ট হ্রদ:
নদীতে ভাসমান উদ্ভিদের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে নদীর জল আবদ্ধ হয়ে অনেক সময় হ্রদের সৃষ্টি হয়। এদের র্যাফট হ্রদ বলে।
উদাহরণ—নীলনদে ভাসমান উদ্ভিদ সাড়-এর দ্বারা হ্রদ সৃষ্টি হতে দেখা যায়।
[II] কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট হ্রদ :
[i] মানুষ নদীর ওপর আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করে বহুমুখী উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কৃত্রিম জলাধার সৃষ্টি করে।
উদাহরণ- ভাকরা বাঁধের পেছনে গোবিন্দ সাগর, চম্বল নদীতে রাণা প্রতাপ সাগর, দামোদর নদীতে পাঞ্চেৎ জলাধার, মিশরের নামের সাগর এরূপ কৃত্রিম হ্রদের উদাহরণ।
[ii] উন্মুক্ত স্থানে খনি খোঁড়ার ফলে যে গর্তের সৃষ্টি হয়, সেখানে অনেক সময় জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ ---মালয়েশিয়ার টিনের খনি অঞ্চলে এরূপ বহু হ্রদ দেখা যায়।
হ্রদ সম্পর্কে কিছু তথ্য
1) পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ
(লবণাক্ত)
কাস্পিয়ান সাগর—আয়তন ৩,১৫,০০০ বর্গ কি.মি.। এর ৩৮.৬% ইরানে এবং বাকি অংশ রাশিয়ায় অবস্থিত।
মন্তব্যসমূহ