সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বন্দর ও পোতাশ্রয় | ভারতের প্রধান বন্দর| Important Posts in India|

বন্দর ও পোতাশ্রয় |ভারতের প্রধান বন্দর| Important Posts in India|ভারতের প্রধান প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং তাদের অবস্থান|



বন্দর কাকে বলে? 

স্থলপথ থেকে জলপথে এবং জলপথ থেকে স্থলপথের প্রবেশ পথকে বন্দর বলে। বন্দরে বিভিন্ন জাহাজ মাল বোঝাই করে ও খালাস করে যাত্রী পরিবহন করে । 

প্রকার: 
বন্দর প্রধানতঃ তিন প্রকার—
A) সমুদ্রবন্দর (উদাহরণ: মুম্বাই, কোচি, বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই)
B) নদীবন্দর।  (উদাহরণ: কলকাতা) 
C) হ্রদবন্দর(হ্রদতীরে যে বন্দর গড়ে ওঠে তাকে হ্রদ বন্দর বলে । 
উদাহরণ:আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মিচিগান হ্রদের তীরে চিকাগো)।

 পোতাশ্রয় কি? 

বন্দরের একটি অংশ হ'ল পোতাশ্রয়। ঝড়-ঝঞ্ঝার সময় বন্দরের যে অংশে জাহাজ নিরাপদে আশ্রয় নেয়, যেখান থেকে সহজে এবং নিরাপদে মালপত্র খালাস ও বোঝাই করা হয়, তাকে পোতাশ্রয় বলে।

প্রকার: পোতাশ্রয় প্রধানতঃ দু'প্রকার—
ক) স্বাভাবিক পোতাশ্রয় ।
খ) কৃত্রিম পোতাশ্রয়।

পশ্চাদভূমি কাকে বলে?

বন্দরের মাধ্যমে কোন দেশের বা অঞ্চলের বিভিন্ন পণ্যের আমদানি-রপ্তানি চলে। কোন বন্দরের রপ্তানিকৃত পণ্য দেশের যতটা অঞ্চল থেকে আসে এবং আমদানিকৃত পণ্য দেশের যতটা অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়, সেই সমগ্র অঞ্চলকে ঐ বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে। সুতরাং, বন্দর হ'ল পশ্চাদভূমির প্রবেশের দ্বার।

বর্তমান ভারতের বন্দরের সংখ্যা: 


 ভারতের মূল ভূ-খণ্ডের উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য ৫,৭০০ কি.মি. হলেও উপকূলভাগ অভগ্ন হওয়ায় বন্দর গঠনের বিশেষ উপযোগী নয়। বর্তমানে দেশে ১১টি প্রধান বন্দর, ২১টি মাঝারি ও ১৯৬টি ছোট বন্দর আছে।

আদর্শ বন্দরের বৈশিষ্ট্য : 

বন্দর গঠনের উপযোগী প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাসমূহ যে বন্দরে সার্থকভাবে লক্ষ্য করা যায় তাকে আদর্শ বন্দর বলে। ভারতে আদর্শ বন্দর তেমন গড়ে ওঠেনি। পশ্চিম উপকূলের মুম্বাই (বোম্বাই), মার্মাগাও ও কোচি এবং পূর্ব উপকূলের বিশাখাপত্তনমকে আদর্শ বন্দর রূপে চিহ্নিত করা যায়। 

আদর্শ বন্দর গঠনের বিভিন্ন অবস্থাগুলি হ'ল


 [১] ভগ্ন উপকূল—উপকূলভাগ ভগ্ন হলে স্বাভাবিক বন্দর গঠনের সুবিধা হয়। 

[২] ভূ-প্রকৃতি—বন্দরের নিকটবর্তী ভূ-প্রকৃতি সমতল ও প্রশস্ত হলে বন্দর নির্মাণ সহজসাধ্য হয়। উপকূলবর্তী অঞ্চল জলাময়, পর্বতময় ও সংকীর্ণ হলে বন্দর গঠনে অসুবিধা দেখা দেয়।

[৩] প্রবেশ পথ—বন্দরের প্রবেশপথ বোতলের মুখের মত সরু ও ভেতরে প্রশস্ত হলে জাহাজগুলি সহজেই বন্দরে প্রবেশ করতে পারে। সামুদ্রিক ঢেউ বা ঝড় জাহাজের কোন ক্ষতি করতে পারে না। 

[৪] বিস্তৃত ও গভীর পোতাশ্রয়—বন্দরের পোতাশ্রয় বিস্তৃত ও গভীর হলে অনেকগুলি জাহাজ একসঙ্গে নোঙর করতে পারে।

[৫] জোয়ার-ভাটার পার্থক্য—সমুদ্রের জোয়ার-ভাঁটায় জলের অস্বাভাবিক তারতম্য হলে বন্দর গঠনে অসুবিধা দেখা দেয়।

[৬] অনুকূল জলবায়ু—বন্দর সকল ঋতুতে ঝড় বা কুয়াশামুক্ত হওয়া প্রয়োজন। মে-আগষ্ট মাসে মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের জন্য মুম্বাই ও মার্মাগাও বন্দর ছাড়া পশ্চিম উপকূলের অধিকাংশ বন্দর বন্ধ থাকে।

[৭] পশ্চাদভূমি—বন্দরের পশ্চাদভূমি জনবহুল এবং কৃষি শিল্পে উন্নত হলে বন্দরের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে।

[৮] পরিবহন ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা –বন্দরের সঙ্গে পশ্চাদভূমির উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে বন্দরের উন্নতি ঘটে।

[৯] বন্দরের পরিকাঠামো বন্দরের আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, গুদামঘর, প্যাকিং ব্যবস্থা, টেলেক্স যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাঙ্ক ও বীমা সংস্থার অবস্থান, উপযুক্ত ড্রাই ডক্ প্রভৃতি পরিকাঠামো থাকলে বন্দরের উন্নতি ঘটে।

ভারতের প্রধান প্রধান বন্দর 


ভারতে বর্তমানে চালু বন্দরের সংখ্যা প্রায় ১৫০টি। এর মধ্যে প্রধান বন্দরের সংখ্যা ১১টি। যে সব বন্দরে চার হাজার টন বা তার বেশি পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজ আশ্রয় নিতে পারে এবং কমপক্ষে বছরে ৫০ লক্ষ টন পরিমাণ দ্রব্যের আমদানি-রপ্তানি হয়, তাদের প্রধান বন্দর বলে।

পণ্য পরিবহনের গুরুত্ব অনুযায়ী ভারতের ১১টি প্রধান বন্দর : মুম্বাই (বোম্বাই), মার্মাগাও, বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, কলকাতা, কান্দালা, কোচি, নিউ ম্যাঙ্গালোর, পারাদীপ, নিউতুতিকোরিন ও জওহরলাল নেহরু বন্দর। 

অপ্রধান বন্দর: গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ'ল— পূর্ব উপকূলের ভিমানী-পত্তনম, কুদ্দালোর, কাকিনাড, মছলীপত্তনম এবং পশ্চিম উপকূলের আলেপ্পি, ভাবনগর, কালিকট, তিরুবনন্তপুরম (ত্রিবান্দ্রম), কুইলন, সুরাট, পোরবন্দর, কান্নানোর প্রভৃতি।

    [1]  মুম্বাই (বোম্বাই) বন্দর 
(পশ্চিম উপকূল, মহারাষ্ট্র রাজ্য) 


অবস্থান—পশ্চিম উপকূলের কোঙ্কন সমভূমিতে আরব সাগরের তীরে মুম্বাই বা বোম্বাই বন্দর অবস্থিত। স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত এই বন্দরটি ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্দর।

ভারতের প্রবেশদ্বার— পাশ্চাত্যের দেশগুলির সঙ্গে মুম্বাই বন্দরের মারফৎ যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। তাই পাশ্চাত্যের দেশগুলির নিকট মুম্বাই 'ভারতের প্রবেশদ্বার নামে পরিচিত।

 মুম্বাই বন্দর গড়ে ওঠার কারণ—


কতগুলি প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধার জন্য মুম্বাই ভারতের শ্রেষ্ঠ বন্দরে পরিণত হয়েছে। এগুলি হ'ল-

[১] ভগ্ন উপকূল : কোঙ্কন উপকূলের যে অংশে মুম্বাই বন্দর গড়ে উঠেছে, সেই অংশ বেশ ভগ্ন। ফলে স্বাভাবিক বন্দর গড়ে তোলার সুবিধা হয়েছে।

[২] গভীর উপকূল : মুম্বাই-এর নিকট সমুদ্র ৭-১২ মিটার গভীর। এর ফলে বড় বড় জাহাজ সহজেই মুম্বাই বন্দরে প্রবেশ করতে পারে।  

[৩] স্বাভাবিক পোতাশ্রয়ঃ ভগ্ন ও গভীর উপকূল হওয়ায় এই বন্দরের পোতাশ্রয়টি স্বাভাবিক ও প্রশস্ত। ১৯৫ বর্গ কি.মি. (২৩ কি.মি. লম্বা ও ৬-১৯ কি.মি. চওড়া) জুড়ে এই পোতাশ্রয়টি বিস্তৃত। এখানে তিনটি ডক আছে -
I) আলেকজেন্দ্রা ডক ।
II) ভিক্টোরিয়া ডক ।
III) প্রিন্সেস ডক। 

জাহাজ মেরামতির জন্য পাচটি ড্রাই ডক আছে। বন্দরের ১০ কি.মি. পূর্বে বুচার দ্বীপে ভারতের বৃহত্তম তেল জেটি নির্মিত হয়েছে। 

[৪] সমৃদ্ধ পশ্চাদভূমি: মুম্বাই বন্দরের পশ্চাদভূমি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লী, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাংশ, কর্ণাটকের উত্তরাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিমাংশ প্রভৃতি এই বন্দরের পশ্চাদভূমি। 

✓ বিভিন্ন প্রকার কৃষিজ (তুলা, আখ, চীনাবাদাম, গম প্রভৃতি)

✓ খনিজ (আকরিক লোহা, বক্সাইট, কয়লা, খনিজ তেল প্রভৃতি) সম্পদে এই পশ্চাদভূমি সমৃদ্ধ। 

✓ মুম্বাই শিল্পাঞ্চল (কার্পাস বস্ত্র, ইঞ্জিনিয়ারিং, জাহাজ নির্মাণ, প্লাস্টিক ও রবার দ্রব্য, চলচ্চিত্র, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, তেল শোধনাগার, পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র প্রভৃতি) এই বন্দরের শ্রীবৃদ্ধিতে যথেষ্ট সাহায্য করে। 

[৫] উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা : সড়কপথে ও রেলপথে পশ্চাদভূমির সঙ্গে মুম্বাই বন্দরের সুন্দর যোগাযোগ রয়েছে। বন্দরের নিজস্ব রেল পরিবহন ব্যবস্থা আছে। বন্দরের রেলপথে দশটি স্টেশন, অনেকগুলি সাইডিংস আছে। এই বন্দর মহানগরে পশ্চিম রেলপথ ও মধ্য রেলপথের সদর দপ্তর অবস্থিত (বোম্বে ভি.টি. ও বোম্বে চার্চ গেট)। জাতীয় সড়ক নং ৩, ৪, ৮, ৯ ও ১৭ মুম্বাই মহানগরকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সান্তাক্রুজ বিমান বন্দর একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। 

[৬] অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান : পাশ্চাত্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ হিসাবে মুম্বাই বন্দরই বেশি ব্যবহৃত হয়। সুয়েজ খালপথে এই বন্দরের মাধ্যমে ইউরোপ, পূর্ব আফ্রিকা ও উত্তর পূর্ব আফ্রিকার সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

[৭] সুলভ শ্রমিক : মুম্বাই ভারতের বৃহত্তম মহানগর হওয়ায় এখানে সুলভ শ্রমিকের অভাব ঘটে না। 

[৮] শক্তির প্রাচুর্য : নিকটবর্তী বোম্বে হাই খনিজ তেল কেন্দ্র ও ট্রম্বে শোধনাগার গড়ে ওঠায় জাহাজগুলির জ্বালানীর অভাব হয় না। এছাড়া টাটা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তারাপুরের পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায়। 

[৯] মুম্বাই—ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী : রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য মূলধন বিনিয়োগকারী সংস্থার সদর দপ্তর মুম্বাই শহরে অবস্থিত। ফলে বন্দরের বিকাশের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান সহজেই ঘটে।

আমদানি-রপ্তানি—ভারতে বন্দরগুলির মাধ্যমে প্রতিবছর যত বাণিজ্য চলে, তার প্রায় ২০% মুম্বাই বন্দরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।

• আমদানিকৃত পণ্য ঃ খনিজ তেল ও খনিজ তেলজাত দ্রব্য, দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলা, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য, খাদ্যশস্য, ওষুধ, নিউজপ্রিন্ট প্রভৃতি।

• রপ্তানিকৃত পণ্য : তুলা, কার্পাস বস্ত্র, চামড়া, যন্ত্রপাতি, ম্যাঙ্গানীজ, চীনাবাদাম, তামাক,

বিভিন্ন মশলা, অভ্র, আকরিক লোহা, পশমবস্ত্র প্রভৃতি।

        [2] মামাগাঁও 
(পশ্চিম উপকূল, গোয়া রাজ্য)


অবস্থান—ভারতের পশ্চিম উপকূলে আরব সাগরের তীরে কোন সমভূমিতে গোয়া রাজ্যে মার্মাগাও বন্দর অবস্থিত। পণ্য চলাচলের বিচারে এই বন্দর ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম। গোয়া শহরের ৮ কি.মি. দক্ষিণে জুয়ারী নদীর মার্মাগাও খাঁড়ির প্রবেশপথে এই বন্দরটি অবস্থিত। 

পোতাশ্রয়—এই বন্দরের পোতাশ্রয়টি স্বাভাবিক গভীর ও প্রশস্ত। একসঙ্গে ৫০টি জাহাজ এখানে আশ্রয় নিতে পারে।

পশ্চাদভূমি—গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিমাংশ, কর্ণাটকের উত্তরাংশ ও মহারাষ্ট্রের দক্ষিণাংশ এই বন্দরের পশ্চাদভূমি।

উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা—মার্মাগাও বন্দর দক্ষিণ-মধ্য রেলপথের ওপর অবস্থিত। জাতীয় সড়ক নং ১৭ ও ৪এ এই বন্দরকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। 

আমদানি-রপ্তানি—

• আমদানিকৃত পণ্য : আমদানি দ্রব্যের পরিমাণ খুব কম। খনিজতেল, সার, খাদ্যশস্য প্রভৃতি।

• রপ্তানিকৃত পণ্য : মার্মাগাও প্রধানত, রপ্তানি বন্দর। আকরিক লোহা, ম্যাঙ্গানীজ, লবণ, পান, আম, নারকেল, কাজুবাদাম, তুলা, কফি, চিনি প্রভৃতি। মোট রপ্তানির প্রায় ১৫% আকরিক লোহা বলে এই বন্দরকে আকরিক লোহা রপ্তানি বন্দর বলা হয়।


              [3] বিশাখাপত্তনম 
   (পূর্ব উপকূল, অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য)


অবস্থান—ভারতের পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরের তীরে তৃতীয় বৃহত্তম বন্দর বিশাখাপত্তনম অবস্থিত। এটি অন্ধ্রপ্রদেশের এক বন্দর মহানগর।

পোতাশ্রয়—পূর্ব উপকূলের এটিই একমাত্র গভীর, নিরাপদ, স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত বন্দর। বন্দরের নিকটবর্তী ডলফিন্‌স নোজ অন্তরীপটি সামুদ্রিক ঝড়-ঝঞ্ঝার হাত থেকে পোতাশ্রয়কে রক্ষা করে। এই পোতাশ্রয়ে ১৪ হাজার টন পরিমিত জাহাজ থাকার উপযুক্ত জলের গভীরতা আছে। ভারতের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণ কারখানা (হিন্দুস্থান শিপইয়ার্ড) এই পোতাশ্রয়ে গড়ে উঠেছে।

পশ্চাদভূমি—তামিলনাড়ুর উত্তরাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও মধ্যপ্রদেশের পূর্বাংশ এই বন্দরের পশ্চাদভূমি । পশ্চাদভূমি আকরিক লোহা, ম্যাঙ্গানীজ, অন্যান্য খনিজ দ্রব্য ও বনজ দ্রব্যে সমৃদ্ধ।

পরিবহন ব্যবস্থা—বন্দরটি দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথ ও দক্ষিণ রেলপথের সাহায্যে পশ্চাদভূমির সঙ্গে যুক্ত। রায়পুর-বিশাখাপত্তনম রেলপথ ও বায়লাডিলা-বিশাখাপত্তনম রেলপথের মাধ্যমে আকরিক লোহা রপ্তানির জন্য এই বন্দরে আসে।

আমদানি-রপ্তানি— 

আমদানিকৃত পণ্য : খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, লোহা-ইস্পাত, রাসায়নিক দ্রব্য, খাদ্যশস্য প্রভৃতি।

রপ্তানিকৃত পণ্য : আকরিক লোহা, ম্যাঙ্গানীজ, চীনাবাদাম, হরিতকী, চামড়া, তেলবীজ, কাঠ, মাছ প্রভৃতি। আকরিক লোহা প্রধান রপ্তানি দ্রব্য।

                 [4]   চেন্নাই 
   (পূর্ব উপকূল, তামিলনাড়ু রাজ্য)


অবস্থান—পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত চেন্নাই ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম বন্দর। করমণ্ডল উপকূলে এই বন্দরটি অবস্থিত।

পোতাশ্রয়—এই বন্দরের পোতাশ্রয় কৃত্রিম। উন্মুক্ত সমুদ্রের মধ্যে দু'টি প্রাচীর নির্মাণ করে ২০০ একর পরিমিত স্থানে কৃত্রিম পোতাশ্রয় স্থাপন করা হয়েছে। মৌসুমীবায়ু প্রত্যাবর্তনের সময় এখানে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড় হয়। তখন এই বন্দরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এখানকার জওহরলাল ডকে একসঙ্গে ৮টি জাহাজ নোঙর করতে পারে।

পশ্চাদভূমি—তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশ, কর্ণাটকের দক্ষিণাংশ, কেরলের পূর্বাংশ প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে চেন্নাই বন্দরের পশ্চাদভূমি গঠিত। এই পশ্চাদভূমি তুলা, কফি, তামাক, ধান প্রভৃতি কৃষিজ সম্পদ ; কার্পাসবস্ত্র, সার, রাসায়নিক দ্রব্য, ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রব্য, সিমেন্ট, কাচ, রেলগাড়ি নির্মাণ, খনিজতেল শোধন প্রভৃতি শিল্পে উন্নত।

পরিবহন ব্যবস্থা— পশ্চাদভূমির সঙ্গে সড়ক, রেল ও বিমানপথে চেন্নাই বন্দরের সুন্দর যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। দক্ষিণ রেলপথের সদর দপ্তর চেন্নাইতে অবস্থিত। দক্ষিণ-মধ্য রেলপথ, দক্ষিণ রেলপথ এবং জাতীয় সড়ক নং ৫, ৪৫ ও ৪৬ এই শহরের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। মীনাবক্কম এই শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

           [5] কান্দালা 
(পশ্চিম উপকূল, গুজরাত রাজ্য)


অবস্থানঃ পশ্চিম উপকূলে কচ্ছ উপসাগরের পূর্বপ্রান্তে গুজরাত রাজ্যে কান্দালা বন্দর অবস্থিত।

পোতাশ্রয়—এই বন্দরের পোতাশ্রয় স্বাভাবিক, গভীর ও সুরক্ষিত। তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় পোতাশ্রয়টি বেশ নিরাপদ। বন্দরে প্রবেশপথের মুখে সঞ্চিত পলি ড্রেজিং করে অপসারিত করা হয়।

পশ্চাদভূমি—গুজরাত, মহারাষ্ট্রের উত্তরাংশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের পশ্চিম অংশ, দিল্লী প্রভৃতি এই বন্দরের পশ্চাদভূমি। 

পরিবহন ব্যবস্থা—১৫ ও ৮এ নং জাতীয় সড়কের মাধ্যমে কান্দালার সঙ্গে আমেদাবাদের সংযোগ রয়েছে। দিশা-গান্ধীধাম রেলপথ ও গান্ধীধাম কান্দালা রেলপথ নির্মাণের ফলে এই বন্দর পশ্চিম রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

আমদানি-রপ্তানি পণ্যঃ

• আমদানিকৃত পণ্যঃ খনিজ তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, ওষুধ, ভেষজ তেল, খাদ্যশস্য, সার, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি।

• রপ্তানিকৃত পণ্য : ক্ষুদ্র ও মধ্যম আঁশযুক্ত তুলা, সিমেন্ট, লবণ, জিপসাম, রাসায়নিক দ্রব্য, খইল, চিনি প্রভৃতি।

        [6] কোচিন বা কোচি 
  (পশ্চিম উপকূল, কেরল রাজ্য)


অবস্থান—ভারতের পশ্চিম উপকূলে আরব সাগরের তীরে মালাবার উপকূল অংশে কোচি বন্দর অবস্থিত। মুম্বাই বন্দরের ৯৩৪ কি.মি. দক্ষিণে ও কন্যাকুমারীর ৩২২ কি.মি. উত্তরে কেরল রাজ্যে এই বন্দরটি অবস্থিত।

পোতাশ্রয়—প্রাচ্যের অন্যতম সুন্দর ও স্বাভাবিক পোতাশ্রয় কোচি বন্দরে গড়ে উঠেছে। লাক্ষা সাগরের সঙ্গে যুক্ত ভেমবানাদ কয়ালের মুখে এই বন্দর অবস্থিত। জলের গভীরতা ১০ মিটারেরও বেশি। জাহাজ মেরামতির জন্য কোচিতে ২টি ড্রাই ডক আছে। পেরুমানুর অঞ্চলে একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানাও স্থাপন করা হয়েছে।

পশ্চাদভূমি : কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু ।

পরিবহন ব্যবস্থা—কোচি বন্দরটি পশ্চাদভূমির সঙ্গে সড়কপথ, রেলপথ ও খালপথে যুক্ত। বন্দরের নিকট দিয়ে কোকোচী নদী প্রবাহিত হয়েছে। পালঘাট ফাঁকের মধ্য দিয়ে বিস্তৃতরেলপথ চেন্নাই মহানগরকে যুক্ত করেছে। কোচি হারবার রেলপথকে দক্ষিণ রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ৪৭ নং জাতীয় সড়ক কোচি বন্দরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন কয়ালগুলি নৌবাহী খালপথ দ্বারা পশ্চাদভূমির সঙ্গে যুক্ত।

         [7] নিউ ম্যাঙ্গালোর 
(পশ্চিম উপকূল, কর্ণাটক রাজ্য)


অবস্থান—পশ্চিম উপকূলে মালাবার উপকূল অংশে আরব সাগরের তীরে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরটি অবস্থিত। ১৯৭৪ সালে পূর্বতন ছোট্ট বন্দর ম্যাঙ্গালোর"-এর ৯ কি.মি. উত্তরে পানামবুর নামক স্থানে এই বন্দরটি স্থাপন করা হয়েছে।

পোতাশ্রয়—এই বন্দরের পোতাশ্রয় স্বাভাবিক ও গভীর। তা সত্ত্বেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমনের সময় প্রবল বৃষ্টিপাতে এই বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।

পশ্চাদভূমি— সমগ্র কর্ণাটক এবং মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও কেরল রাজ্যের অংশবিশেষ নিয়ে এই বন্দরের পশ্চাদভূমি গঠিত। বিভিন্ন প্রকার কৃষিজ দ্রব্য ও আকরিক লোহাতে এই পশ্চাদভূমি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। 

আমদানি-রপ্তানি পণ্য: 

আমদানিকৃত পণ্য : বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, খনিজ তেল, রাসায়নিক সার, ওষুধ প্রভৃতি। 

রপ্তানিকৃত পণ্য : এই বন্দর প্রধানত একটি রপ্তানি বন্দর। কফি, গোলমরিচ, কাজুবাদাম, ম্যাঙ্গালোর টালি, চন্দনকাঠ, রবার, সার, মাছ ও মাছজাত দ্রব্য, গ্রানাইট পাথর, আকরিক লোহা প্রভৃতি।

       [8] নিউ তুতিকোরিন 
(পূর্ব উপকূল, তামিলনাডু রাজ্য)


অবস্থান—পূর্ব উপকূলের করমণ্ডল উপকূলভাগের দক্ষিণে মান্নার উপসাগরের তীরে নিউ তুতিকোরিন বন্দর অবস্থিত। পূর্বতন ছোট্ট বন্দর তুতিকোরিন-এর ৮ কি.মি. দক্ষিণে এই বন্দরটি তৈরি করা হয়েছে।

পোতাশ্রয়—এই বন্দরের পোতাশ্রয় অগভীর ও কৃত্রিম। জাহাজের আশ্রয়ের জন্য সমুদ্রে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হয়।

পশ্চাদভূমি—তামিলনাড়ু ও কেরলের কিয়দংশ এই বন্দরের পশ্চাদভূমি। 

পরিবহন ব্যবস্থা—দক্ষিণ রেলপথ এবং জাতীয় সড়ক নং ৭এ এই বন্দরকে পশ্চাদভূমির সঙ্গে যুক্ত করেছে। ১৫০ কি.মি. উত্তরে মাদুরাই শহরের সঙ্গে দক্ষিণ রেলপথে এই বন্দরকে যুক্ত করা হয়েছে।

আমদানি-রপ্তানি—নিউ তুতিকোরিন বন্দর মারফৎ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সর্বাধিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়।

 আমদানিকৃত পণ্যঃ কয়লা, খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি। 

রপ্তানিকৃত পণ্যঃ তুলা, পিয়াজ, লঙ্কা, এলাচ, গবাদি পশু, লবণ প্রভৃতি।

       [9]   কলকাতা-হলদিয়া 
   (পূর্ব উপকূল, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য) 


অবস্থান—বঙ্গোপসাগরের উপকূল হতে ১৮০ কি.মি. অভ্যন্তরে হুগলী নদীর বামতীরে অবস্থিত কলকাতা একটি বিখ্যাত বন্দর। হলদিয়া হলদি নদীর তীরে অবস্থিত কলকাতার সহযোগী বন্দর।

পোতাশ্রয়—কলকাতা বন্দরের পোতাশ্রয়টি কৃত্রিম। খিদিরপুর ও নেতাজী সুভাষ ডক নামে দু'টি ডক এবং ৯টি জেটি এই পোতাশ্রয়ে রয়েছে। জাহাজ মেরামতির জন্য ৬টি ড্রাই ডক আছে। 

পশ্চাদভূমি—কলকাতা বন্দরের পশ্চাদভূমি বিশাল। সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, মনিপুর, অরুণাচলপ্রদেশ, নাগাল্যাণ্ড, বিহার,  উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের কিছু অংশ এই বন্দরের পশ্চাদভূমি। 

নেপাল ও ভুটানের বৈদেশিক বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় (তাই, কলকাতা একটি পুনঃ রপ্তানি বন্দর)। এই বিশাল পশ্চাদভূমি অত্যন্ত জনবহুল, কৃষি ও শিল্পে উন্নত।

পরিবহন ব্যবস্থা— সড়কপথ, রেলপথ ও বিমানপথে পশ্চাদভূমির সঙ্গে কলকাতার সুন্দর যোগাযোগ রয়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথের সদর দপ্তর কলকাতায় অবস্থিত। এছাড়া উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলপথ, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর রেলপথের সঙ্গে সুন্দর যোগাযোগ, জাতীয় সড়ক নং ২, ৬, ৩৪, ৩৫ ও ৪১ এই বন্দর মহানগরের পরিবহন ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে। 

আমদানি-রপ্তানি পণ্য 

• আমদানিকৃত পণ্য:  খনিজতেল, গন্ধক, কাগজ, রাসায়নিক দ্রব্য, মোটরগাড়ি, ধাতব দ্রব্য, খাদ্যশস্য প্রভৃতি।

• রপ্তানিকৃত পণ্য : পাটজাত দ্রব্য, চা, কয়লা, তেলবীজ, চামড়া, লাক্ষা, আকরিক লোহা, ম্যাঙ্গানীজ, চিনি, অভ্র, মাছজাত দ্রব্য প্রভৃতি।

         [10]পারাদীপ 
     (পূর্ব উপকূল, ওড়িশা)


অবস্থান—বঙ্গোপসাগরের তীরে ওড়িশা উপকূলে অবস্থিত পারাদীপ একটি সমুদ্র বন্দর। কটক থেকে এই বন্দর ৯৬ কি.মি. দূরে অবস্থিত। 

পোতাশ্রয়—এই বন্দরের পোতাশ্রয় স্বাভাবিক। এই বন্দর ভারতের গভীরতম বন্দর (১২ মিটার)। সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ এই বন্দরে নিরাপদে নোঙর করতে পারে। 

পশ্চাদভূমি—ওড়িশা, বিহারের দক্ষিণাংশ ও মধ্যপ্রদেশের পূর্বাংশ এই বন্দরের পশ্চাদভূমি।

আমদানি-রপ্তানি— পারাদীপ মূলতঃ একটি রপ্তানিপ্রধান বন্দর। এই বন্দর নির্মাণের ফলে কলকাতা বন্দরের গুরুত্ব বেশ হ্রাস পেয়েছে।

• আমদানিকৃত পণ্যঃ উঁচুমানের ইস্পাত, কাঠ, রাসায়নিক দ্রব্য প্রভৃতি। • 

রপ্তানিকৃত পণ্যঃ আকরিক লোহা, ম্যাঙ্গানীজ, কয়লা, অভ্র, মাছ ও মাছজাত দ্রব্য প্রভৃতি। রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে আকরিক লোহা প্রধান।

    [11] জওহরলাল নেহরু বন্দর 
   (পশ্চিম উপকূল, মহারাষ্ট্র রাজ্য) 


অবস্থান—মুম্বাই বন্দরের ১১ কি.মি. দক্ষিণে স্থাপিত নতুন বন্দর হ'ল জওহরলাল নেহরু বন্দর (পূর্বনাম নভসেবা)। মুম্বাই বন্দরের চাপ কমাবার জন্য এই বন্দর নির্মিত হয়েছে। নবনির্মিত এই বন্দরটি অধিকাংশই কমপিউটার নিয়ন্ত্রিত এবং আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত। 

পোতাশ্রয়—এই বন্দরের পোতাশ্রয় স্বাভাবিক ও গভীর।

পশ্চাদভূমি—মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশ ও কর্ণাটকের কিছু অংশ নিয়ে এই বন্দরের পশ্চাদভূমি গঠিত। মুম্বাই বন্দরের পশ্চাদভূমির সুবিধা এই বন্দর পায়। 

 আমদানি-রপ্তানি পণ্য :

• আমদানিকৃত পণ্য : খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য প্রভৃতি। • রপ্তানিকৃত পণ্য ঃ তুলা, চামড়া, যন্ত্রপাতি, ম্যাঙ্গানীজ, তামাক, কার্পাস বস্ত্ৰ প্রভৃতি।

• অপ্রধান বন্দর: ভারতের অপ্রধান বন্দরগুলির পণ্য চলাচলের পরিমাণ কম, পশ্চাদভূমি আয়তনে বেশ ছোট এবং পোতাশ্রয়ও বড় নয়। এই বন্দরগুলি প্রধানতঃ উপকূলীয় অঞ্চলে আভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত হয় ।

অপ্রধান বন্দর গুলি নিম্নরূপ :


পূর্ব উপকূল—ওড়িশার গোপালপুর, চাঁদবালি; অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম, কাকিনাড়া ; তামিলনাড়ুর নাগাপত্তনম, ধনুষ্কোটি; পণ্ডিচেরীর কারিকল প্রভৃতি।

পশ্চিম উপকূল—কেরলের কোঝিকোড়, তিরুবনন্তপুরম (ত্রিবান্দ্রম), কুইলন, আলেপ্পী। কর্ণাটকের কারওয়ার মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি ; গুজরাতের ওখা, পোরবন্দর, ভেরাভল, ভবনগর, মাগুভী, বেদী, ভারুচ, সুরাট প্রভৃতি।

আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের উল্লেখযোগ্য বন্দর হ'ল পোর্টব্লেয়ার। এই বন্দরের মাধ্যমে জলপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।


মন্তব্যসমূহ

আকর্ষণীয় লেখা

Chotanagpur mineral and industrial complex: (ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল):

Chotanagpur mineral and industrial complex:   (ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল): 🚜 অবস্থান ও বিস্তৃতি ভারতের খনিজ ভান্ডার ও শিল্পসমৃদ্ধ ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল টি সমগ্র ঝাড়খন্ড রাজ্য (রাচি, হাজারীবাগ, সিংভূম , ধানবাদ এবং সাঁওতাল পরগনা জেলা) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার বিস্তারিত। 🚜 অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ: উত্তর অক্ষাংশ ২২ ডিগ্রি থেকে ২৫°৩০`[উত্তর অক্ষাংশ] দ্রাঘিমাংশ ৮৩°৪৭`-৮৭°৫০`[পূর্ব দ্রাঘিমাংশ] 🏗️ ক্ষেত্রফল: প্রায় ৮৬২৩৯ বর্গ কিলোমিটার। 🏭 স্থানের সাপেক্ষে অবস্থান: ছোটনাগপুর অঞ্চলের, উত্তরে মধ্য গঙ্গা সমভূমি, দক্ষিণে উড়িষ্যা রাজ্য ,পূর্বে নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি ও পশ্চিম মধ্য প্রদেশ রাজ্য ও বাঘেলখন্ড মালভূমি অবস্থিত। 🏭 ভূপ্রকৃতি: রাচি মালভূমি, হাজারীবাগ মালভূমি, কোডারমা মালভূমি অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছোটনাগপুর মালভূমির গড় উচ্চতা ৪০০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত। ১)পূর্বদিকে ছোটনাগপুর মালভূমি ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় সমভূমি তে পরিণত হয়েছে এবং ধাপে ধাপে রাঢ় সমভূমি তে নেমে এসেছে। ২) পূর্বের এই সমভূমিতে অনেক ছোট ছোট টিলা দেখা যায়। ৩) ছোট...

ভারতের জনসংখ্যা ও জনগণনা

 *ভারতের জনসংখ্যা ও জনগণনা* ★ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ। (চীন প্রথম) ★ভারতের ক্ষেত্রফল পৃথিবীর মোট ক্ষেত্রফল এর প্রায় 2.4%, অথচ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার 17.50% ভারতে বসবাস করে। ★ভারতে আদম শুমারি শুরু হয়েছিল 1872 সালে। স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয় 1951 সালে। ★ভারতের সর্বশেষ ও পঞ্চম আদমশুমারি হয় 2011 সালে। ∆2011 সালের জনগণনা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য তথ্য∆ ★জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব★ *ভারতের মোট জনসংখ্যা (Total Population) 121,01,93,422 যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা 62.3 কোটি(মোট জনসংখ্যার51.48%) এবং মহিলার সংখ্যা 58.68কোটি(মোটজনসংখ্যার48.52%)। *2001-11 সাল পর্যন্ত ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার (Decadal Groth Rate)17.64%। এই সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে 18.2 কোটি। *ভারতে অপ্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা  (Child Population) (0-14 বছর) 37.24 কোটি(মোট জনসংখ্যার  প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা (Adult Population) (15-59 বছর) 72.95কোটি(মোটজনসংখ্যার 60.3%) এবং  60 বছরের উর্ধ্বের জনসংখ্যা(Old Age population)10.83কোটি(মোট জনসংখ্যার 8.9%) *ভারতের নির্ভরশীল জনসংখ্যা-48.07কোটি। *মোট প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার প্...

ভূগোল জিকে স্টাডি

বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি  W.B.C.S /P.S.C/WBTET/CTET  1.সুন্দরলাল বহুগুনা যে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তা হল- নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন /চের্নোবিল দূর্ঘটনা /তেহরী বাঁধ বিরোধী আন্দোলন /সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন।  2.কৃষি ও শিল্পের সর্বাধিক উন্নতি ঘটেছে -নিরক্ষীয়/তুন্দ্রা/ভূ মধ্যসাগরীয়/ মৌসুমি জলবায়ুতে। 3.'প্যাগোডার' দেশ বলা হয়-শ্রীলঙ্কা/নেপাল/ ভুটান /মায়ানমার কে। 4.'স্লিট' বলতে বোঝায়- জলকণা/ শিশির ও জলকণা / তুষার কণা/জল ও তুষার কনা। 5.কোনটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি নয়-স্ট্রম্বলি/মাউন্ট পিলি/ক্রাকাতোয়া/ভিসুভিয়াস।  6.অভিসারী পাত সীমানার বিপরীত পাত সীমানার নাম-গঠনকারী/বিনাশকারী /নিরপেক্ষ /কোনটিই নয়। 7.টিটিকাকা হ্রদ অবস্থিত - বলিভিয়া/দাক্ষিণাত্য /পেরু/টিটিকাকা মালভূমিতে। 8.পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গম রপ্তানীকারক দেশ- আর্জেন্টিনা /কানাডা/ব্রাজিল/ভারত।  9.ওশিয়ানিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম -মাউন্ট কুক/মাউন্ট এভারেস্ট /মাউন্ট উইলহেলম /মাউন্ট কোসিয়াস্কো। 10.ক্যারেজ প্রথায় চাষ করা হয় -শুষ্ক/ক্রান্তীয়/আর্দ্র/নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে।  11.সম্প্রতি পরমাণু দূর্ঘটনা ঘটেছে- ভোপাল/চিন/চের্...

Rabindranath Tagore's life, children, and books

Rabindranath Tagore's life, children, and books. Born: Rabindranath Tagore was born on May 7, 1861, in Calcutta, British India (present-day Kolkata, India). He was the youngest of thirteen children born to Debendranath Tagore and Sarada Devi. Children: Rabindranath Tagore had five children. Two of his children died in childhood, and the other three children were named Rathindranath Tagore, Madhurilata Tagore, and Renuka Tagore. Life: Rabindranath Tagore was a Bengali polymath who contributed significantly to the fields of literature, music, art, and education. He is widely regarded as one of the greatest poets and writers in the Bengali language and is the first non-European to win the Nobel Prize in Literature (1913). Tagore's writings addressed a range of topics, including patriotism, human relationships, and spirituality. He was also a social reformer who worked for the progress of the society and the upliftment of the marginalized sections of the society. He founded Shantin...

সিন্ধু নদীর গতিপথ ও উপনদীর বর্ণনা

  ★সিন্ধু (Indus) ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য পূর্ববর্তী নদী (Antecedent river) হল সিন্ধু। উৎস: তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে সিঙ্গ-খাবাব হিমবাহ থেকে সিন্ধু নদের উৎপত্তি হয়েছে। প্রবাহপথ : উৎস থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ট্রান্স হিমালয় অংশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর সিন্ধু নদ লাদাখ ও জাস্কার পর্বতের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। লে শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাক কোন নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এরপর সিন্ধু নদ নাঙ্গা পর্বতের গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণমুখী বাক নিয়ে পাকিস্তানের উপর দিয়ে বয়ে গিয়ে করাচির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আরব সাগরে পতিত হয়েছে। দৈর্ঘ্য: সিন্ধুর মোট দৈর্ঘ্য 2880 কিমি. কিন্তু ভারতের এর মাত্র 800.75 কিমি প্রবাহিত হয়েছে। উপনদী : বাম তীরের পাঁচটি প্রধান উপনদী শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তা। সিন্ধুর প্রধান উপনদী সমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা উপনদীর নাম- বিতস্তা (Jhelum) দৈর্ঘ্য (কিমি)- 724  উৎস: কাশ্মীর উপত্যকার ভেরিনাগের   কাছে। মোহনা- শতদ্রুর  সাথে মিলিত হয়েছে। বিশেষ তথ্য:* এর উপনদী গুলি হল লিডার, সিন্ধ, পোহরু। * কাশ্মীর উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্র...

ভারতের মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ ও মাটি সংরক্ষণ

১) ★ ভারতের মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ গুলি উল্লেখ করো?  অথবা  ভারতে ভূমিক্ষয়ের কারণ গুলি আলোচনা করো?   উত্তর :- ভূমি মাটি ক্ষয়ের কারণ :- প্রধানত দুটি কারণে মাটি হয়ে যায় যেমন— ১) প্রাকৃতিক কারণ,  ২) মানবিক কারণ। ক) প্রাকৃতিক কারণ: ১) স্বল্প বনভূমি:- মাটির ওপর গাছপালা ঘন আবরণ না থাকলে নদীর জল, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টির জল ও সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে মাটি ক্ষয় হয়ে যায়। ২ ) খাড়া ঢাল:-    খাড়া পাহাড়ি ঢালে এর ওপর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে ঐ বৃষ্টির জলের প্রভাবে মাটির সহজেই ধুয়ে বেরিয়ে যায়। ৩) আলগা মাটি : মাটিতে চটচটে আঠাল ভাব না থাকলে মাটির সহজেই খুজে যায়। এইজন্য মরুভূমির ধারে, সমুদ্রের ধারে মাটি তাড়াতাড়িয় ক্ষয়ে যায়। কারন এই সব এলাকায় মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকায় মাটির বাঁধন আলগা। খ)  মানবিক কারণ : ১) বনভূমি বিলপ:- অতিরিক্ত গাছ কাটার জন্য মাটির দানাগুলি আলগা হয়ে পড়ে। ফলে গাছের শিকড় আর তখন মাটি আঁকড়ে রাখতে পারেনা। ২) অতিরিক্ত পশুচারণ:- পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত পশুচারণ করা হলেও ভূমিক্ষয় হয়। ৩) ধাপ চাষ:- পাহাড়ের ঢা...

Here are the themes for International Day for Biological Diversity from 2000 to 2022

Here are the themes for International Day for Biological Diversity from 2000 to 2022: International Day for Biological Diversity This event (22 May, 9-10 EDT) will illustrate the critical interlinkages between freshwater and biodiversity and showcase the outcomes of the UN Biodiversity । International Day for Biological Diversity 22-May-2023 — The United Nations has proclaimed May 22 The International Day for Biological Diversity to increase understanding and awareness of .. International Day for Biological Diversity 2023 International Day of Biodiversity 12-May-2023 — In 2000, the UN General Assembly officially proclaimed May 22 to be the International Day for Biodiversity (IDB). 1. 2000 - "Biodiversity - Food, Water and Health for All" 2. 2001 - "Biodiversity and Poverty Alleviation" 3. 2002 - "Convention on Biological Diversity: Ten Years After" 4. 2003 - "Biodiversity and Biotechnology" 5. 2004 - "Biodiversity: Life Insurance for our Cha...