মহাবিশ্বে মহাকাশে
লেখক: শংকর ঘটক
শুরুর কথা
কল্পনা করা যাক, হাজার হাজার বছর আগের একটি অমাবস্যার রাত। তৎকালীন দূষণ-হীন পরিবেশে জনৈক জ্যোতির্বিদ আকাশের দিকে চেয়ে আছেন নির্নিমেষ চোখে। কী দেখবেন তিনি? দিগন্ত বিস্তৃত নিকষ কালো অন্ধকার আকাশ। ডাইনে বাঁয়ে সামনে পিছনে এবং উপরে অসংখ্য উজ্জ্বল বিন্দু আর রেখা। মনে হচ্ছে দিগন্তের বিস্তৃতিকে ছাপিয়ে বহু দূর পাড়ি দিয়ে আলোর তরঙ্গ এসে পৌঁছল চোখে। এই বিশালত্বর মাঝে নিজেকে অতি ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে। আক্ষরিক অর্থেই বিস্মিত। কিন্তু বাস্তবিকই কি বিস্মিত হবার মত কিছু এটা? একটু খতিয়ে দেখা যাক।
ছায়াপথ (galaxy) নিয়েই শুরু করা যাক। এখনো পর্যন্ত মোটামুটি ১৭,০০০ কোটি ছায়াপথের সন্ধান মিলেছে। এই ছায়াপথগুলির অবস্থান ৪,৫৭০ আলোকবর্ষ ব্যাসার্ধের অতি বিশাল এলাকায়। এই ছায়াপথগুলির আকার আয়তন সমান নয়। কোনটি তুলনায় আবার কোনটি বিশালাকার। কয়েকটা ঘোরানো সিঁড়ির (spiral) মত অথবা দৈত্যাকার উপ- বৃত্তাকার (elliptical)। সব মিলিয়ে দৃষ্টিগোচর হবার সম্ভাবনা আছে এমন জ্যোতিষ্কের সংখ্যা ১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ (আনুমানিক)।
এই বিশালত্বের মাঝের এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোণে বিরাজমান ততোধিক ক্ষুদ্র এই বিশ্বের বিন্দু-সম মানুষ মাথা তুলে খালি চোখে কটি তারা দেখতে পায়? মাত্র ২,৫০০টি। পৃথিবীর বিপরীত পৃষ্ঠের আরও ২,৫০০টি ধরলে মোট ৫,০০০টি। অর্থাৎ খালি চোখে পৃথিবীর চারদিকের দৃশ্যমান তারার সংখ্যা সমগ্রের তুলনায় অকিঞ্চিৎকর।
মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা, প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলেই তা অতিক্রম করা। দৃশ্যমানতার বাধা অতিক্রমের চেষ্টারই ফসল দূরবিনের আবিষ্কার।
মন্তব্যসমূহ