নোবেল পুরস্কার
বিখ্যাত সুইডিশ বিজ্ঞানি এবং ডিনামাইট-এর আবিষ্কর্তা অ্যালফ্রেড নোবেলের নামানুসারে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার 'নোবেল পুরস্কার' নামাঙ্কিত। তিনি ১৮৬৬ সাল থেকে সমগ্র বিশ্বের তাবড়তাবড় দেশে ২০টিরও বেশি গবেষণাগার ও একাধিক কোম্পানি তৈরি করেন এবং ২৫০টিরও বেশি পেটেন্ট লাভ করেছিলেন।
সারাজীবন দেশের ও দশের জন্য কাজ করার পর মানুষকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ১৮৯৫ সালে ২৭ নভেম্বর ‘হামবুর্গে’ একটি উইল তৈরি করেন এবং প্যারিসের সুইডিশ নরইয়ান ক্লাবে এটি স্বাক্ষরিত হয়। উইল অনুযায়ী তাঁর সম্পত্তির ৯৪ শতাংশ তাঁর নামাঙ্কিত পুরস্কারের জন্য ব্যয় করা হবে। তাঁর উইল অনুসারে পাঁচটি বিভাগ অর্থাৎ পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, শরীরতত্ত্ব বা চিকিৎসাবিদ্যা, সাহিত্য ও শান্তি'তে নোবেল পুরস্কার প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।
১৮৯৬ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে তিনি প্রয়াত হন। এরপর ১৯০১ সাল থেকে তাঁর মৃত্যুদিবস অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বরে 'নোবেল পুরস্কার' প্রদান করা হয়। কেবল নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে, কিন্তু অন্যান্য পাঁচটি নোবেল দেওয়া হয় সুইডেনের স্টকহোম থেকে।
• নোবেল পুরস্কারে অর্থমূল্য :
১৯৮৯ সালে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য সাময়িকভাবে শতকরা ২০ ভাগ বাড়িয়ে করা হয় ছ'শ পঞ্চাশ লক্ষ সুইডিস ক্রোনার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। ২০০১-এ ঐ মূল্য দাঁড়ায় একশত লক্ষ ক্লোনার। বর্তমানে পুরস্কার মূল্য স্বরূপ ১০ মিলিয়ান সুইডিশ ক্রোনার প্রদান করা হয়। আর্থিক মূল্য বাদেও নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের একটি ডিপ্লোমা, ১৮টি ক্যারেটের একটি সোনার পদক দেওয়া হয়।
• সর্বাধিক নোবেল পুরস্কার : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকগণই সর্বাধিক সংখ্যায় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন। এককভাবে একজন মার্কিন নাগরিকই ড: লুই কার্ল পলিং দুবার জয়ী হন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন শাস্ত্রের এই অধ্যাপক ১৯৫৪ তে রসায়ন শাস্ত্রে গবেষণার জন্য একবার এবং পরে ১৯৬২তে শান্তি পুরস্কার জেতেন।
• নোবেল পুরস্কার : আন্তর্জাতিক রেডক্রশ তিন তিনবার নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতেন যথাক্রমে ১৯১৭, ১৯৪৪ এবং ১৯৬৩ সালে।
একাধিকবার নোবেল জয়
মারী ক্যুরি স্কেলাডাওস্কা (ফ্রান্স) - পদার্থবিদ্যা (১৯০৩), রসায়ন (১৯১১), জন বার্ডিন (মাঃযুঃ) - পদার্থবিদ্যা ১৯৫৬ এবং ১৯৭২, লুই কার্ল পলিং (মাঃফুঃ)- রসায়ন (১৯৫৪), শান্তি (১৯৬২), ফ্রেডারিক স্যাংগার (ইংল্যান্ড)-রসায়ন শাস্ত্র ১৯৫৮ এবং ১৯৮০, আন্তর্জাতিক রেডক্রশ কমিটি - তিনবার নোবেল শান্তি পুরস্কার (১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩), ইউ.এন.এইচ.সি.আর দু'বার নোবেল শান্তি পুরস্কার পায় (১৯৫৪ ও ১৯৮১)।
• প্রথম মহিলা নোবেল বিজয়ী :
মাদাম মারী ক্যুরি স্কেলাডাওস্কা- পদার্থবিদ্যা (১৯০৩)
• প্রথম ভারতীয় নোবেল বিজয়ী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩-এ সাহিত্যে তাঁর সঙ্গীতডালী।
‘গীতাঞ্জলী' কাব্যগ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদের জন্য।
• প্রথম ভারতীয় মহিলা নোবেল বিজয়িনী : ১৯৭৯ সালে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পান মাদার টেরেজা (নাগরিক সূত্রে)।
১৯৭৪ সালে প্রথম মরণোত্তর নোবেল দেওয়া হয়।
• এই পদকের নক্সা তৈরি করেছিলেন সুইডেনের ভাস্কর এরিক লিন্ডবার্গ।
১৯৮০ সালের পর থেকে ১৮ ক্যারেটের সোনার পদক দেওয়া হয়।
১৯০১ সাল থেকে ১৯১২ সালের মধ্যে নোবেল কর্তৃপক্ষের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে লিও তলস্তয়, হেনরিক ইবসেন, এমিলি জোলা প্রভৃতি সাহিত্যিকরা নোবেল পুরস্কার থেকে বঞ্ছিত হন।
• নোবেল পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে সবথেকে প্রবীণ ব্যক্তি হলেন— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার অ্যাসকিন, পদার্থবিদ্যা, ২০১৮ (৯৬ বছর বয়স)।
নোবেল পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে কম বয়সী ব্যক্তি হলেন মালালা ইউসুফজাই, ২০১৪ (১৭ বছর বয়স)
• প্রথম নোবেলজয়ী পিতা-পুত্র হলেন স্যার উইলিয়াম ব্রাগ ও স্যার লরেন্স ব্রাগ (১৯১৫ সাল)।
• নোবেলজয়ী অন্যান্য পিতা-পুত্র হলেন ডেনমার্কের নীলস হেনরিক বোর― পদার্থবিদ্যা (১৯২২) ও অ্যাগেস নীলস বোর পদার্থবিদ্যা (১৯৭৫), সুইডেনের হ্যান্স ভন ইউলার চেলপিন— রসায়নবিদ্যা (১৯২৯) ও উলফ ভন ইউলার চিকিৎসাবিদ্যা (১৯৭০), মার্কিন - যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার কর্নবার্গ — চিকিৎসাবিদ্যা (১৯৬৯) ও রজার ডি কর্নবার্গ- রসায়নবিদ্যা (২০০৬), সুইডেনের কার্ল মান্নি জর্জ সিগবান- পদার্থবিদ্যা (১৯২৪) ও কাই এম সিগবান— পদার্থবিদ্যা (১৯৮১), ব্রিটেনের জে জে থমসন – পদার্থবিদ্যা (১৯০৬) ও জি. পি. থমসন – পদার্থবিদ্যা (১৯৩৭)
• প্রথম নোবেলজয়ী স্বামী-স্ত্রী হলেন ফ্রান্সের পিয়ের কুরি ও মাদাম কুরি (১৯০৩)। নোবেল পুরস্কার প্রাপক অন্যান্য দম্পতি— ফ্রান্সের ফ্রেডরিক জলিয়ট ও আওরিন জলিয়ট কুরি রসায়ন বিদ্যা (১৯৩৫), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ফার্দিনান কুরি ও গ্রিটি থেরেসা কুরি চিকিৎসাবিজ্ঞান (১৯৪৭), সুইডেনের গান্নার মিরদাল অর্থনীতি (১৯৭৪) ও আলভা মিরদাল
শাস্তি (১৯৮২), নরওয়ের এডভার্ড মোজার ও মে-ব্রিট-মোজার চিকিৎসাবিজ্ঞান (২০১৪)
• নোবেল জয়ী দুই ভাই নেদারল্যান্ডের জন টিনবারজেন – অর্থনীতিতে (১৯৬৯) ও নিকোলাস
মন্তব্যসমূহ