মাধ্যমিকের সেরা প্রস্তুতিতে আমরা অনেকটাই এগিয়ে কারণ আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকে যারা নিয়মিত প্রস্তুতি নেবে তাদের জন্য আমি একটা কথা বলবো নির্দ্বিধায় একশ একশ পাবে।
অনুকূল পরিবেশ থেকে যে প্রশ্নগুলো থাকে সেই প্রশ্নগুলি আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকে তোমরা নিয়মিত প্রস্তুতি নিতে পারবে।
১) কৃষিকাজ কাকে বলে ?
উত্তর:
উৎপত্তি : সংস্কৃত কৃষ ধাতু থেকে কৃষি কথাটি এসেছে । এর অর্থ হল "কর্ষণ" করা ইংরেজি "Agriculture" কথাটি এসেছে লাতিন শব্দ "Ager" = "Field" বা "খেত" এবং "Culture" = পরিচর্যা এই দুটি কথা থেকে।
জিমারম্যান (১৯৫১) প্রদত্ত সংজ্ঞা: জমিতে স্থায়ীভাবে বাস করে মানুষ যখন উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক জন্ম ,বৃদ্ধি ও মৃত্যুকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণের জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীজ দ্রব্যাদি উৎপাদন করে ,তাকে কৃষিকার্য বলে। সুতরাং বৃহত্তর অর্থে কৃষি কার্যের অন্তর্ভুক্ত হলো --
১) শস্য উৎপাদন ,
২) পশুপালন ,
৩) বনজ দ্রব্য উৎপাদন,
৪) মৎস্য প্রতিপালন,
৫) খনিজ দ্রব্য উত্তোলন ,
২) ★ভারতীয় কৃষিজ ফসল এর শ্রেণীবিভাগ করো।
অথবা,
চাষের সময় ও ব্যবহারের প্রকৃতি অনুসারে ভারতের উৎপন্ন ফসল এর শ্রেণীবিভাগ করো?
উত্তর :-
ভারতীয় ফসলের শ্রেণীবিভাগ:-
ভারতে উৎপন্ন কৃষিজ ফসল কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় যথা—
ক) চাষের সময় অনুসারে উৎপন্ন ফসল।
খ) ব্যবহারের প্রকৃতি অনুসারে উৎপন্ন ফসল ।
ক) চাষের সময় অনুসারে ফসলের শ্রেণিবিভাগ:-
চাষের সময় অনুসারে ভারতীয় কৃষিজ ফসল কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা—
১) রবি শস্য:-শীতকালে প্রধানত জলসেচের ওপর নির্ভর করে যেসব ফসলের চাষ হয় সেই সব ফসলকে রবি শস্য বলে।
যেমন—গম, আলুর, ডাল, ছোলা, তৈলবীজ, প্রভৃতি।
২) খারিফ শস্য:-বর্ষাকালে প্রধানত বৃষ্টির জলের উপর ভিত্তি করে যেসব ফসলের চাষ করা হয়, সেই সব ফসলকে খারিফ শস্য বলে।
যেমন — ধান,পাট,আখ,তুলা, তামাক, প্রভৃতি।
খ) ব্যবহারের প্রকৃতি অনুসারে ফসলের শ্রেণীবিভাগ :
আবার ব্যবহার অনুসারে ভারতের ফসলকে প্রধানত চার ভাগ করা যায়। যথা—
১) খাদ্যশস্য:-যেমন ধান, গম, জোয়ার, বাজরা, রাগি, ভুট্টা প্রভৃতি দানা শস্য। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার ডাল, মসলা, প্রভৃতিও খাদ্য শস্যের পর্যায়ভুক্ত।
২) তন্তু ফসল:-যেমন পাট, তুলা, শন প্রভৃতি।
৩) বাগিচা ফসল:-একবার গাছ লাগিয়ে বাগান তৈরি করে বছরের পর বছর ধরে ফসল পাওয়া গেলে তাকে বাগিচা ফসল বলে। যেমন—চা,কফি, রবার, নারিকেল প্রভৃতি।
৪) অন্যান্য ফসল:-অন্যান্য ফসলের মধ্যে আখ, তৈলবীজ, তামাক, বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে যেসব ফসল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায় তাদের অর্থকারী ফসল বা বাণিজ্যিক ফসল বলে।
যেমন—চা, পাট ,তুলো, প্রভৃতি।
অথবা,
ধান উৎপাদনের উপযোগী ভৌগলিক অবস্থান বর্ণনা করো?
চাষের অনুকূল পরিবেশ:-
নিম্নলিখিত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের ধান চাষ হয়।
∆ প্রাকৃতিক পরিবেশ:-
১) উষ্ণতা:-সাধারণভাবে 16°c —27°c উষ্ণতায় ধান চাষ ভালো হয়।
২) বৃষ্টিপাত:-ধান চাষের জন্য প্রচুর জলের দরকার। 100cm.—200cm. বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল ধান চাষ ভালো হয়।
৩) মাটি:-উর্বর পলিময় দোআঁশ মাটি ও এটেল মাটি ধান উৎপাদনে সর্বোৎকৃষ্ট।
৪) জমির প্রকৃতি:-জমিতে জল জমে থাকলে ধান গাছ ভালো জন্মায়। তাই নদী উপত্যকা ও ব-দ্বীপের সমতল জমির ধান চাষের পক্ষে আদর্শ। এছাড়া পাহাড়ের গায়ে হাত কেটে জমি সমতল করেও ধান চাষ করা হয়।
৪) অন্যান্য:-আর্দ্র আবহাওয়ায় ধান চাষের অনুকূল। তবে ধান কাটার সময় শুকনো ও রোদ ঝলমলে আবহাওয়ার প্রয়োজন।
∆অর্থনৈতিক পরিবেশ:
১) শ্রমিক:-ধান চাষের বীজ বপন, রোপন, নিড়ান, ফসল কাটা, ঝাড়াই করা প্রভৃতি কাজ প্রধানত হাতেই করতে হয়, তাই ধান চাষের জন্য প্রচুর শ্রমিকের দরকার।
২) মূলধন:-বর্তমানে অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য উচ্চ ফলনশীল বীজ এবং ব্যাপক জলসেচের ব্যবহারের দ্বারা নিবিড় প্রথায় চাষ করতে হলে প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন
৩) যন্ত্রপাতি:-বর্তমানে ধান চাষের আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হচ্ছে ।
4) ★গম উৎপাদনের উপযোগী ভৌগলিক পরিবেশ বর্ণনা করো?
অথবা,
গম চাষের অনুকূল পরিবেশ গুলি আলোচনা করো?
উত্তর:
∆ গম চাষের অনুকূল পরিবেশ:-
নিম্নলিখিত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের গম চাষ হয়।
∆ প্রাকৃতিক পরিবেশ:-
১) উষ্ণতা:-সাধারণত 14°c—19°c উষ্ণতা গম চাষের পক্ষে আদর্শ।
২) বৃষ্টিপাত:- 50cm—100cm বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে গম চাষ ভালো হয়। বেশি বৃষ্টিপাত কম চাষের পক্ষে ক্ষতিকর। আবার 50cm এর কম বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল এর জলসেচের দরকার হয়।
৩) মাটি:-উর্বর দোআঁশ মাটি গম চাষের পক্ষে উপযুক্ত। পলিমাটিতে গম চাষ ভালো হয়। মাটিতে নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ থাকায প্রয়োজন।
৪) জমির প্রকৃতি:-গম চাষের জন্য প্রায় সমতল অল্প ঢালু জমি প্রয়োজন। গাছের গোড়ায় জল জমলে গম চাষের ক্ষতি হয়। তাই জমিতে জল নিকাশের সুবন্দোবস্ত থাকা বিশেষ প্রয়োজন।
৫) অন্যান্য:-তুষারপাত গম চাষের পক্ষে ক্ষতিকর। গম পাকার সময় রোদ ঝলমলে শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন।
∆ অর্থনৈতিক পরিবেশ:-
১) শ্রমিক:-গম চাষের জন্য খুব বেশি শ্রমিক এর দরকার হয় না। কারণ ভূমি বর্ষণ থেকে শস্য কটা পর্যন্ত প্রায় সকল কাজই কৃষি যন্ত্রের সাহায্যে করা হচ্ছে।
২) মূলধন:-আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে কৃষি যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিস্তীর্ণ জমিতে গম চাষ হয় বলে যথেষ্ট মূলধনের প্রয়োজন হয়।
৩) যন্ত্রপাতি:-বর্তমানে গম চাষের আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হচ্ছে ।
5) ★চা চাষের অনুকূল পরিবেশ গুলি আলোচনা করো?
অথবা,
চা চাষের উপযোগী ভৌগোলিক পরিবেশ গুলি ব্যাখ্যা করো?
উত্তর :
∆ চা চাষের অনুকূল পরিবেশ:-
নিম্নলিখিত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের চা চাষ হয়।
∆ প্রাকৃতিক পরিবেশ:
১) উষ্ণতা:-গড়ে 27°c উষ্ণতা চা চাষের পক্ষে আদর্শ তবে 16°c উষ্ণতায় ও চায়ের চাষ হয়।
২) বৃষ্টিপাত:-চা চাষে প্রচুর বৃষ্টিপাত দরকার। গড়ে প্রায় 150cm.—250cm. বৃষ্টিপাত চা চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী। তবে গ্রীষ্মকালের শিলাবৃষ্টি এবং শীতকালের তুষারপাত চা গাছের যথেষ্ট ক্ষতি করে।
৩) মাটি:-লৌহ মিশ্রিত উর্বর দোআঁশ মাটি চা চাষের পক্ষে উপযুক্ত। এছাড়া ফসফেট, পটাশ মিশ্রিত মাটিতে ও চা চাষ ভালো হয়।
৪) জমির প্রকৃতি:-চা চাষের জমি যথেষ্ট ঢালু হওয়া দরকার এবং জল নিকাশের সুবিধা থাকা প্রয়োজন। চা গাছের গোড়ায় জল জমলে চা গাছ নষ্ট হয়ে যায়। তাই পাহাড়ের ঢালে চায়ের চাষ বেশি হয়।
৫) ছায়া প্রদানকারী গাছ:-চা গাছ প্রখর রৌদ্র কিরণ সহ্য করতে পারে না। তাই চা বাগিচার মধ্যে ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগানো হয়।
∆ অর্থনৈতিক পরিবেশ:
১) শ্রমিক:-চা পাতা তোলার জন্য প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন। দুটি পাতা একটি কুঁড়ি চয়ন করার ওপর চায়ের উৎকর্ষতা নির্ভর করে। তাই এই কাজের শিশু ও নারী শ্রমিকদের বেশি নিয়োগ করা হয়।
২) সার:-চা গাছ সহজেই জমির উর্বরা শক্তি কমিয়ে দেয়। উর্বরতা বজায় রাখার জন্য মাঝে মাঝে জমিতে নাইট্রোজেন জাতীয় সার দিতে হয়।
৩) মূলধন:-চা চাষে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এদের মজুরি ছাড়াও সার, কীটনাশক, বাগিচা রক্ষণাবেক্ষণ প্রভৃতি কাজে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ দরকার হয়।
★কফি চাষের উপযুক্ত ভৌগোলিক পরিবেশ গুলি আলোচনা করো?
অথবা,
কফি চাষের অনুকূল পরিবেশ গুলি আলোচনা করো?
উত্তর: কফি চাষের অনুকূল পরিবেশ:-
নিম্নলিখিত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের কফি চাষ করা হয়।
∆প্রাকৃতিক পরিবেশ:-
১) উষ্ণতা:-কফি চাষের জন্য সারা বছর বেশি উষ্ণতা দরকার। সাধারণত 20°c —30°c উষ্ণতায় কফি চাষ ভালো হয়।
২) বৃষ্টিপাত:-150cm.—250cm. বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে কফি চাষ হয়।
৩) মাটি:-লোহা, পটাশ, নাইট্রোজেন মিশ্রিত উর্বর লাল দোআঁশ মাটি কফি চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী। এছাড়া লাভা সৃষ্ট উর্বর মাটিতে কফি চাষ ভালো হয়।
৪) জমির প্রকৃতি:-জল নিকাশের সুবিধাযুক্ত পর্বতের ঢালু অংশ কপি চাষের পক্ষে আদর্শ।
৫) ছায়া প্রদানকারী গাছ:-চারা গাছকে প্রখর সূর্যের কিরণ থেকে বাঁচানোর জন্য বাগিচার মধ্যে ছায়া প্রদানকারী গাছ হিসেবে কলা, ভুট্টা প্রভৃতি বড় পাতার গাছ লাগানো হয়।
৬) অন্যান্য:-ঝড়ো তুষারপাত কফি গাছের পক্ষে ক্ষতিকর। কুয়াশা ও সামুদ্রিক আদ্রতা কফি গাছের বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।
∆অর্থনৈতিক পরিবেশ:-
১) শ্রমিক:-কফি কাছে রক্ষণাবেক্ষণ, ফল সংগ্রহ করা, কফি তৈরি করা প্রভৃতি কাজের জন্য প্রচুর দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
২) মূলধন:-কফি বাগিচার মধ্যেই এর প্রক্রিয়াকরণ গড়ে ওঠে বলে তাই এর প্রক্রিয়াকরণে প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়।
মন্তব্যসমূহ