বহির্জাত প্রক্রিয়া সমূহ (নদ/নদীর কার্য) দশম শ্রেণি / বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ
বহির্জাত প্রক্রিয়া সমূহ (নদ/নদীর কার্য) দশম শ্রেণি , বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ।
3 marks যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি আমাদের দশম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষায় থাকে সেই সমস্ত প্রশ্ন গুলি তোমরা কোন বইতে হেলপ পাবে না তার জন্য আমাদের এই ওয়েবসাইট নিয়মিত তোমাদের সাহায্য করবে।
দুস্থ: ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যারা অর্থের অভাবে ভালো কোচিং সেন্টার নিতে পারছো না তাদের উদ্দেশ্যে বলবো তোমরা নিয়মিত আমার এই ওয়েবসাইট তোমাদের সাহায্য করবে।
উত্তর:-বদ্বীপ গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ:-
১) অগভীর সমুদ্র:-মোহনার কাছে সমুদ্র অগভীর হলে নদীর পলি রাশি দ্বারা সিংহ ভরাট হয়ে ব-দ্বীপ গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২) প্রচুর পলি মাটি:-যেসব নদী প্রচুর পরিমাণে পলিমাটি বয়ে আনে সেই সব নদীর মোহনায় সহজেই বদ্বীপ গড়ে ওঠে।
৩) শান্ত সমুদ্র:-সমুদ্র স্রোতের প্রাধান্য কম থাকলে, জোয়ার-ভাটার প্রকোপ কম হলে এবং সমুদ্রে নদী ধীরগতিতে প্রবেশ করলে নদীর মোহনার কাছে পলি সঞ্চিত সুবিধা হয়, অপসারণ ঘটে না এবং সহজেই বদ্বীপ গড়ে ওঠে।
৪) অধিক সংখ্যক উপনদী:-উপনদী গুলি দ্বারা বাহিত পলি প্রধান নদীতে পলি মাটির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ফলে প্রধান নদীর মোহনায় অল্পসময়ের বেশি পলি,বলি জমা হয়ে তাড়াতাড়ি বদ্বীপ সৃষ্টি করে।
৫) স্রোতের বিপরীত দিক থেকে বায়ুপ্রবাহ:-নদীর মোহনার কাছে স্রোতের বিপরীত দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হলে বায়ুর চাপের স্রোতের বেগ কমে যায়। এই ধরনের মোহনায় বদ্বীপ গঠনের পক্ষে আদর্শ।
৬) স্থলভূমি বেষ্টিত সাগর:-স্থলভূমি বেষ্টিত সাগর এ যেসব নদী পতিত হয় সেখানে নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে। কারণ সমুদ্রস্রোত বা জোয়ার ভাটার মত বাধাবিঘ্ন এখানে অনেক কম।
৭) নদীর গতিপথ:-নদীর গতিপথ সুদীর্ঘ হলে বলের পরিমাণ বেশি হয় এবং পলি জমে জমে মোহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয়।
২) নদী কোন কোন প্রক্রিয়ায় ক্ষয় কাজ করে থাকে?
উত্তর:-
∆ ক্ষয় সাধন:-নদী প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ায় ক্ষয় কাজ করে থাকে যথা—
১) অবঘর্ষ: নদীবাহিত প্রস্তরখন্ডের স্থানে নদী খাতের সংঘর্ষের ফলে নদী ক্ষয়প্রাপ্ত হয় একে অবঘর্ষ ক্ষয় বলে।
২) ঘর্ষণ ক্ষয়:-নদীবাহিত প্রস্তর খন্ড গুলি পরস্পর ঘর্ষণে এবং ঠোকাঠুকিতে ক্ষয়ে যায় এবং অবশেষে বালুকণায় পরিণত হয় একে ঘর্ষণ ক্ষয় বলে।
৩) দ্রবণ ক্ষয়:-অনেক সময় নদীর জলে প্রস্তরখন্ড দ্রবীভূত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। একে দ্রবণ ক্ষয় বলে।
৪) জলপ্রবাহ ক্ষয়:-পার্বত্য উপত্যকায় প্রবল বেগে প্রবাহিত জল ধারা নদীখাতকে আঘাত করে একে জলপ্রবাহ ক্ষয় বলে।
৩) পার্বত্য প্রবাহে নদীর ক্ষয়কাজ প্রাধান্য লাভ করে কেন?
উত্তর:-নদীর যে অংশ পাহাড় বা পর্বতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তাকে পার্বত্য গতি বলে। এই গতিপথ উৎস থেকে পর্বতের পাদদেশে পর্যন্ত বিস্তৃত। সাধারণত পার্বত্য প্রবাহের নদী পথের ঢাল থাকে প্রায় 20°থেকে 25° ডিগ্রি পর্যন্ত। এরূপ প্রবল খাড়া ঢাল এর জন্য এই অংশে নদীর গতিবেগ ও প্রচন্ড হয়। আর নদীর বহন ক্ষমতা বেশি হয়। এই কারণে স্রোতের প্রচন্ড আঘাতে নদীগর্ভে ছিল সমূহ ভেগে গিয়ে শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখণ্ড সমূহ পরস্পরের সাথে ও নদীগর্ভে সাথে সংঘর্ষের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তাছাড়া এই অংশে নদীপথের ডাল এবং জলস্রোতের পরিমাণ বেশি হওয়ার নদীতে সঞ্চয় কাজের প্রাধান্য একেবারেই থাকে না। এইসব কারণে নদী উপত্যকায় ক্ষয় কাজের প্রাধান্য লাভ করে।
৪) নদী কোন কোন প্রক্রিয়ার তার বোঝা বহন করে?
উত্তর :-নদী তার ভার বা বোঝা চারটি প্রক্রিয়ার পরিবহন করে। যথা—
১) লম্ফদান প্রক্রিয়া:-বরাবর শিলাখণ্ড গুলি নদীর স্রোতের সাথে বাহিত হয়ে নদীর তলদেশের শিলাখণ্ডের সাথে ঠোক্কর কে লাফাতে লাফাতে এগিয়ে চলে। একে লম্প দান প্রক্রিয়ায় বহন বলে।
২) ভাসমান প্রক্রিয়া:-নূড়ি, বালি, কাদামাটি প্রভৃতি ছোট ছোট নদীর বোঝার উপায় নদীর স্রোতের সাথে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে বাহিত হয়। একে ভাসমান প্রক্রিয়ায় বহন বলে।
৩) আকর্ষণ প্রক্রিয়া:-সবচেয়ে বড় বড় শিলাখণ্ড গুলো জলস্রোতের আকর্ষণে নদীর তলদেশে বরাবর গড়াতে গড়াতে নিচের দিকে অগ্রসর হয় একে আকর্ষণ প্রক্রিয়ায় বহন বলে।
৫) নদীর বহন ক্ষমতা কিসের উপর নির্ভর করে?
উত্তর:-
নদীর বহন ক্ষমতা তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যথা—
১) নদীতে জলের পরিমাণ:-নদীতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে নদীর বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২) নদীর গতিবেগ:-বহন ক্ষমতা সর্বাধিক নির্ভর করে নদীর গতিবেগ এর ওপর। নদীর গতিপথ আহবার নদীর গতিপথের ডালের ওপর সর্বাধিক নির্ভর করে। কারণ নদীর গতিপথের ঢাল বৃদ্ধি পেলে নদীর গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে নদীর বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩) নদীবাহিত পাথরের আকৃতি:-নদীবাহিত পাথরের আকৃতি বড় হলে নদীর বহন ক্ষমতা কমে যায়, আবার পাথরের আকৃতি ছোট হলে নদীর বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৬) নদী কোন কোন অবস্থায় সঞ্চয় করে?
উত্তর:-প্রধানত চারটি কারণে নদীর সঞ্চয় কাজ করে। এগুলি হল—
ক) নদীতে জলের পরিমাণ কমে গেলে নদী তার বোঝা সঞ্চয় করতে বাধ্য হয়।
সাধারণত—
১) শুষ্ক ঋতুতে,
২) নদী উষ্ণ মরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে,
৩) নদীর গতিপথে চুনাপাথর, বালি প্রভৃতি সচিত্র শিলা গঠিত এলাকায় অবস্থান করলে।
৪) নদী কম বৃষ্টিপাত যুক্ত এলাকায় মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে, নদীতে জলের পরিমাণ কমে যায়।
খ) নদীবাহিত বোঝা বেড়ে গেলে।
গ) নদীর প্রবাহ পথের ঢাল কমে গেলে।
ঘ) কোন রদের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হলে নদী তার বহনক্ষমতা অনেকটা হারিয়ে ফেলে এবং সঞ্চয় করতে বাধ্য হয়।
৭) ★ গিরিখাত ও ক্যানিয়ন এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও:-
উত্তর:
∆ গিরিখাত:-
১) গিরিখাত খুব গভীর, সরু এবং ইংরেজির V আকৃতির হয়।
২) গিরিখাত আর্দ্র অঞ্চলে বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
৩) গিরিখাত আদ্র অঞ্চলের সৃষ্টি হয় বলে কিছুপার্শ্ব ক্ষয় হয়।
∆ ক্যানিয়ন:-
১) ক্যানিয়ন অত্যন্ত সংকীর্ণ ও দীর্ঘ হয় এবং ইংরেজি ‘I’আকৃতির হয়।
২) ক্যানিয়ন শুষ্ক অঞ্চলে বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
৩) ক্যানিয়ন শুষ্ক অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বলে পার্স ক্ষয় প্রায় বন্ধ থাকে।
৮) ∆ জলপ্রপাত এর শ্রেণীবিভাগ করো ?
উত্তর:-
ভূবিজ্ঞানী রা নদী খাতে জলের পরিমাণ ও ভূমির ঢাল অনুসারে জলপ্রপাতকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেন—
১) খরস্রোত:-নদীর প্রবাহ পথে অসমতল ঢালের জন্য সামান্য উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ে। এই ধরনের অতি ক্ষুদ্র অতি উচ্চ জলপ্রপাত গুলি খরস্রোত নামে পরিচিত।
উদাহরণ—আফ্রিকার যাইরে নদীতে অসংখ্য খর স্রোত দেখা যায়।
২) কাসকেড:-অনেক সময় জলপ্রপাত একাধিক ধাপের মধ্য দিয়ে নিচে পতিত হয়। একে কাসকেড বলে।
উদাহরণ—উত্তর আয়ারল্যান্ডের টিয়ার্স অব দ্য গ্লেন জলপ্রপাত।
৩) ক্যাটারাক্ট:-যখন কোন জলপ্রপাত এর মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ জল প্রবাহিত হয় তখন তাকে ক্যাটারাক্ট বলে।
উদাহরণ:-মিশরে খাতুম থেকে আসোয়ান পর্যন্ত নীলনদে 6 টি ক্যাটারাক্ট দেখা যায়।
৯) ∆ জলপ্রপাত ক্রমশ উৎসের দিকে সরে যায় কেন ?
উত্তর:- জলপ্রপাতের ক্রমশ প্রসার অপসারণের কারণ—
১) জলপ্রপাত নদীর উচ্চ বা পার্বত্য প্রবাহে দেখা যায়।
২) নদীর গতিপথে যদি কঠিন ও নরম শিলা সমান্তরালভাবে অবস্থান করে, সেক্ষেত্রে কঠিন শিলা অবস্থিত অপেক্ষাকৃত নরম শিলা অপেক্ষা কম ক্ষয় পেয়ে উঁচু হয়ে অবস্থান করে এবং জলপ্রপাতের সৃষ্টি করে।
৩) কঠিন শিলার নিচে নরম ছিল খুব দ্রুত ক্ষয় হয়।
৪) এর ফলে নরম খিদার ওপর কঠিন শিলার ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ বেশ কিছুদিন ঝুলে থাকে।
৫) কিছুদিন পর জলপ্রবাহের আঘাতে কঠিন শিলা ক্ষয় পেয়ে নিজের ভেঙ্গে যায়।
৬) এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই পুরাতন জলপ্রপাত এর পিছনে অর্থাৎ নদীর উৎস দিকে পুনরায় নতুন জলপ্রপাত সৃষ্টি হতে থাকে এইভাবে জলপ্রপাত পিছু হটতে থাকে এবং ক্রমশ উৎসের দিকে সরে যায়।
১০) ∆“অশ্বক্ষুরাকৃতি” হ্রদ বদ্বীপ অঞ্চলে দেখা যায় কেন?
উত্তর:-
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বদ্বীপ অঞ্চলে দেখা যায়। কারণ—
১) নিম্নগতিতে বা বদ্বীপ প্রবাহে নদীর খুব এঁকেবেঁকে সর্পিল গতিতে প্রবাহিত হলে জলের আঘাতের বাইরের দিকের বাঁক ভেঙ্গে যেতে থাকে।
২) এইসব ক্ষয় প্রাপ্ত পদার্থ নুড়ি, বালি, পলি অপর তীরে সঞ্চিত হতে থাকে। এইভাবে নদী বাঁক ক্রমশ বৃদ্ধি পেলে বাকের মধ্যবর্তী অংশটুকু সরু হয়ে যায়।
৩) অবশেষে এটি প্রধান নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
৪) প্রধান নদী তখন পুনরায় সোজা পথে প্রবাহিত হয়।
৫) পরিত্যক্ত নদীখাত টির মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে এটি জলাশয় বা হ্রদে পরিণত হয়।
৬) এই ধরনের হ্রদ দেখতে ঘ ঘোড়ার ক্ষুরের মত বলে একে ‘অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ’ বলে।
১১) ∆ “সব নদীতে ব-দ্বীপ গঠিত হয় না”— কারণ নির্দেশ করো?
উত্তর:-
সব নদীতে বদ্বীপ গড়ে ওঠে না। তার কারণ গুলি নিচে আলোচনা করা হলো—
১) নদীতে প্রবল স্রোত থাকলে নদীর মোহনায় পলি জমতে পারে না। কাজেই বদ্বীপ গড়ে ওঠে না।
২) নদীর মোহনায় প্রবল সমুদ্র স্রোত থাকলে বদ্বীপ গড়ে ওঠে না।
৩) যে নদী দীর্ঘ নয়, সেই ধরনের নদীতে বদ্বীপ গড়ে ওঠে না।
৪) নদীর মোহনায় যদি সমুদ্র গভীর হয়, তাহলে বদ্বীপ গড়ে ওঠে না।
৫) যেসব নদীতে ক্ষয়কার্য কম, সেই সব নদীতে পানির পরিমাণ কম হয় বলে বদ্বীপ গড়ে ওঠে না।
৬) উন্মুক্ত সমুদ্রের পতিত নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে না।
মন্তব্যসমূহ