সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভারতের শিল্প গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন (দশম শ্রেণি)


ক) শ্রমশিল্প বা যন্ত্রশিল্প কাকে বলে?
উত্তর:
 সংজ্ঞা : প্রকৃতি থেকে আহৃত কৃষিজ, ও খনিজ, বনজ ও প্রাণীজ সম্পদ রূপান্তরকরণের মাধ্যমে  শিল্পদ্রব্য উৎপাদনকে শ্রমশিল্প বা যন্ত্রশিল্প বলে।

এক্ষেত্রে মূলত বিক্রির উদ্দেশ্যে মেশিনের সাহায্যে পণ্য উৎপাদন করা হয়। শ্রম শিল্পে প্রাথমিক উৎপাদন সমূহের কার্যকারিতা, উপযোগিতা ,গুণগত মান ও মূল্যবৃদ্ধি করে অধিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়।

খ) বিভিন্ন প্রকার শিল্পের শ্রেণীবিভাগ করুন ।
উত্তর: শিল্পের শ্রেণীবিভাগ : 
১) ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুসারে
বিভাগ:
উদাহরণ: ভোগ্য পণ্য উৎপাদন, ময়দা,                                         চিনি শিল্প
২) নির্মানমুখী: লৌহ ইস্পাত শিল্প
মূলধন দ্রব্য উৎপাদন রাসায়নিক শিল্প

৩) কাঁচামালের প্রকৃতি অনুসারে:
উদাহরণ: 
ক) কৃষিভিত্তিক শিল্প : চা,পাটশিল্প
খ) খনি ভিত্তিক শিল্প:  অ্যালুমিনিয়াম শিল্প
গ) অরন্যভিতিকশিল্প:  কাগজ শিল্প,প্রাণী ভিত্তিক শিল্প , দোহশিল্প।

 ৪) আয়তন অনুসারে বিভাগ: 
উদাহরণ:
বৃহদায়তন শিল্প: লৌহ ইস্পাতশিল্প,
ক্ষুদ্রায়তন শিল্প: তাঁত বয়ন শিল্প।

গ) কুটির শিল্প কাকে বলে ? 
উত্তর:
 সংজ্ঞা : ক্ষুদ্রায়তনে একটি বাড়িতে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি সাহায্য শিল্প কর্ম করা হলে তাকে কুটির শিল্প বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য : 
১) স্বল্প পুঁজির প্রয়োজন। 
২) শ্রম নিবিড় উৎপাদন পদ্ধতি হওয়ায় স্থানীয় শ্রমিকের চাহিদা বেশি।
৩) স্থানীয় উপকরণে উপযুক্ত ব্যবহার সম্ভব।
৪) উৎপাদিত সামগ্রিক মান খুব উন্নত নয়।
৫) উৎপাদন স্বল্প হয়।
উদাহরণ : তাঁত বয়ন শিল্প, শালপাতা থালা, বাটি তৈরি ইত্যাদি।

ঘ) উদীয়মান বা সূর্যোদয় শিল্প ( Sunrise industry) কাকে বলে ? 
উত্তর:
 সংজ্ঞা : যে সমস্ত শিল্পের বয়স খুব কম এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং বর্তমানে ও ভবিষ্যতে বিপুল শিল্পদ্রব্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে তাকে উদীয়মান বা সূর্যোদয় শিল্প বলে।
বৈশিষ্ট্য : 
১) এই শিল্পকে কেন্দ্র করে বহু শিল্পের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। 
২) এই শিল্প বয়সে নবীন ও এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
৩) এদের আধুনিক শিল্প দানব ও নিম্নপ্রবাহী শিল্প বলে।
উদাহরণ : পেট্রোরসায়ন শিল্প।

ঙ) শিল্পের অনুভূমিক সাযুজ্য ( Horizontal integration) কী ? 
উত্তর:
 সংজ্ঞা : যখন বিভিন্ন উৎস থেকে কাঁচামাল একত্রিত করে সুসংহত শিল্প ব্যবস্থা বা উৎপাদন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হয় তখন তাকে শিল্পের অনুভূমিক সাযুজ্য বলে।

উদাহরণ : কাগজ শিল্পে অনুভূমিক সাযুজ্য দেখা যায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎস থেকে কাষ্ঠ মন্ড, ছেঁড়া কাগজ, পুরনো কাপড় , সরলবর্গীয় অরণ্য নরম কাঠ, রাসায়নিক দ্রব্য একত্রিত করে কাগজ উৎপাদন করা হয়।

চ) পরিবহনের দোলক নীতি কাকে বলে ? 
উত্তর:
 সংজ্ঞা : দুটি উৎপাদক সংস্থার মধ্যে পরিবহন ব্যয় যখন পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দুটি পণ্যের আদান-প্রদানের জন্য বিভক্ত হয় তখন তাকে পরিবহনের দোলক নীতি বলে।
বৈশিষ্ট্য : 
১) এই নীতিতে শিল্পদ্রব্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় কম। 
২) কাঁচামালের ঘাটতি পূরিত হয়।

উদাহরণ : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চহ্রদের তীরবর্তী অঞ্চলে লৌহ ইস্পাত শিল্পের প্রসারে এই নীতির তাৎপর্য অপরিসীম। অ্যাপালেসিয়ানের কয়লা হ্রদ তীরবর্তী শিল্পাঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার পর ফিরতি পথে হ্রদ অঞ্চলের লৌহ আকরিক অ্যাপেলেশিয়ানে নিয়ে আসা হয়।

ছ) ★ ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার কাকে বলে? কেন?
 উত্তর:-
 ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার:-আমেদাবাদ কে “ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার” বলা হয়। আমেদাবাদ ভারতের শ্রেষ্ঠ কার্পাস বয়ন শিল্প কেন্দ্র। গুজরাটের 129 টি কাপড়ের কল এর মধ্যে একমাত্র আমেদাবাদ 72 টি কাপড়ের কল গড়ে উঠেছে। সারা ভারতের কোন জায়গায় এরকম এক জায়গায় এত কল গড়ে ওঠেনি। তাই আমেদাবাদ কে “ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার” বলা হয়।

জ)★ পূর্ব ভারতের লৌহ ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণ গুলি আলোচনা করো?
 উত্তর: 
পূর্ব ভারতের ইস্পাত কেন্দ্র গুলি হল পশ্চিমবঙ্গের বার্নপুর কুলটি, দুর্গাপুর, ঝাড়খণ্ডের বোকারো, জামশেদপুর ও উড়িষ্যা রাউরকেল্লা।
 ∆ কেন্দ্রীভবনের কারণ
∆ প্রাকৃতিক কারণ:-

১) কাঁচামাল:-ইস্পাত শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হলো আকরিক লোহা ও কয়লা। দেশের বেশিরভাগ লোহা ও কয়লা খনি গুলি পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি তে পাশাপাশি অবস্থান করেছে। ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ছত্রিশগড় রাজ্যে দেশের প্রায় 80% লোহা আকরিক লোহা ও 95% কয়লা উত্তোলিত হয়। এই অঞ্চলের ঝাড়খণ্ডের সিংভূম, ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ, কোঁওনঝড়, ছত্রিশগড়ের বায়লা ডিলায় আকরিক লোহা পাওয়া যায়। দামোদর উপত্যকায় ভারতের সবচেয়ে বেশি কয়লা পাওয়া যায়।

২) অন্যান্য কাঁচামাল:-ওড়িশার গাংপুর ও বীরমিত্রপুর থেকে এই শিল্পের প্রয়োজনীয় চুনাপাথর ম্যাঙ্গানিজ ও ডলোমাইট প্রভৃতি পাওয়া যায়।

৩) শক্তি সম্পদ:-এই অঞ্চলের পাত্রাতু, বোকারো, চন্দ্রপুরা ও জামশেদপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মাইথন, পাঞ্চেৎ, কোনার, তিলাইয়া,  বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শিল্পের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পেতে অসুবিধা হয়না।

৪) জল:-পূর্ব ভারতের সমস্ত ইস্পাত কেন্দ্রগুলি নদীর ধারে গড়ে উঠেছে। এছাড়া এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত দামোদর, মহানদী, সুবর্ণরেখা প্রভৃতি নদী থেকে শিল্পের প্রয়োজনীয় জল পেতে অসুবিধা হয় না।

∆ অর্থনৈতিক কারণ:
১) শ্রমিক:-এই এলাকার দরিদ্র শ্রেণীর অধিবাসীদের বসবাসের ফলে সুলভ  শ্রমিক পেতে কোন অসুবিধা হয় না।

২) বন্দর:-এখানকার ইস্পাত কেন্দ্র গুলি পারাদ্বীপ ও কলকাতার মত পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সুবিধা ভোগ করে।

৩) পরিবহন:-পূর্ব ভারতের ইস্পাত কেন্দ্র গুলি রেলপথ ও সড়ক পথে বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে যুক্ত।

) সরকারি সহযোগিতা:-সরকারি সহযোগিতায় এবং বৈদেশিক প্রযুক্তিগত সাহায্যে এই অঞ্চলের ইস্পাত কেন্দ্র গুলি গড়ে ওঠে ও বিকাশ লাভ করে।


  ঝ) ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে কার্পাস বয়ন শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণ কি? 
অথবা, 
মুম্বাই, আমেদাবাদ অঞ্চলে কার্পাস শিল্পের একদেশীভবনের কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
অথবা, 
পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলের কার্পাস বস্ত্রশিল্পের একদেশী ভবনের কারণ কী?

 উত্তর:-পশ্চিমা অঞ্চলে বা মুম্বাই , আমেদাবাদে বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলে বা কার্পাস বয়ন শিল্পের একদেশী ভবনের কারণ।
∆ প্রাকৃতিক কারণ:-
১) কাঁচামালের প্রাচুর্য:-মুম্বাই তুলো সংগ্রহের কেন্দ্র এবং আমেদাবাদ কৃষ্ণ মৃত্তিকার তুলো উৎপাদক অঞ্চলের কাছে অবস্থিত। সুতরাং শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজেই পাওয়া যায়।

২) আদ্র জলবায়ু:-এই অঞ্চলে আরব সাগরের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু আর্দ্র প্রকৃতির। এই ধরনের জলবায়ু সূক্ষ্ম সুতো উৎপাদনের পক্ষে খুবই উপযোগী।

৩) শক্তির প্রাচুর্য:-পশ্চিমঘাট পর্বতের ভীরা, ভীবপুরী, খোপালী এবং গুজরাটের উকাই, কাদানা প্রভৃতি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলবিদ্যুৎ; তারাপুর এর আণবিক বিদ্যুৎ এবং ধুবরানের গ্যাস ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কার্পাস শিল্পের প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয়।

৪) রাসায়নিক দ্রব্যের প্রাচুর্য:-মুম্বাই, মিঠাপুর ও আমেদাবাদ বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এইজন্য কার্পাস শিল্পের প্রয়োজনীয় ব্লিচিং পাউডার, কস্টিক সোডা, রং এবং অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য প্রভৃতি সহজেই পাওয়া যায়।

৫) স্বচ্ছ জলের প্রাচুর্য:-রং করা, ব্লিচিং করা এবং অন্যান্য কাজের জন্য মাহি, সবরমতী ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রচুর স্বচ্ছ জল পাওয়া যায়।

∆ অর্থনৈতিক কারণ :
১) বন্দরের অবস্থান:-কাছাকাছি মুম্বাই ও কান্ডালা বন্দর এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে উন্নত মানের তুলো, রাসায়নিক দ্রব্য ও শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি এবং উৎপাদিত বস্ত্র রপ্তানির ব্যাপক সুবিধা পাওয়া যায়।

২) সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের প্রাচুর্য:-এই অঞ্চলের কৃষিকার্য বিশ্বের উন্নত নয় বলে শোলাপুর, সাতারা, কঙ্কন প্রভৃতি এলাকা থেকে প্রচুর পরিমাণে সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়।

৩) মূলধনের প্রাচুর্য:-স্থানীয় পার্সি ও ভার্টিয়া ধ্বনি ব্যবসায়ীরা এই শিল্পের জন্য প্রচুর মূলধন যোগান দেয়। তাছাড়া ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলি এই শিল্পে যথেষ্ট মূলধন বিনিয়োগ করে।

৪) উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা:-পশ্চিম ভারতের মুম্বাই আমেদাবাদ সড়ক, রেল ও বিমান পথের মাধ্যমে সমগ্র ভারতের সাথে যুক্ত।

৫) চাহিদা:-ভারতের জনবহুল দেশ হওয়ায় বস্ত্রের অভ্যন্তরের চাহিদা প্রচুর।

৬) পরিকাঠামোগত সুবিধা:-এই অঞ্চলে শিল্প বিকাশের উপযুক্ত পরিকাঠামোর থাকায় কার্পাস শিল্পের ব্যাপক উন্নতি সম্ভব হয়েছে।

 ঞ) ★ ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার কাকে বলে?কেন?
 উত্তর:- 
ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার:-আমেদাবাদ কে “ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার” বলা হয়। আমেদাবাদ ভারতের শ্রেষ্ঠ কার্পাস বয়ন শিল্প কেন্দ্র। গুজরাটের 129 টি কাপড়ের কল এর মধ্যে একমাত্র আমেদাবাদ 72 টি কাপড়ের কল গড়ে উঠেছে। সারা ভারতের কোন জায়গায় এরকম এক জায়গায় এত কল গড়ে ওঠেনি। তাই আমেদাবাদ কে “ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার” বলা হয়।

 ট)  ★ দক্ষিণ ভারতের বস্ত্র শিল্পের উন্নতির কারণ গুলি আলোচনা করো?
 উত্তর:-দক্ষিণ ভারতের কার্পাস শিল্পের প্রধান কেন্দ্র গুলি হল—
১) তামিলনাড়ু—কোয়েম্বাটুর, মাদুরাই, তুতিকোরিন, চেন্নাই,
২) অন্ধ্রপ্রদেশ—হায়দ্রাবাদ, গুন্টুর,
৩) কর্ণাটক—ব্যাঙ্গালোর, মহীশূর,
৪) কেরালা—ত্রিবান্দ্রম, কুইলন।

ঠ) ∆ দক্ষিণ ভারতের বস্ত্র শিল্পের উন্নতির কারণ:—
১) দক্ষিণাত্যের কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলে প্রচুর তুলো উৎপন্ন হয়।
২) পশ্চিমঘাট পার্বত্য অঞ্চল ও বিভিন্ন নদী পরিকল্পনার জলবিদ্যুৎ খুব সহজেই পাওয়া যায়।
৩) চেন্নাই, তুতিকোরিন, কোচি প্রভৃতি বন্দর এর সুবিধা।
৪) সড়ক পথ, রেলপথ ও জনপথের সুন্দর পরিবহন ব্যবস্থা।
৫) দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন এলাকার রাসায়নিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পজাত দ্রব্য পাওয়া যায়।
৬) হস্তচালিত ও যন্ত্রচালিত তাঁত শিল্পের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়।
৭) মধ্যম বসতি যুক্ত হওয়ায় সুলভ‌ শ্রমিক এর অভাব হয় না।
৮) এখানকার উৎপাদিত বস্ত্রের স্থানীয়, সর্বভারতীয় ও বৈদেশিক চাহিদা আছে।
৯) দক্ষিণ ভারতের শিল্পীরা সনাতনী বস্ত্র বয়নের পাশাপাশি আধুনিক বস্ত্র উৎপাদনে খুবই পটু।

 ড) ★ ভারতের পূর্বাঞ্চলে কার্পাস শিল্পের বিকাশের কারণ কী ?
 উত্তর:-
১)পশ্চিমবঙ্গ:—কলকাতা, হাওড়া, পানিহাটি, সোদপুর, শ্রীরামপুর, সালকিয়া, শ্যামনগর, ঘুষুড়ি, মৌরিগ্রাম।
২) বিহার:—পাটনা, গয়া।
৩) ঝাড়খন্ড:— রাঁচি।
৪) ওড়িশা:—ভুবনেশ্বর, কটক, পূর্বাঞ্চলে বেশিরভাগ কাপড়ের কল কলকাতা কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।


ঢ) ∆ পূর্বাঞ্চলে কার্পাস বয়ন শিল্পের বিকাশের কারণ:-
১) এখানকার আদ্র জলবায়ু কার্পাস শিল্পের অনুকূল।
২) এই অঞ্চলের তুলা উৎপাদনে বেশি না হলেও আমদানি করা তুলোর ওপর নির্ভর করে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে কাপড়ের কল গড়ে উঠেছে।
৩) পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেল পথে জাতীয় সড়ক পরের মাধ্যমে লাভা মালভূমি উৎপাদিত কাঁচা তুলো সহজেই আনা যায়।
৪) কাছাকাছি রানীগঞ্জ ও ঝরিয়ার কয়লা এখানে সহজেই আনা যায়। এছাড়া দামোদর উপত্যকার জলবিদ্যুৎ ও স্থানীয় বিভিন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায়।
৫) কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন রাসায়নিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
৬) কলকাতা বন্দর এর সুবিধা।
৭) ঘনবসতি হওয়ায় সুলভ শ্রমিকের প্রাচুর্য।
৮) প্রাচীন শিল্প কেন্দ্র হওয়ায় শিল্পের পরিকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা আছে।

ন) ★ দূর্গাপুরকে “ভারতের রূঢ়” বলা হয় কেন?
 উত্তর:-
দুর্গাপুর “ভারতের রুঢ়”:-জার্মানির বিখ্যাত রাইন নদীর উপনদীর নাম রুঢ়। এই উপত্যকায় প্রচুর কয়লা পাওয়া যায়। এই কয়লা কে কেন্দ্র করে রুঢ় উপত্যকায় বহু কলকারখানার বিকাশ ঘটেছে। ঠিক তেমনি দামোদর উপত্যকা বল এর কয়লা খনি কে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরে ব্যাপক শিল্পায়ন ঘটেছে। তাই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল কে “ভারতের রূঢ়” বলা হয়।

মন্তব্যসমূহ

Unknown বলেছেন…
খুব সুন্দর ভাবে প্রশ্নের উত্তর গুলো সাজিয়ে দেওয়া আছে

আকর্ষণীয় লেখা

Chotanagpur mineral and industrial complex: (ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল):

Chotanagpur mineral and industrial complex:   (ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল): 🚜 অবস্থান ও বিস্তৃতি ভারতের খনিজ ভান্ডার ও শিল্পসমৃদ্ধ ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল টি সমগ্র ঝাড়খন্ড রাজ্য (রাচি, হাজারীবাগ, সিংভূম , ধানবাদ এবং সাঁওতাল পরগনা জেলা) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার বিস্তারিত। 🚜 অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ: উত্তর অক্ষাংশ ২২ ডিগ্রি থেকে ২৫°৩০`[উত্তর অক্ষাংশ] দ্রাঘিমাংশ ৮৩°৪৭`-৮৭°৫০`[পূর্ব দ্রাঘিমাংশ] 🏗️ ক্ষেত্রফল: প্রায় ৮৬২৩৯ বর্গ কিলোমিটার। 🏭 স্থানের সাপেক্ষে অবস্থান: ছোটনাগপুর অঞ্চলের, উত্তরে মধ্য গঙ্গা সমভূমি, দক্ষিণে উড়িষ্যা রাজ্য ,পূর্বে নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি ও পশ্চিম মধ্য প্রদেশ রাজ্য ও বাঘেলখন্ড মালভূমি অবস্থিত। 🏭 ভূপ্রকৃতি: রাচি মালভূমি, হাজারীবাগ মালভূমি, কোডারমা মালভূমি অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছোটনাগপুর মালভূমির গড় উচ্চতা ৪০০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত। ১)পূর্বদিকে ছোটনাগপুর মালভূমি ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় সমভূমি তে পরিণত হয়েছে এবং ধাপে ধাপে রাঢ় সমভূমি তে নেমে এসেছে। ২) পূর্বের এই সমভূমিতে অনেক ছোট ছোট টিলা দেখা যায়। ৩) ছোট...

ভূগোল জিকে স্টাডি

বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি  W.B.C.S /P.S.C/WBTET/CTET  1.সুন্দরলাল বহুগুনা যে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তা হল- নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন /চের্নোবিল দূর্ঘটনা /তেহরী বাঁধ বিরোধী আন্দোলন /সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন।  2.কৃষি ও শিল্পের সর্বাধিক উন্নতি ঘটেছে -নিরক্ষীয়/তুন্দ্রা/ভূ মধ্যসাগরীয়/ মৌসুমি জলবায়ুতে। 3.'প্যাগোডার' দেশ বলা হয়-শ্রীলঙ্কা/নেপাল/ ভুটান /মায়ানমার কে। 4.'স্লিট' বলতে বোঝায়- জলকণা/ শিশির ও জলকণা / তুষার কণা/জল ও তুষার কনা। 5.কোনটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি নয়-স্ট্রম্বলি/মাউন্ট পিলি/ক্রাকাতোয়া/ভিসুভিয়াস।  6.অভিসারী পাত সীমানার বিপরীত পাত সীমানার নাম-গঠনকারী/বিনাশকারী /নিরপেক্ষ /কোনটিই নয়। 7.টিটিকাকা হ্রদ অবস্থিত - বলিভিয়া/দাক্ষিণাত্য /পেরু/টিটিকাকা মালভূমিতে। 8.পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গম রপ্তানীকারক দেশ- আর্জেন্টিনা /কানাডা/ব্রাজিল/ভারত।  9.ওশিয়ানিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম -মাউন্ট কুক/মাউন্ট এভারেস্ট /মাউন্ট উইলহেলম /মাউন্ট কোসিয়াস্কো। 10.ক্যারেজ প্রথায় চাষ করা হয় -শুষ্ক/ক্রান্তীয়/আর্দ্র/নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে।  11.সম্প্রতি পরমাণু দূর্ঘটনা ঘটেছে- ভোপাল/চিন/চের্...

Rabindranath Tagore's life, children, and books

Rabindranath Tagore's life, children, and books. Born: Rabindranath Tagore was born on May 7, 1861, in Calcutta, British India (present-day Kolkata, India). He was the youngest of thirteen children born to Debendranath Tagore and Sarada Devi. Children: Rabindranath Tagore had five children. Two of his children died in childhood, and the other three children were named Rathindranath Tagore, Madhurilata Tagore, and Renuka Tagore. Life: Rabindranath Tagore was a Bengali polymath who contributed significantly to the fields of literature, music, art, and education. He is widely regarded as one of the greatest poets and writers in the Bengali language and is the first non-European to win the Nobel Prize in Literature (1913). Tagore's writings addressed a range of topics, including patriotism, human relationships, and spirituality. He was also a social reformer who worked for the progress of the society and the upliftment of the marginalized sections of the society. He founded Shantin...

ভারতের জনসংখ্যা ও জনগণনা

 *ভারতের জনসংখ্যা ও জনগণনা* ★ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ। (চীন প্রথম) ★ভারতের ক্ষেত্রফল পৃথিবীর মোট ক্ষেত্রফল এর প্রায় 2.4%, অথচ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার 17.50% ভারতে বসবাস করে। ★ভারতে আদম শুমারি শুরু হয়েছিল 1872 সালে। স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয় 1951 সালে। ★ভারতের সর্বশেষ ও পঞ্চম আদমশুমারি হয় 2011 সালে। ∆2011 সালের জনগণনা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য তথ্য∆ ★জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব★ *ভারতের মোট জনসংখ্যা (Total Population) 121,01,93,422 যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা 62.3 কোটি(মোট জনসংখ্যার51.48%) এবং মহিলার সংখ্যা 58.68কোটি(মোটজনসংখ্যার48.52%)। *2001-11 সাল পর্যন্ত ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার (Decadal Groth Rate)17.64%। এই সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে 18.2 কোটি। *ভারতে অপ্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা  (Child Population) (0-14 বছর) 37.24 কোটি(মোট জনসংখ্যার  প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা (Adult Population) (15-59 বছর) 72.95কোটি(মোটজনসংখ্যার 60.3%) এবং  60 বছরের উর্ধ্বের জনসংখ্যা(Old Age population)10.83কোটি(মোট জনসংখ্যার 8.9%) *ভারতের নির্ভরশীল জনসংখ্যা-48.07কোটি। *মোট প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার প্...

সিন্ধু নদীর গতিপথ ও উপনদীর বর্ণনা

  ★সিন্ধু (Indus) ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য পূর্ববর্তী নদী (Antecedent river) হল সিন্ধু। উৎস: তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে সিঙ্গ-খাবাব হিমবাহ থেকে সিন্ধু নদের উৎপত্তি হয়েছে। প্রবাহপথ : উৎস থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ট্রান্স হিমালয় অংশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর সিন্ধু নদ লাদাখ ও জাস্কার পর্বতের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। লে শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাক কোন নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এরপর সিন্ধু নদ নাঙ্গা পর্বতের গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণমুখী বাক নিয়ে পাকিস্তানের উপর দিয়ে বয়ে গিয়ে করাচির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আরব সাগরে পতিত হয়েছে। দৈর্ঘ্য: সিন্ধুর মোট দৈর্ঘ্য 2880 কিমি. কিন্তু ভারতের এর মাত্র 800.75 কিমি প্রবাহিত হয়েছে। উপনদী : বাম তীরের পাঁচটি প্রধান উপনদী শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তা। সিন্ধুর প্রধান উপনদী সমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা উপনদীর নাম- বিতস্তা (Jhelum) দৈর্ঘ্য (কিমি)- 724  উৎস: কাশ্মীর উপত্যকার ভেরিনাগের   কাছে। মোহনা- শতদ্রুর  সাথে মিলিত হয়েছে। বিশেষ তথ্য:* এর উপনদী গুলি হল লিডার, সিন্ধ, পোহরু। * কাশ্মীর উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্র...

ভারতের মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ ও মাটি সংরক্ষণ

১) ★ ভারতের মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ গুলি উল্লেখ করো?  অথবা  ভারতে ভূমিক্ষয়ের কারণ গুলি আলোচনা করো?   উত্তর :- ভূমি মাটি ক্ষয়ের কারণ :- প্রধানত দুটি কারণে মাটি হয়ে যায় যেমন— ১) প্রাকৃতিক কারণ,  ২) মানবিক কারণ। ক) প্রাকৃতিক কারণ: ১) স্বল্প বনভূমি:- মাটির ওপর গাছপালা ঘন আবরণ না থাকলে নদীর জল, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টির জল ও সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে মাটি ক্ষয় হয়ে যায়। ২ ) খাড়া ঢাল:-    খাড়া পাহাড়ি ঢালে এর ওপর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে ঐ বৃষ্টির জলের প্রভাবে মাটির সহজেই ধুয়ে বেরিয়ে যায়। ৩) আলগা মাটি : মাটিতে চটচটে আঠাল ভাব না থাকলে মাটির সহজেই খুজে যায়। এইজন্য মরুভূমির ধারে, সমুদ্রের ধারে মাটি তাড়াতাড়িয় ক্ষয়ে যায়। কারন এই সব এলাকায় মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকায় মাটির বাঁধন আলগা। খ)  মানবিক কারণ : ১) বনভূমি বিলপ:- অতিরিক্ত গাছ কাটার জন্য মাটির দানাগুলি আলগা হয়ে পড়ে। ফলে গাছের শিকড় আর তখন মাটি আঁকড়ে রাখতে পারেনা। ২) অতিরিক্ত পশুচারণ:- পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত পশুচারণ করা হলেও ভূমিক্ষয় হয়। ৩) ধাপ চাষ:- পাহাড়ের ঢা...

Here are the themes for International Day for Biological Diversity from 2000 to 2022

Here are the themes for International Day for Biological Diversity from 2000 to 2022: International Day for Biological Diversity This event (22 May, 9-10 EDT) will illustrate the critical interlinkages between freshwater and biodiversity and showcase the outcomes of the UN Biodiversity । International Day for Biological Diversity 22-May-2023 — The United Nations has proclaimed May 22 The International Day for Biological Diversity to increase understanding and awareness of .. International Day for Biological Diversity 2023 International Day of Biodiversity 12-May-2023 — In 2000, the UN General Assembly officially proclaimed May 22 to be the International Day for Biodiversity (IDB). 1. 2000 - "Biodiversity - Food, Water and Health for All" 2. 2001 - "Biodiversity and Poverty Alleviation" 3. 2002 - "Convention on Biological Diversity: Ten Years After" 4. 2003 - "Biodiversity and Biotechnology" 5. 2004 - "Biodiversity: Life Insurance for our Cha...