1) ★ভারতের অন্যান্য রাজ্য অপেক্ষা অসমে চা উৎপাদন অধিক কেন?
উত্তর:-
অসমের চা উৎপাদনে ভারতের প্রথম স্থান অধিকার করে। দেশের মোট চা উৎপাদনের প্রায় 60% এই রাজ্যে উৎপন্ন হয়। এর কারণ গুলি হল—
১) এই রাজ্যে বিস্তীর্ণ পার্বত্য এলাকার ঢালু জমি চাষের পক্ষে খুবই উপযুক্ত।
২) চা চাষের প্রয়োজনীয় উত্তাপ (27°c) যথেষ্ট পরিমান পাওয়া যায়।
৩) পূর্ব হিমালয় এর কোলে অবস্থিত এই রাজ্যে শৈলোৎক্ষেপ পদ্ধতিতে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টিপাত(150cm.—250cm.) হয়ে থাকে।
৪) এই অঞ্চলে লোহা মেশানো মাটি তারা তাদের পক্ষে যথেষ্ট অনুকুল।
৫) আগে ব্রিটিশ সরকার এবং পরবর্তীকালে দেশপ্রিয় শিল্পপতিদের নিয়োজিত মূলধনে এখানকার চা বাগিচা গড়ে উঠেছে।
2) ★‘দার্জিলিং এর উৎকৃষ্ট মানের চা উৎপন্ন হয়’— ভৌগোলিক কারণ নির্দেশ করো?
উত্তর:-
চায়ের গুণমান বা উৎকৃষ্টতা নির্ভর করে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, জমির উচ্চতা এবং পাতার চয়ন করার ওপর। দার্জিলিং অঞ্চলে ভারত তথা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চা উৎপন্ন হয়। এর কারণ গুলি হল—
১) দার্জিলিং অঞ্চল পূর্ব হিমালয়ের দক্ষিণ ধারে অবস্থিত হওয়ায় এখানে সারা বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। অথচ জমিতে একেবারেই জল জমে না উৎকৃষ্ট চা উৎপাদনের জন্য খুব প্রয়োজন ।
২) এখানকার দোআঁশ, ধূসর বাদামি, লোহিত প্রভৃতি মাটিতে উৎকৃষ্ট মানের চা উৎপন্ন।
৩) অধিক উচ্চতায় অবস্থানের জন্য এই অঞ্চলে সারাবছর মৃদু উত্তাপ বিরাজ করে সুগন্ধযুক্ত চা চাষের পক্ষে অনুকূল।
৪) চায়ের কারখানাগুলি এখানকার চা বাগিচার মধ্যে খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে বাগান থেকে চয়ন করা পাতা দ্রুত গজানো সম্ভব হয় বলে চায়ের উৎকর্ষ বজায় থাকে।
3) ★ রবি শস্য ও খারিফ শস্যের মধ্যে পার্থক্য দেখাও?
উত্তর:
∆ রবি শস্য:-
১) শীতকালের শুরুতেই অধিকাংশ রবি শস্যের চাষ আরম্ভ হয়।
২) এইসব শস্য কাটা হয় বসন্তকালে।
৩) এই ধরনের শস্য মূলত শুষ্ক প্রকৃতির আবহাওয়ায় চাষ করা হয়।
৪) রবি শস্য চাষের জলের চাহিদা খুবই কম।
∆ খারিফ শস্য:-
১) বর্ষাকালের শুরুতেই বেশিরভাগ খারিফ শস্যের চাষ শুরু হয়।
২) শীতের শুষ্ক দিনে এইসব শস্য কাটা হয়।
৩) এই ধরনের শস্য মূলত আদ্র প্রকৃতির আবহাওয়ায় চাষ করা হয়।
৪) খারিফ শস্য চাষে জলের চাহিদা যথেষ্ট বেশি।
4) ★বাগিচা ফসল কাকে বলে?
উত্তর:-যেসব গাছ একবার লাগিয়ে তা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ফল পাওয়া যায় তাদের বাগিচা ফসল বলে।
যেমন—চা, কফি, রবার, নারিকেল প্রভৃতি।
5) ★"রবি শস্য" কাকে বলে?
উত্তর:-
শীতকালে প্রধানত জলসেচের ওপর নির্ভর করে যেসব ফসলের চাষ হয় সেই সব ফসলকে রবি শস্য বলে।
যেমন—গম, আলু, ডাল, ছোলা প্রভৃতি
6) ★খারিফ শস্য কাকে বলে?
উত্তর:-বর্ষাকালে প্রধানত বৃষ্টির জলের উপর ভিত্তি করে যেসব ফসলের চাষ হয় সেইসব ফসলকে খারিফ শস্য বলে।
যেমন—ধান, পাট, তুলা, তামাক, ভুট্টা প্রভৃতি
7) ★অর্থকারী বা বাণিজ্যিক ফসল কাকে?
উত্তর:-যেসব ফসল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায় তাদের অর্থকারী ফসল বা বাণিজ্যিক ফসল বলে।
যেমন—চা, পাঠ, তুলো প্রভৃতি।
8) ★ধানের কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল বীজের নাম করো?
উত্তর:-ধানে কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল বীজ হল—
১) রত্না ২) জয়া, ৩) তাইচুং,৪) পঙ্কজ, ৫) আইআরএইচ, ৬) বিজয়া,৭) গোবিন্দ, ৮) আদিত্য, ৯) আই আর টুয়েন্টি।
9) ★ভারতের প্রধান প্রধান গম উৎপাদক রাজ্য গুলির নাম করো?
উত্তর:-ভারতের প্রধান প্রধান গম উৎপাদক রাজ্য গুলি হল—
১) উত্তর প্রদেশ, ২) পাঞ্জাব,
৩) হরিয়ানা, ৪) বিহার,
৫) মধ্যপ্রদেশ, ৬) রাজস্থান।
10) ★ভারতের ব্যবহৃত কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল গম বীজের নাম করো?
উত্তর:-হীরা, সোনালিকা, মতি, কল্যান সোনা, সনেরা, সফেদ লারমা।
11) ★আউশ ধান কে “ভাদই” বলা হয় কেন?
উত্তর:-আউশ ধান বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণ করে ভাদ্র মাসে কাটা হয় বলে একে ভাদই ধান বলা হয়।
12) ★ভারতে কত রকমের ধান চাষ?
উত্তর:-তিন রকমের ধান চাষ হয়:-
১) আমন, ২) আউশ, ও ৩) বরো।
13) ★ভারতে কোন কোন রাজ্যে পাটের চাষ করা হয়?
উত্তর:-ভারতের পাট চাষ প্রধানত পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এছাড়া উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং কেরালাতে কিছু পাট চাষ হয়।
14) ★ভারত কোন কোন দেশে চা রপ্তানি করে?
উত্তর:-গ্রেট ব্রিটেন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মিশর, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি প্রভৃতি দেশে চা রপ্তানি করে।
15) ★কফির শ্রেণীবিভাগ করো?
উত্তর:-কফি প্রধানত চার প্রকার। যথা—
১) মোচা কফি বা আরবিয় কফি,
২) রোবাস্টা কফি,
৩) সাইবেরিয় কফি,
৪) ব্লু মাউন্টেন বা জ্যামাইকান কফি।
16) ★পাট চাষ প্রধানত গাঙ্গেয় বদ্বীপ দেখা যায় কেন?
উত্তর:-গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে পাট চাষের অনুকূল জলবায়ু ও নবীন পলি যুক্ত মাটি দেখা যায়। তাই পাট চাষ প্রধানত গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে দেখা যায়।
17) ★ভারতীয় কফির শ্রেণীবিভাগ করো?
উত্তর:-ভারতীয় কৃষির শ্রেণীবিভাগ—ভারতের প্রধানত দু ধরনের কফি চাষ করা হয়। যথা—
১) আরবিয় কফি—এই কফি সাধু গন্ধের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত।
২) রোবাস্টা কফি—এটা অপেক্ষাকৃত নিচুমানের কফি।
18) ★ পাটকে স্বর্ণ তন্তু বলে কেন?
উত্তর:-পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে ভারতে প্রতিবছর প্রচুর বিদেশি মুদ্রা অর্জন করে তাই পাটকে “সোনালী তন্তু” বলা হয়।
19) ★ভারতের প্রধান চারটি চা উৎপাদক রাজ্যের নাম লেখ?
উত্তর:-ভারতের প্রধান চারটি চা উৎপাদক রাজ্যের নাম হল—
১) অসম, ২) পশ্চিমবঙ্গ,
৩) তামিলনাড়ু, ৪) হিমাচল প্রদেশ।
20) ∆ ভারতের ধান চাষের সমস্যা:-
উত্তর: ধান চাষের সমস্যা:-
১) হেক্টরপ্রতি উৎপাদন অন্যান্য দেশের চেয়ে কম।
২) কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারে না।
৩) ধান সংরক্ষণাগারের যথেষ্ট অভাব।
৪) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে ব্যাপক অসুবিধা।
৫) খরা বা বন্যার প্রভাবে ধান চাষ বিঘ্নিত হয়।
৬) ভারতের ধান উৎপাদক চাষীদের বেশিরভাগই ভাগচাষী বা প্রান্তিক চাষী। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় না।
21) ∆ ভারতে গম চাষের সমস্যা:
উত্তর: ভারতে গম চাষের সমস্যা:-
১) ভারতে হেক্টর প্রতি গমের উৎপাদন খুবই কম।
২) গম চাষের জন্য ব্যবহৃত জমির পরিমাণ খুবই কম।
৩) সরকারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও ভালো নয়।
৪) গম চাষ সাধারণভাবে জলসেচ নির্ভর। ব্যাপক জলসেচের ফলে মাটিতে লবণতার পরিমাণ বাড়ে।
৫) কৃষি জমি গুলি ক্ষুদ্র হওয়ায় যন্ত্রপাতি প্রয়োগ করা যায় না।
৬) এদেশে শীতকাল ছাড়া অন্য ঋতুতে গম চাষের উপযোগী জলবায়ু পাওয়া যায় না।
৭) গম চাষ উত্তর ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
22) ∆ ভারতে চা চাষের সমস্যা:
উত্তর: ভারতের চা উৎপাদনে পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করলে ও এই ফসল চাষের কিছু সমস্যা রয়েছে। যথা—
১) ভারতের চা এর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বেশ কম।
২) ভারতের বেশিরভাগ চা বাগিচা গুলি খুব প্রাচীন। তাই এদের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক কমে গেছে।
৩) চা বাগিচা বুলি আয়তনে ছোট, বিশেষত দক্ষিণ ভারতের বাগিচা গুলি। এর ফলে আধুনিক কোথায় চাষ করতে অসুবিধা হয়।
৪) বর্তমানে চা প্যাকিং করার বাক্স সব সময় পাওয়া যায় না।
৫) মৌসুমী বৃষ্টি নির্ভরশীল হওয়ায় বার্ষিক চায়ের উৎপাদন কম হয়।
৬) বর্তমানে বিশ্বের বাজারে ইনস্টান্ট চায়ের কদর বাড়ছে। কিন্তু ভারতে এ ধরনের চায়ের উৎপাদন খুবই কম।
৭) উত্তর পূর্ব ভারতের চা বাগিচা অঞ্চলে রাজনৈতিক অশান্তির ফলে চায়ের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
23) ∆ সবুজ বিপ্লব:
উত্তর:-সবুজ বিপ্লব হল হঠাৎ করে পরিবর্তন। একাধিক কারণ বা পরিবেশের অনুকূলে কৃষিক্ষেত্রে কৃষিজাত ফসল উৎপাদন হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেলে তখন তাকে বলা হয় কৃষি বিপ্লব বা সবুজ বিপ্লব।
স্বাধীনতা লাভের পর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষির উন্নতির জন্য কতগুলি কৃষি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
কৃষিতে স্বনির্ভর হওয়ার উদ্দেশ্য—
১) উচ্চ ফলনশীল,
২) রাসায়নিক সার,
৩) কীটনাশক ওষুধ,
৪) জলসেচ ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ,
৫) কৃষকদের সরকারি ভরতুকি,
৬) কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দান,
৭) আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার,
৮) ভূমি সংস্কার,
৯) বহু ফসলি চাষ,
কর্মসূচি :
1966— 97 সাল থেকে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায়। কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের এই অভাবনীয় অগ্রগতিকে “সবুজ বিপ্লব” বলা হয়।
1970— 71 সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা ব্যাপক গম উৎপাদনের মাধ্যমে ভারতে সর্বপ্রথম সবুজ বিপ্লব শুরু হয়।
মন্তব্যসমূহ