দশম শ্রেণীর সেরা প্রস্তুতিতে আমরা অনেকটাই এগিয়ে যে সমস্ত যুক্তিভিত্তিক প্রশ্নগুলি সাধারণ চলিত বইতে আমরা পেতে পারি না সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আপনাদের সামনে আমরা সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করেছি।
অর্থের অভাবে যে সমস্ত শিক্ষার্থী ভালো কোচিং নিতে পারছে না তাদের জন্য আমাদের এই সমস্ত নিবেদন।
আরো ভূগোলে নিজেদের সমৃদ্ধ করার জন্য যদি কোন নোট এর প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই আমার নাম্বারে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
ক) ★“দক্ষিণ ভারতে জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচের অধিক প্রসার ঘটেছে” — কেন?
উত্তর:-
দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্যে জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচের অধিক প্রসার ঘটেছে। এর কারণ গুলি হল—
১) দক্ষিণ ভারতের ভূমি প্রাচীন গ্রানাইট ও নিস শিলায় গঠিত। এইরূপ কঠিন শিলা স্তর খাল খনন করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয় সাপেক্ষ।
২) এই অঞ্চলের ভূমিরূপ ঢেউ খেলানো। আর এই ধরনের ভূমিতে জলধার তৈরি করার সহজ। ঢেউ খেলানো ভূমি ভাগের এক দিকে কৃত্রিম বাদ দিয়ে বৃষ্টির জল কে আটকে রেখে জলাশয় তৈরি করা যায়।
৩) কঠিন ও ও প্রবেশ্য শিলা গঠিত দক্ষিণ আত্ম মালভূমির অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের ভেদ করে বৃষ্টির জল মাটির নিচে সঞ্চিত হতে পারে না। ভৌম জলের অভাবে এই অঞ্চলে কূপ ও নলকূপের প্রচলন খুব কম।
খ) ★“দক্ষিণ ভারতের তুলনায় উত্তর ভারতে নিত্যবহ খাল এর সংখ্যা অনেক বেশি”—কেন?
উত্তর:-
যেসব খালে সারা বছর জল থাকে সেগুলিকে নিত্যবহ খাল বলে। যেসব নদী বরফ গলা জলে পুষ্ট সাধারণত সেট গুলি থেকেই নিত্যবহ খাল কাটা হয়।
দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট বলে এগুলি গ্রীষ্মকালে শুকিয়ে যায়। তাই এইসব নদী থেকে নিত্যবহ খাল কাটা খুবই অসুবিধাজনক। ফলে দক্ষিণ ভারতে নিত্যবহ খাল এর সংখ্যা খুব কম। অপরদিকে উত্তর ভারতেরর নদী গুলি বরফ গলা জলে পুষ্ট বলে নদী গুলিতে সারাবছরই জল থাকে। তাই উত্তর ভারতে নিত্যবহ খাল এর সংখ্যা বেশি। যেমন—উত্তর ভারতের পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, বিহারো পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্য অনেক নিত্যবহ দেখা যায়।
গ) ★“দক্ষিণ ভারতের চেয়ে উত্তর ভারতে কূপ ও নলকূপের মাধ্যমে জলসেচের অধিক প্রসার ঘটেছে ”— কেন?
উত্তর:-
কঠিন ও প্রবেশ্য শিলা গঠিত দক্ষিণ আত্ম মালভূমির অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের ভেদ করে বৃষ্টির জল মাটির নিচে সঞ্চিত হতে পারে না। ভৌম জলের অভাবে তাই এই অঞ্চলে কূপ ও নলকূপের প্রচলন খুব কম। অপরদিকে উত্তর ভারতের বৃষ্টির এলাকা নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত হয় বৃষ্টির জল পাললিক শিলা স্তর ভেদ করে মাটির নিচে জমা হতে পারে। মাটির নিচের সঞ্চিত এই ভৌম জল কে অতি সহজে কূপ ও নলকূপের সাহায্যে জলসেচ করা হয়।
ঘ) ★ভারতীয় কৃষিতে খাল দ্বারা জলসেচ এর উপযোগিতা কতখানি?
উত্তর:-
ভূপ্রকৃতি, মাটিও বৃষ্টিপাতের তারতম্যের জন্য ভারতের বিভিন্ন এলাকায় জলসেচে পদ্ধতির মধ্যেও তারতম্য দেখা যায়। ভারতে প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে জলসেচ করা হয়।
যথা—
১) কুপ ও নলকূপ
২) জলাশয় এবং
৩) খাল।
∆ খালের মাধ্যমে জলসেচ:
সংজ্ঞা:-নদী থেকে খাল কেটে কৃষি জমিতে জলসেচ করার পদ্ধতিকে বলা হয় খালের মাধ্যমে জলসেচ।
∆ অবস্থান:-প্রধানত নদনদী বহুল এলাকায় সেচ খালের সাহায্যে জল সেচ করা হয়।
∆ গুরুত্ব:-
১) ভারতের মোট সেচ সেবিত এলাকার 40 শতাংশ জমিতে খাল দ্বারা জলসেচ করা হয়।
২) নদী থেকে বহুদূর পর্যন্ত সেচ করা হয়।
৩) চাষীদের খরচ কম হয় বা হয় না বললেই চলে।
৪) বহু প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে খালের মাধ্যমে জলসেচ ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।
৫) উত্তর ভারতের প্রধান প্রধান নদীগুলি সারা বছর বরফ গলা জলে পুষ্ট থাকা এখানকার বিস্তীর্ণ সমতল ভূমির ওপর দিয়ে খাল কাটা খুব সহজ।
∆ শ্রেণীবিভাগ:-সাধারণত সেচ খাল দুই প্রকার যথা—
১) নিত্যবহ খাল:-যেসব হালে সারা বছর জল থাকে সেগুলিকে নিত্যবহ খাল বলে। সাধারণত বরফ গলা জলে পুষ্ট নদী থেকে এই ধরনের খাল কাটা হয়। তাই এইসব খালে সারাবছরই জল থাকে এবং সারা বছরের সেচের কাজে লাগানো হয়।
২) প্লাবন খাল:-এই ধরনের খালে বছরের সব সময় জল থাকে না। বন্যা নিয়ন্ত্রণে এ জাতীয় খাল বিশেষ উপযোগী।
মন্তব্যসমূহ