অথবা
ভারতে ভূমিক্ষয়ের কারণ গুলি আলোচনা করো?
উত্তর :-
ভূমি মাটি ক্ষয়ের কারণ :-
প্রধানত দুটি কারণে মাটি হয়ে যায় যেমন—
১) প্রাকৃতিক কারণ,
২) মানবিক কারণ।
ক) প্রাকৃতিক কারণ:
১) স্বল্প বনভূমি:-মাটির ওপর গাছপালা ঘন আবরণ না থাকলে নদীর জল, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টির জল ও সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে মাটি ক্ষয় হয়ে যায়।
২) খাড়া ঢাল:- খাড়া পাহাড়ি ঢালে এর ওপর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে ঐ বৃষ্টির জলের প্রভাবে মাটির সহজেই ধুয়ে বেরিয়ে যায়।
৩) আলগা মাটি : মাটিতে চটচটে আঠাল ভাব না থাকলে মাটির সহজেই খুজে যায়। এইজন্য মরুভূমির ধারে, সমুদ্রের ধারে মাটি তাড়াতাড়িয় ক্ষয়ে যায়। কারন এই সব এলাকায় মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকায় মাটির বাঁধন আলগা।
খ) মানবিক কারণ :
১) বনভূমি বিলপ:-অতিরিক্ত গাছ কাটার জন্য মাটির দানাগুলি আলগা হয়ে পড়ে। ফলে গাছের শিকড় আর তখন মাটি আঁকড়ে রাখতে পারেনা।
২) অতিরিক্ত পশুচারণ:-পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত পশুচারণ করা হলেও ভূমিক্ষয় হয়।
৩) ধাপ চাষ:-পাহাড়ের ঢালের উপর চাষাবাদ করার জন্য ধাপ কাটা হয়। এই ধাপ গুলি জমির সমোন্নতি রেখা বরাবর তৈরি করা হয় না হলে জলপ্রবাহের বৃষ্টির জলের আঘাতের মাধ্যমে মাটি ক্ষয়ে যায়।
৪) জমির বেঠিক ব্যবহার:-জমিকে যে কাজে লাগালে ভালো হয় তাকে সেই কাজে না লাগিয়ে অন্যকোন ভাবে ব্যবহার করা হলে ভূমিক্ষয় হয়।
৫) ত্রুটিপূর্ণ জল সেচের ব্যবস্থা:-অবৈজ্ঞানিক জলসেচ ব্যবস্থার ফলে মাটির গুণগত মান নষ্ট হয়। ফলে ভূমিক্ষয় এর হার বৃদ্ধি পায়।
২) ★ভারতে ভূমি বা মাটি সংরক্ষণের জন্য কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?
উত্তর:
ভারতে মাটি সংরক্ষণের জন্য গৃহীত ব্যবস্থা:-ভারতে ভূমি বা মাটি ক্ষয় নিবারণের জন্য বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় নানারকম প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে যথা—
১) বনমহোৎসব মাধ্যমে বেশি করে গাছ লাগানো।
২) পশু চারণ নিয়ন্ত্রণ করা।
৩) আইন করে জুম চাষ বন্ধ করা।
৪) পার্বত্য অঞ্চলে ধাপ কেটে চাষ করা।
৫) অবৈজ্ঞানিক ভাবে গাছ কাটা বন্ধ করা।
৬) শস্যাবর্তন পদ্ধতিতে চাষ করা।
৭) বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করা।
৮) ভূমি ঢাল অনুসারে চাষ করা।
৯) মাটি সংরক্ষণের শিক্ষিত কর্মী দল গঠন করা।
৩) ★“পডসল মাটি”(podzol or podsol soli)কী ?
উত্তর :
আক্ষরিক অর্থ: রুশ শব্দ "পডসল" কথাটির অর্থ হলো "ধূসর"।
∆ সৃষ্টির পরিবেশ : শীতল ও আদ্র নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অন্তর্গত সরলবর্গীয় গাছের বনভূমি এলাকায় এই মাটি সৃষ্টি হয়।
∆ ভারতে অবস্থান :-ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চ অংশে যেখানে সরলবর্গীয় গাছের বনভূমি আছে সেখানে কিছু কিছু পডসল মাটি দেখা যায়।
∆ মাটির প্রকৃতি:-মাটির উপরের স্তরে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকায় এই স্তরের মাটি অম্লধর্মী কিন্তু মাটির নিচের স্তরে ছাইয়ের মত সাদাটে ধরনের মাটি দেখা যায়।
∆ কৃষির ওপর প্রভাব :-এই মাটি সাধারণত অনুর্বর। তাই কৃষিকাজের পক্ষে বিশেষ উপযোগী নয়।
৪) ★হিউমাস (Humus) কী?
উত্তর:-
অধিক জৈব পদার্থ পূর্ণ মাটিকে হিউমাস বলে। সাধারণত প্রাণীদের মল, মূত্র এবং জীবদেহের পচা গলা দেহাবসেষে জৈব পদার্থ উৎপন্ন হয়। মাটির মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন জীবাণু জীবদেহের দেহাবশেষে বিয়োজিত করে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। হিউমাস হল মাটিতে অবস্থানকারী জীবাণুদের খাদ্য। নাইট্রোজেনের উৎস। মাটির অম্লতা জমির উর্বরতা কিছুটা হিউমাসের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।
৫) ★ বালুকাময় মাটি কী?
উত্তর:-
∆অবস্থান: রাজস্থানের মরু অঞ্চল এবং গুজরাটের কচ্ছ কাথিয়াবাড় এর উত্তর অংশে এই মাটি দেখা যায়।
∆ বৈশিষ্ট্য:-
১) এই মাটিতে বালির ভাগ খুব বেশি।
২) বৃষ্টিপাতের প্রভাবে মাটির উপরের স্তরে নুনের ভাগ বেশি থাকে।
৩) উদ্ভিদ অঞ্চল বলে মাটিতে জৈব সার নেই বললেই চলে।
৪) বালির ভাগ বেশি থাকায় এই মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কম।
৫) এই মাটির স্থানীয় নাম সিরোজেম।
৬) ★ঝুম চাষ (Jhum Cultivation) বলতে কী বোঝো?
উত্তর:-
ঝুম চাষ এক ধরনের স্থান পরিবর্তন শীল কৃষি পদ্ধতি। এই ধরনের কৃষি পদ্ধতি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ভারতের স্থানান্তর কৃষি কে জুমচাষ বলা হয়।
∆ অবস্থান:-ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে বিশেষত অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, মিজোরাম মেঘালয়, নাগাল্যান্ড প্রভৃতি রাজ্যের পাহাড়ি উপজাতির লোকেরা ঝুম চাষ করে থাকেন।
∆ পদ্ধতি:-প্রথমে জঙ্গলের গাছপালা কেটে পুড়িয়ে ফেলে চাষাবাদ করা হয়। কয়েক বছর চাষ করার পর জমির উর্বরা শক্তি কমে গেলে জমিটি পরিত্যক্ত হয় এবং অন্য নতুন জায়গায় একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়।
∆ বৈশিষ্ট্য:-
১) চাষাবাদ সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টিনির্ভর।
২) চাষের জমি প্রতিবার জঙ্গল পুড়িয়ে পরিষ্কার করে নিতে হয়।
৩) এই পদ্ধতিতে জলসেচ ছাই ছাড়া সারের কোনো ব্যবহার নেই।
৪) কেবলমাত্র আদিম কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
৫) কিছু বছরের জন্য মাত্র একই জমিতে ফসল উৎপাদন করা হয়।
∆ সমস্যা:-
১) প্রতিবার জঙ্গলপুড়িয়ে জমি পরিষ্কার করতে হয় বলে পাহাড়ি এলাকার মূল্যবান অরণ্য সম্পদ ধ্বংস হয়।
২) ক্রমাগত জঙ্গল পুড়িয়ে চাষ করার ফলে একসময় ভূমিরূপ শক্তি নষ্ট হয়ে জমিটি পতিত হয়ে পড়ে।
৩) গাছপালা কমে যাওয়ার ফলে মাটির উপরের স্তর আলগা হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পায়। এজন্য ভারত সরকার বর্তমান জুমচাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
মন্তব্যসমূহ