মাধ্যমিকের সেরা প্রস্তুতি নিতে আমাদের এই ওয়েবসাইট আপনাদের অনেক সহযোগিতা করবে, ভূগোলের ১০০ তে ১০০ পেতে হলে আমাদের এই ওয়েবসাইট নিয়মিত আপনারা দেখুন এবং পড়তে থাকুন।
কিছুদিন বাদে আমরা প্রশ্নের প্যাটার্ন নিয়ে আলোচনা করব এবং একই সাথে আলোচনা করব প্রশ্নের দাগ নম্বর নিয়ে ।
সমস্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সাজেশন আপনারা এখান থেকে পেতে পারবেন তবে সেই সাজেশন পরীক্ষার মাত্র ১৫ দিন আগে আপলোড করা হবে কারণ সেটা সকলের জন্য নয় যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য আমরা এই ধরনের নিবেদন করতে চাই।
1) ∆ *আকসাই চীন:-*
উত্তর:-‘আকসাই চীন’ একটি পর্বত বেষ্টিত মালভূমি। এটি জম্মু ও কাশ্মীরের উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ কারাকোরাম পর্বতের পূর্ব দিকে অবস্থিত । এই মালভূমির গড় উচ্চতা প্রায় 4,500 মিটার। তবে কোন এলাকায় এটি 6,000 মিটারের বেশী উচুঁ। এখানে কয়েকটি নোনা জলের হ্রদ আছে। এদের মধ্যে ‘প্যাংগং’ ও ‘লিংজি টাঙ’ হ্রদ উল্লেখযোগ্য। আকসাই চীন এর উত্তরে আছে বিখ্যাত ‘সোডা মালভূমি'।
2) ∆ *পূর্বাচল*:-
উত্তর:-ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অরুণাচল প্রদেশ, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, প্রভৃতি রাজ্যে বেশ কয়েকটি উত্তর-পশ্চিমে বিস্তৃত অসমান্তরাল ভঙ্গিল পর্বত শ্রেণী ও ছোট ছোট পাহাড় দেখা যায়। এদের পূর্বাচল বলে। এদের মধ্যে মিশমি , পাটকই, নাগা, লুসাই, প্রভৃতি প্রধান। এখানকার পাহাড় গুলোর উচ্চতা বেশি নয়। মিশমি পর্বতের ‘দাফাবুম’(4,579 মিটার) সমগ্র পূর্বাচলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। নাগা পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল ‘সারামতি’।
3) ∆ *সোডা সমভূমি (soda plain)*:-
উত্তর:-কাশ্মীর উপত্যকার উত্তর পূর্ব প্রান্তের নাম ‘সোডা সমভূমি’। অঞ্চলটি আকসাই চীন অঞ্চলের উত্তর এবং কারাকোরাম পর্বত শ্রেণীর পূর্বে অবস্থিত। এই সোডা সমভূমি আসলে একটি উচ্চভূমি। পর্বত বেষ্টিত এই উচ্চভূমির উপরিভাগ প্রায় সমতল বলে ‘সোডা সমভূমি’ বলে।
4) ∆ *কারাকোরাম পর্বত শ্রেণী*:-
উত্তর:- জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে হিমাদ্রি পর্বত শ্রেনীর উত্তর হিমালয়ের প্রায় সমান্তরালে বিস্তৃত রয়েছে কারাকোরাম পর্বত শ্রেণী। এই পর্বতশ্রেণী তে আছে বহু উঁচু উঁচু পর্বত শৃঙ্গ। এদের মধ্যে গডউইন অস্টিন (8,611) মিটার, ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ। এই পর্বতে অনেক হিমবাহ দেখা যায়। এগুলি হল সিয়াচেন, বলটারো প্রভৃতি। সিয়াচেন ( 990কিমি.) ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ।
5) ∆ *খাদর*( *khadar)*
উত্তর:-
*সংজ্ঞা*:-নদীর তীরবর্তী নবীন পলিমাটি কে ‘খাদর’ বলে।
*অবস্থান*:-প্লাবনভূমি অঞ্চলে বন্যার ফলে প্রতিবছর নতুন পলি জমে খাদর মাটি সৃষ্টি হয়
*বৈশিষ্ট্য*:-এই মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকে এবং খুবই উর্বর।
*উদাহরণ*:-নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় এই ধরনের মাটি দেখা যায়।
6) *লাডাক* *পর্বতশ্রেণী*
*(Ladak range)*
*উত্তর* :-কাশ্মীরের কারাকোরাম ও হিমাদ্রি পর্বতশ্রেণীর মাঝে লাডাক পর্বতশ্রেণী অবস্থান করেছে। এর উত্তরে অবস্থান করছে লাডাক মালভূমি। এটি ভারতের সর্বোচ্চ মালভূমি। এখানে বহু নোনা জলের হ্রদ দেখা যায়। এদের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের “প্যাংগং” লবণ হ্রদ উল্লেখযোগ্য। এটি বিশ্বের উচ্চতম লবনাক্ত হ্রদ।
7). ∆ *মেঘালয় মালভূমি* ( *Meghalaya plateau)*
উত্তর:-
মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া, জয়ন্তিয়া ও মিকির পাহাড় নিয়ে মেঘালয় মালভূমি গঠিত। এই মালভূমি-প্রকৃতপক্ষে দাক্ষিণাত্য মালভূমির বিচ্ছিন্ন অংশ। গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল নকরেক (1,412 মিটার)। খাসিয়া— পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ শিলং (1,961 মিটার) মেঘালয় মালভূমির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এই অঞ্চলের বৃহত্তম পার্বত্য গুহাটি হলো গারো পাহাড়ের “সিজু” গুহা।
8) ∆ *ভাবর*
উত্তর:-
*সংজ্ঞা*:-হিমালয়ের পাদদেশের বালি ও পাথর মিশ্রিত পলিমাটি ভাবর বলে এবং এই মাটি গঠিত অঞ্চলকে ভাবর অঞ্চল বলা হয়।
*সৃষ্টি*:-শিবালিক পর্বতের পাদদেশে বরাবর গাঙ্গেয় সমভূমির উত্তরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নদীবাহিত নুড়ি, বালি, পাথর, প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে অল্প ঢেউ খেলানো ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে। এদের ভাবর বলে।
*বৈশিষ্ট্য*:-
১) এটি 10 - 15 কিমি. চওড়া।
২) এখানকার মাটি নুড়ি ও বালি মুক্ত এবং সচ্ছিদ্র।
৩) এই অঞ্চলের মাটি সচ্ছিদ্র বলে হিমালয় পর্বত থেকে উৎপন্ন ছোট নদী গুলি এখানে এসে ভূগর্ভে প্রবেশ করে।
৪) তারপর ভূগর্ভে প্রবাহিত নদীগুলির তরাই অঞ্চলের ফল্গুধারার মত পুনরায় বাইরে বেরিয়ে আসে।
৫) এছাড়া প্রায় সব নদী এখানে ঘনঘন গতি পরিবর্তন করে।
9) ∆ *ভাঙ্গর*( *bhangar* )
উত্তর:-
*সংজ্ঞা*:-নদী দূরবর্তী উচ্চভূমির প্রাচীন পলিমাটি কে ‘ভাঙ্গর’ বলে। সৃষ্টি সাধারণত নদীর প্লাবনভূমি থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে ভাঙ্গর মাটি দেখা যায়।
*বৈশিষ্ট্য*:-
১)এই মাটিতে কাদার ভাগ বেশি থাকে।
২) এই মাটি অপেক্ষাকৃত অনুর্বর।
*উদাহরণ*:-উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে এই ধরনের মাটি দেখা যায়।
10 ) ∆ *তরাই অঞ্চল*
উত্তর:-উত্তর ভারতের গাঙ্গেয় সমভূমির উত্তরাংশ তরাই নামে পরিচিত।
*সংজ্ঞা*:-হিমালয়ের পাদদেশে যেভাবে অঞ্চল আছে তার ঠিক দক্ষিনে “তরাই অঞ্চল ” অবস্থিত।
*সৃষ্টি*:-হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল থেকে দক্ষিনে বই আশা নদীগুলির নুড়ি, বালি ও পল্লী সঞ্চয়ের ফলে এই তরাই অঞ্চল গড়ে উঠেছে।
*বৈশিষ্ট্য*:-
১)অঞ্চলটি 15 - 40 কিমি চওড়া এবং গড় উচ্চতা 100 মিটারের মতো।
২) উত্তরের ভাবর অঞ্চলে যেসব নদী নুড়ি-কাকর স্তুপের মধ্যে হারিয়ে যায়, সেগুলি তরাই অঞ্চলের ফল্গুধারার মত আত্মপ্রকাশ করে।
৩) তাই এখানে বহু জলাভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
৪) প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য তরাই অঞ্চলের গভীর বনভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
11) ∆ *রান অঞ্চল অথবা কচ্ছের রান*।
উত্তর:-
*অবস্থান*:-কচ্ছ শব্দের অর্থ জলময় দেশ। গুজরাটের কচ্ছ উপদ্বীপের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বেষ্টন করে আছে যে কাদায় ভরা বিস্তীর্ণ লবণাক্ত জলাভূমির তাকে “রান” অঞ্চল বলে।
*বৈশিষ্ট্য*:-
১) এই অঞ্চলের মোট আয়তন প্রায় 73 হাজার 600 বর্গ কিমি.।
২) উত্তর দিকের রান অঞ্চলটি বৃহৎ রান এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ক্ষুদ্ররাণ বলে।
৩) বর্ষাকালে এই অঞ্চল লুনি, বানষ প্রভৃতি নদনদীর লবণাক্ত জলে প্লাবিত হয়।
৪) আবার গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলকে জলহীন শুষ্ক ও লবণাবৃত অঞ্চল হিসেবে দেখা যায়।
12) ∆ *ডেকান ট্রাপ*
উত্তর:-
*∆ অবস্থান* :-সাতপুরা পর্বতের দক্ষিনে মহারাষ্ট্রে ডেকান ট্রাপ অবস্থিত।
∆ *অর্থ* :-ডেকান কথাটির অর্থ হল ‘দাক্ষিণাত্য’ এবং ‘ট্রাপ’ এর অর্থ হল ধাপ বা সিঁড়ি।
∆ *সৃষ্টি* :-দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমে প্রাচীনকালে কোন রকম বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভূগর্ভ থেকে ফাটলের মাধ্যমে লাভা বেরিয়ে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ফেলে এবং শীতল হয়ে লাভা মালভূমি গঠন করে। ব্যাসল্ট শিলা গঠিত অংশে ক্ষয় কার্যের ফলে ধাপ বা সিঁড়ি যুক্ত ভূমি ভাগের সৃষ্টি হয়েছে। সমগ্র মালভূমির পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে নেমে গেছে। এই লাভা মালভূমি টি “ডেকান ট্রাপ” মালভূমি নামে পরিচিত।
13) ∆ *মালনাদ ও ময়দান*:-
উত্তর:-দাক্ষিণাত্য মালভূমির দক্ষিণ অংশে এলাকাটি কর্ণাটক রাজ্যের অন্তর্গত তাকে বলে কর্ণাটক মালভূমি। কর্ণাটক মালভূমি কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা —মালনাদ ও ময়দান।
∆ *মালনাদ*:-কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিম অংশের উঁচু পাহাড়ি অঞ্চল কে “মালনাদ” বলে। কানাডা ভাষায় মালনাদ কথার অর্থ ‘পাহাড়ি দেশ’। মালনাদ পর্বতময় এবং বন্ধুর। এখানকার পাহাড় গুলির মধ্যে বাবাদুদান উল্লেখযোগ্য।
∆ *ময়দান* :-কর্ণাটক মালভূমির পূর্ব দিকের নিচুও ঢেউ খেলানো ভূমি ভাগকে ময়দান বলে। এটি গ্রানাইট ও নিস্ শিলায় গঠিত।
14) ∆ *মরুস্থলি*:
উত্তর:-ভূ প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভারতের মরু অঞ্চল কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
১) মরুস্থলি
২) রাজস্থান বাগার
৩) রোহি।
∆ *অবস্থান*:-মরু অঞ্চলের একেবারে পশ্চিমে বালি,পাথর প্রভৃতি দ্বারা গঠিত অঞ্চল মরুস্থলি নামে পরিচিত।
∆ *সংজ্ঞা*:-রাজস্থানের শুষ্ক মরু অঞ্চল কে মরুস্থলি বলা হয়।
∆ *অর্থ*:-মরুস্থলি অর্থ মৃতের দেশ।
∆ *নামকরণ*:-অতি অল্প বৃষ্টিপাতের কারণেতো জীবনের অস্তিত্ব প্রায় নেই বলে রাজস্থানের বালু সময় মরু অঞ্চল কে মৃতের দেশ বা মরুস্থলি নামকরণ করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ