১) ★ গঙ্গা কে আদর্শ নদী বলা হয় কেন ?
∆ *গঙ্গা কে আদর্শ নদী বলার*
*কারণ*:-
গঙ্গা নদীর গতিপথে উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতি এই তিনটি অবস্থা সুস্পষ্ট দেখা যায়। গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি। এই উৎসস্থল থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত উচ্চগতি বা পার্বত্য গতিতে সাধন করে, হরিদ্বার থেকে রাজমহল পর্যন্ত মধ্য গতিতে বহন করে এবং রাজমহলের পর থেকে বঙ্গোপসাগরের উপকূল অর্থাৎ মোহনা পর্যন্ত নিম্নগতিতে পলি জমা করে বদ্বীপ সৃষ্টি করে। তাই গঙ্গা নদী কে ভারতের আদর্শ নদী বলে।
২) ★ দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী কেন?
*উত্তর*:-মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি অত্যন্ত খরস্রোতা। আর খরস্রোতা নদী জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে বিশেষ উপযুক্ত। প্রায় সমগ্র দক্ষিণাত্ম মালভূমির ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর ও অসমতল। তাই নদীগুলি স্বাভাবিকভাবে খরস্রোতা হওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।
৩) ★ দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্ব বাহিনী কেন?
*উত্তর*:-দক্ষিণ ভারতের প্রধান নদীগুলি দক্ষিণাত্যের মালভূমি পশ্চিম দিকে অবস্থিত পশ্চিমঘাট পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এই মালভূমি অঞ্চল সামগ্রিকভাবে ধাপে ধাপে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঢালু হয়ে গেছে। এই কারণে দক্ষিণাত্যের অধিকাংশ নদী পূর্ব বাহিনী।
৪) ★ ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় বন্যা হয় কেন?
অথবা,
অসমে প্রতি বছর বন্যা হয় কেন?
উত্তর:
*অসমে বা ব্রহ্মপুত্র নদে*
*বন্যার কারণ*:-অসমের প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্র। এই নদ অসমের এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, সেখানে ভূমির ঢাল খুবই কম। এজন্য ব্রহ্মপুত্র নদীর গতি অত্যন্ত ধীর এবং পলির বহনক্ষমতা অল্প, তাই ব্রহ্মপুত্র এবং তার উপনদী গুলি তাদের ঊর্ধ্ব প্রবাহ অঞ্চল থেকে যতটা পরিবহন করে আনে তার বেশিরভাগই এখানকার নদী খাতে জমা হয়। এইভাবে বহু বছর ধরে সঞ্চয় কাজের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের সমভূমি প্রবাহে নদীর গভীরতা যথেষ্ট পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। ফলে শান্ত নদী যখন বিশ্ব বর্ষাকালে উচ্চ প্রবাহ অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে বরফ গলা জল বহন করে আনে, সেই সময় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা পূর্ব হিমালয় বাধা পেয়ে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। অগভীর ব্রম্মপুত্রের খাতে যখন ওই বরফ গলা জল ও বৃষ্টির জল এসে পড়ে, তখন তা বহন করার মতো ক্ষমতা আর ব্রম্মপুত্রের থাকেনা। ফলে দু-কুল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি হয়।
৫) ★দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্ব বাহিনী হলেও নর্মদা ও তাপ্তি নদীর পশ্চিম বাহিনী কেন?
*উত্তর*:-
পূর্ব পশ্চিমে অবস্থিত সাতপুরা পর্বতের উভয়পাশে অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিণে চ্যুতির ফলে দুটি গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে। তাই দাক্ষিণাত্য মালভূমির স্বাভাবিক পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে হলে ও তাপী , নর্মদা নদী দুটি এই গ্রস্ত উপত্যকা মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার জন্য পশ্চিম বাহিনী হয়েছে।
৬) ★ দক্ষিণ ভারতের পশ্চিম বাহিনী নদীর মোহনায় বদ্বীপ নেই কেন?
অথবা,
আরব সাগরে পতিত নদী গুলোর মোহনায় বদ্বীপ নেই কেন?
অথবা,
নর্মদা ও তাপ্তি নদীর মুখে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়নি কেন?
*উত্তর*:-পশ্চিম বাহিনী বা আরব সাগরে পতিত নদী মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি কারণ:-
১) অধিকাংশ পশ্চিম বাহিনী নদী ক্ষুদ্র বলে নদীর জল থাকে।
২) নর্মদা ও তাপ্তি অপেক্ষাকৃত বড় নদী। কিন্তু নদী দুটির খুব বেশি। ফলে এদের মোহনায় খুবই কম পলি সঞ্চিত হতে পারে।
৩) পশ্চিম বাহিনী নদী গুলোর উপনদীর সংখ্যা কম। ফলে পোলিও বালি নদীর জলে কম আসে।
৪) নর্মদা ও তাপ্তি নদী কাম্বে উপসাগরের যে অংশে সমুদ্রে মিশেছে সেখানে ভূমির ঢাল খুব বেশি থাকায় মোহনায় পল্লীসঞ্চয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।
৭) ★ দাক্ষিণাত্যের পূর্ব বাহিনী নদী গুলির মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি কেন?
*উত্তর*:-
মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণ, কাবেরী প্রভৃতি দাক্ষিণাত্যের প্রধান পূর্ব বাহিনী নদী। নদীগুলি বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। নানা কারণে এই সব নদীর মোহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে।
∆ *বদ্বীপ সৃষ্টির কারণ*:-
১) পূর্ব বাহিনী নদী গুলোর উপনদীর সংখ্যা বেশি বলে পলি, বালির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি।
২) নিম্ন প্রবাহ স্রোতের বেগ কম থাকায় নদীগুলো তাদের বোঝা বেশি দূরে নিক্ষেপ করতে পারেনা।
৩) সমুদ্র উপকূলের ঢাল কম এবং মহীসোপান অঞ্চল অগভীর ও চওড়া।
৪) এখানে সমুদ্রস্রোত যথেষ্ট প্রবল না হওয়ায় নদীবাহিত পলি সমূহ মোহনায় সঞ্চিত হতে পারে। এইসব কারণে দক্ষিণ ভারতের পূর্ব বাহিনী নদী গুলির মোহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে।
৮) ★উত্তর ভারতের নদীগুলি দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি চেয়ে নৌবহনের পক্ষে উপযোগী কেন?
*উত্তর*:-
উত্তর ভারতের নদী গুলির বেশিরভাগ অংশ সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় খরস্রোতা নয়। অপরদিকে দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি বন্ধুর মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীগুলি খরস্রোতা। তাই নদীগুলি নাব্য নয়। এজন্য দক্ষিণ ভারতের নদী গুলির চেয়ে উত্তর ভারতের নদীগুলি নৌবহরের পক্ষে উপযুক্ত।
৯) ★উত্তর ভারতের নদী গুলির চেয়ে দক্ষিণ ভারতের নদী গুলিতে বন্যার প্রকোপ কম কেন?
*উত্তর*:-
উত্তর ভারতের নদীগুলি প্রায় সারাবছরই হিমবাহের বরফ গলা জলে পুষ্ট থাকে। তাই বর্ষাকালে যখন প্রচন্ড পরিমানে বৃষ্টি হয় তখন এই নদীগুলি অতিরিক্ত জল ধারণ করতে পারে না। ফলে অধিকাংশ নদীতে বন্যা দেখা যায়। অপরদিকে দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি কেবলমাত্র বৃষ্টির ঝর্ণার জলে পুষ্ট। তাছাড়া নদী পথের ঢাল ও বেশি হওয়ায় সহজেই জল প্রবাহিত হয়ে যেতে পারে। তাই বর্ষাকালে অতিরিক্ত জলের চাপেও প্লাবন হয়না।
মন্তব্যসমূহ
Thank you sir.