1) ‘বন্যা’ কাকে বলে?
*উত্তর*:-
কোন একটি বিস্তীর্ণ স্থলভূমি যখন বেশ কিছুদিনের জন্য বিশাল জলরাশি দ্বারা আবৃত থাকে তখন তাকে বন্যা বলে।
2) খরা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে ?
*উত্তর*:
*খরা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি*:-
১) জলধারে জল জমা করে সেই জলের সাহায্যে সেচের সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারলে খাবার কিছুটা মোকাবিলা করা যায়।
২) গাছপালা বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বলে কৃত্রিম বনভূমি সৃষ্টি করে বা বন সংরক্ষণ করে খরা প্রতিহত করা যায়। ৩) বর্তমানে কম্পিউটার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবং উন্নত মানের আবহাওয়া গবেষণাগার স্থাপন করে কোন বছরের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সংকেত দেওয়া সম্ভব হয়। এর ফলে খরার মোকাবেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাওয়া যায়।
3) ∆ ‘ *মৌসুমি বিস্ফোরণ’*( Burst of monsoon)
*উত্তর*:-
গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে গভীর নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয় এবং তা ক্রমশ প্রবল শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই নিম্নচাপের আকর্ষণে সুদূর ভারত মহাসাগরের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে আদ্র বায়ু আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারতে প্রবেশ করে। দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে আসে বলে এই বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নামে পরিচিত। এই বায়ু যে মুহূর্তে প্রবল বর্ষণ ও বর্ষণসহ ভারতে এসে পৌঁছায় তাকে মৌসুমি বিস্ফোরণ (burst of monsoon) বলে। ভারতের জুন মাসের প্রথমেই বায়ুর আগমন ঘটে।
4) ∆ *বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল*
*উত্তর*:-
জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোন পর্বতের যে ঢালে আঘাত করে, সেই ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। কিন্তু পর্বত অতিক্রম করে ওই বায়ু যখন পর্বত এর বিপরীত ঢালে বা অনুবাদ ঢালে এসে পৌঁছায়, তখন জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমে। এছাড়া ওপর থেকে নিচে নামার ফলে তার জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে পর্বতের অনুবাদ ঢালে বৃষ্টিপাত খুবই কম। সেই বৃষ্টি বিরল অনুবাদ ঢালে ‘বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল’ বলে।
*উদাহরণ*:-ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরবসাগরিয় শাখা সরাসরি প্রতিহত হয় বলে ওই অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। কিন্তু পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালে অবস্থিত এলাকাসমূহে অর্থাৎ দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয় বলে এই এলাকাগুলি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল রূপে পরিচিত।
5) ∆ *‘কালবৈশাখী’ ঝড়*:
*উত্তর*:-
গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে কর্কট কান্তি রেখার দিকে অগ্রসর হয়। এইসময় প্রখর উত্তাপ এর জন্য ভারতের বিভিন্ন অংশে কিছু স্থানীয় নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপের বায়ু শূন্যতাকে পূরণ করার জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে চিতলমারী বায়ু এবং সমুদ্র উপর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও হালকা বায়ু প্রবলবেগে ওই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে যায়। এর ফলে স্থানীয় ভাবে কোন কোন অঞ্চলে ব্যাপক ও বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে। এই প্রবল ঝড় বৃষ্টিকেই পশ্চিমবঙ্গে ‘কালবৈশাখী’ বলে। সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাঝে এই ঝড় বৃষ্টি হয় বলে এর নাম ‘কালবৈশাখী’।
6) ∆ *আশ্বিনের ঝড়*:
*উত্তর*:-
অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সূর্য নিরক্ষ রেখা অতিক্রম করে কম মকরক্রান্তি রেখার দিকে অগ্রসর হয়। ফলে উত্তর পশ্চিম ভারতে এই সময় ধীরে ধীরে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়। এই উচ্চচাপ বলয় থেকে নির্গত বয়সে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কে বাধা দেয়। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতি পরিবর্তন করে পশ্চাদ অপসরণ করে। এই সময় মাঝে মাঝে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমী বায়ু এবং দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সংঘর্ষের ফলে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। একে “আশ্বিনের ঝড়” বলে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে এটি আশ্বিন মাসে হয় বলে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে এই ঝড় “আশ্বিনের ঝড়” নামে পরিচিত। এই ঘূর্ণিবাত ভারতের পূর্ব উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
7) ∆ *পশ্চিমী ঝামেলা বা ঝঞ্ঝাট*:
*উত্তর*:
শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে পশ্চিমা বায়ু একটি শাখা ইরানের মালভূমি অতিক্রম করে উত্তর-পশ্চিম ভারতের কাশ্মীর পাঞ্জাব দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। কোন কোন সময় গাঙ্গেয় পতাকা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত অগ্রসর হয়। এর প্রভাবে শীতকালে উত্তর পশ্চিম ভারতে কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করা যায়। শীতকালে শান্ত আবহাওয়াকে বিপর্যস্ত করে এক ঝঞ্ঝাট অন্য আবহাওয়া সৃষ্টি করে বলে একে “পশ্চিমী ঝামেলা” বা “ঝঞ্ঝাট” বলে
8) ∆ *ভারতের জলবায়ুতে* *হিমালয় পর্বতের প্রভাব*:
*উত্তর*:-
১) হিমালয় পর্বত ভারতের উত্তরে প্রাচীরের মতো দণ্ডায়মান। দক্ষিণের সমুদ্র থেকে আগত জলীয়বাষ্প পূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিমে মৌসুমী বায়ু হিমালয় পর্বতের ঢালে বাধা পেয়ে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।
২) শীতকালে মধ্য এশিয়ার শীতল বাতাসে হিমালয় পর্বতের উত্তর ঢালে বাধা পেয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে তীব্র শীতের হাত থেকে ভারত রক্ষা পায়।
৩) সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালার বহু এলাকায় গ্রীষ্মকালেও নাতিশীতোষ্ণ ও শীতল প্রকৃতির জলবায়ু বিরাজ করে।
মন্তব্যসমূহ