★ভারতের নদী সংক্রান্ত সাধারণ তথ্য★
★ভারত নদীমাতৃক দেশ। ভারতের ওপর দিয়ে অসংখ্য নদনদী প্রবাহিত হয়ে আমাদের দেশকে সুজলা -সুফলা-শস্য-শ্যামলা করে তুলেছে।
★ভারতের দীর্ঘতম ও জাতীয় নদী গঙ্গা।
★ভারতের দীর্ঘতম উপনদী-যমুনা।
★ভারতের অন্তর্বাহিনী নদী-লুনি।
★ভারতে সর্বাধিক পরিমাণ জল বহনকারী নদী-ব্রহ্মপুত্র।
★উত্তর ভারতের নদনদী★
উত্তর ভারতের প্রধান নদীগুলি হল
১) গঙ্গা,
২) সিন্ধু
৩) ব্রহ্মপুত্র
★গঙ্গা (Ganga) গঙ্গা ভারতের প্রধান নদী।
উৎস (Source): উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন হিমালয়ের অন্তর্গত গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি।
প্রবাহপথ (River course)
ক) উচ্চগতি (Upper course): গঙ্গার উৎস থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত অংশে উচ্চগতি দেখা যায়। উৎসের কাছে এই নদী ভাগীরথী নামে পরিচিত। এরপর ভাগীরথী রুদ্রপ্রয়াগের নিকট মন্দাকিনী ও দেবপ্রয়াগের নিকট অলকানন্দা নদীর সাথে মিলিত হয়ে গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
খ) মধ্যগতি(Middle Course): হরিদ্বার থেকে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত অংশ গঙ্গার মধ্যগতি। এই অংশে যমুনা, শোন, গোমতী, ঘর্ঘরা, রামগঙ্গা, কোশি প্রভৃতি উপনদী এসে গঙ্গার সাথে মিশেছে।
গ) নিম্নগতি (Lower Course): রাজমহল পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর অর্থাৎ মোহনা (Mouth) পর্যন্ত প্রবাহ গঙ্গার নিম্নগতি।
গঙ্গা মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে দুটি শাখায় ভাগ হয়েছে। প্রধান শাখাটি প্রথমে পদ্মা ও পরে মেঘনা নামে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। অপর শাখাটি ভাগীরথী-হুগলি নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
ভাগীরথী-হুগলির প্রবাহ পথে অজয়, দামোদর, রূপনারায়ন, কংসাবতী, জলঙ্গি, মাথাভাঙ্গা প্রভৃতি উপনদী মিলিত হয়েছে।
দৈর্ঘ্য: গঙ্গা নদীর মোট দৈর্ঘ্য 2525 কিমি।
উপনদী সমূহ (Tributaries): ডান তীরের উপনদী সমূহ-যমুনা, শোন, অজয়, দামোদর, কংসাবতী, রূপনারায়ন প্রভৃতি।
বামতীরের উপনদী সমূহ-গোমতী, ঘর্ঘরা, রামগঙ্গা, গণ্ডক, কোশি, জলঙ্গি, মাথাভাঙ্গ , চূর্ণি প্রভৃতি।
গঙ্গার প্রধান উপনদী সমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
উপনদীর নাম: যমুনা .
দৈর্ঘ্য (কিমি) : 1376 Km
উৎস : যমুনোত্রী হিমবাহ .
বিশেষ তথ্য : গঙ্গার দীর্ঘতম এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম উপনদী।
* চম্বল *
দৈর্ঘ্য ( কিমি) - 1050
উৎস : মধ্যপ্রদেশের বিন্ধ্য পর্বতের জানা পাও অঞ্চল
বিশেষ তথ্য : *এটি যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
* নদী উপত্যকা অঞ্চলে গালি ক্ষয় দ্বারা বদভূমি (Badland) গড়ে উঠেছে।
* রামগঙ্গা *
দৈর্ঘ্য (কিমি)- 596
উৎস : গাড়োয়াল জেলা
বিশেষ তথ্য * এর উপনদী কোশি, আরিল ইত্যাদি।
*ঘর্ঘরা*
দৈর্ঘ্য (কিমি)- 1080
উৎস : তিব্বতের মানস সরোবরের গুরলা মান্ধাতা চূড়া
* এর উপনদী সরযূ (যার তীরে অযোধ্যা অবস্থিত)
*গঙ্গার বৃহত্তম উপনদী হল (জলপ্রবাহ)
*শোন*
দৈর্ঘ্য ( কিমি)- 784
উৎস: মধ্যপ্রদেশের অমরকন্টক পর্বত শৃঙ্গ
বিশেষ তথ্য: * পাটনার কাছে দানাপুরে গঙ্গার সাথে মিশেছে।
* উত্তর কোয়েল রিহান্দ এর উপনদী।
*দামোদর*
দৈর্ঘ্য (কিমি) - 541
উৎস : ছোটনাগপুর মালভূমি।
বিশেষ তথ্য: * বর্ষায় অত্যধিক মাত্রায় বন্যা হওয়ার কারণে একে বাংলার দুঃখ বলা হয়।
*বরাকর ,কোনার এর উপনদী।
*গন্ডক*
দৈর্ঘ্য (কিমি)- 425(ভারতে)
উৎস : নেপাল তিব্বত সীমান্ত
বিশেষ তথ্য: *বিহারের হাজিপুরে গঙ্গার সঙ্গে মিশেছে।
*কোশি*
দৈর্ঘ্য (কিমি)- 730 ( ভারতে)
উৎস: সিকিম নেপাল তিব্বত হিমালয়।
বিশেষ তথ্য : * উৎপত্তিস্থল সপ্তকোশি নামে পরিচিত।
* বন্যা ঘটায় বলে একে বিহারের বিহারের দুঃখ বলে।
*বুড়িগন্ডক*
দীর্ঘ (কিমি)- 610
উৎস : ভারত-নেপাল সীমান্ত সামেসর পর্বত।
বিশেষ তথ্য : * মুঙ্গেরের কাছে গঙ্গার সাথে মিশেছে।
মন্তব্যসমূহ