উত্তর:-
কাশ্মীর উপত্যকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। এই উপত্যাকার সীমানা বরাবর তুষার আচ্ছাদিত পর্বতশিখরে অপরূপ অবস্থান, উলার, ডাল ও নিসার হ্রদে মনোরম নৌবিহার; মনোরম নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া; চারদিকে অপূর্ব সরলবর্গীয় গাছের সমাবেশে প্রভৃতি নানা রকম নয়নাভিরাম প্রকৃতির সৌন্দর্য জন্য কাশ্মীর উপত্যকাকে ভূস্বর্গ বা প্রাচ্যের নন্দনকানন বলা হয়।
২) ভারতের উত্তরের সমভূমি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর:-
সমভূমির উৎপত্তি:- ভূ বিজ্ঞানীদের মতে হিমালয় পর্বতের গঠনের সময় দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তরাংশ অর্ধচন্দ্রাকার বসে যায়। পরবর্তীকালে উত্তরে হিমালয় ও দক্ষিনে মালভূমি অঞ্চল থেকে বিভিন্ন নদী ক্রমাগত পল্লী সঞ্চয় করে এই সমভূমি সৃষ্টি করেছে।
৩) গাঙ্গেয় সমভূমির শ্রেণীবিভাগ করো ?
উত্তর:-
ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র অনুসারে গাঙ্গেয় সমভূমি কে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। যথা—
¡) উচ্চ গঙ্গা সমভূমি,
¡¡) মধ্য গঙ্গা সমভূমি
¡¡¡) নিম্ন গঙ্গা সমভূমি।
¡) *উচ্চ গঙ্গা সমভূমি*:-পশ্চিমে যমুনা নদীর বামতীর থেকে পূর্বে এলাহাবাদ পর্যন্ত অংশকে উচ্চ গঙ্গা সমভূমি বলা হয়।
¡¡) *মধ্য গঙ্গা সমভূমি*:-এলাহাবাদ থেকে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল মধ্য গঙ্গা সমভূমি নামে পরিচিত।
¡¡¡) *নিম্ন গঙ্গা সমভূমি*:-দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চল ও পুরুলিয়ার সমগ্র ভূমি অঞ্চল বাদে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নিয়ে নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি গঠিত।
৪) রাজস্থানের মরুভূমি সৃষ্টির কারণ ?
*উত্তর*:-
ভারতের একমাত্র মরুভূমিটি রাজস্থানের পশ্চিমঅংশে অবস্থান করেছে। এটি থর মরুভূমি নামে পরিচিত। এই মরুভূমি সৃষ্টির কারণ গুলি হল-
১) আরাবল্লী পর্বতের উচ্চতা কমে যাওয়ায় এবং এটি মৌসুমী বায়ুর গতিপথে সমান্তরালভাবে অবস্থান করায়, এই পর্বত জলীয়বাষ্পকে বাধা দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না।
২) এই এলাকায় ব্যাপক ভাবে বনভূমি ধ্বংস করায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে গেছে।
৩) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরবসাগরীর শাখা পশ্চিমঘাট পর্বতের বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটাবার পর যখন এই এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন ওই বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ খুবই কম থাকে।
৪) এই এলাকার শিলাস্তরে কোয়ার্টজ নামক খনিজের পরিমাণ বেশি। এগুলি তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যাই বলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
৫) ভূমিকম্পের প্রভাবে এই এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
৬) সর্বোপরি মরু অঞ্চলের বায়ুমন্ডলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিমাণ বেশি থাকায় মৌসুমী বায়ুর জলীয় বাষ্পকে শোষণ করে বৃষ্টিপাত ঘটাতে দেয় না। এইসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবে ভারতের পশ্চিমে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
৫) কচ্ছ উপদ্বীপের ভৌগোলিক পরিচয় দাও ?
*উত্তর*:-
★ *অবস্থান* :- গুজরাটের পশ্চিমে কচ্ছ উপসাগরের উত্তরে কচ্ছ উপদ্বীপ অবস্থিত।
★ *ভৌগোলিক পরিবেশ*:-
কচ্ছ উপদ্বীপ প্রধানত বেলে পাথর দিয়ে গঠিত। বালিয়াড়ি যুক্ত উপকূল, বালুকাময় সমভূমি ও উদ্ভিদ , পাহাড় উপদ্বীপের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কচ্ছ উপদ্বীপের উত্তর ,পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যে কর্দম ময় লবণাক্ত অগভীর জলাভূমি আছে, তাকে কচ্ছে ‘‘রান অঞ্চল ’’ বলে। এই অঞ্চল বর্ষাকালে প্লাবিত হয় এবং গ্রীষ্মকালে শুষ্ক থাকে। উত্তর দিকের অঞ্চল ‘‘বৃহৎ রান’' এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশে ‘‘ক্ষুদ্র রান '' বলে। বৃহৎ রানের মাঝে মাঝে দ্বীপ বাটলা দেখা যায়।
৬) কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের ভৌগোলিক পরিচয় দাও?
*উত্তর*:-
*★অবস্থান* :-
গুজরাট রাজ্যের দক্ষিণে উপদ্বীপটিকে কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ বলা হয়। কচ্ছ উপসাগর ও খাম্বাত উপসাগর এর মাঝে কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ অবস্থিত।
★ *ভৌগোলিক পরিবেশ*:-
কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ প্রধানত লাভা দ্বারা গঠিত একটি প্রাচীন উপদ্বীপ। লাভা গঠিত এই অঞ্চল ক্রমশ হয় পেয়ে বর্তমানে সমভূমি তে পরিণত হয়েছে। এই উপদ্বীপের মাঝে মাঝে দেখা যায় কঠিন শিলায় ক্ষয়জাত পাহাড়। এদের মধ্যে গির, গিরনার ও মান্ডব পাহাড় উল্লেখযোগ্য। গিরনার এর "গোরক্ষনাথ শৃঙ্গ" কাথিয়াবাড় এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এই উপদ্বীপের পূর্বে সীমায় অবস্থান করেছে "জল সরোবর" নামে একটি বিশাল হ্রদ।
৭) পূর্ব ভারতের উচ্চভূমির আঞ্চলিক বিভাগ গুলি কি কি?
*উত্তর*:-
ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি কে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
১) *ছোটনাগপুর মালভূমি*:-প্রায় সমগ্র ঝারখন্ড রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিমাংশের অংশবিশেষ এই ছোটনাগপুর মালভূমি গঠিত হয়েছে।
২) *বাঘেলখন্ড মালভূমি*:-ছোটনাগপুর মালভূমির পশ্চিমে কোন নদী উপত্যকার দক্ষিনে বাঘেলখন্ড মালভূমি অবস্থিত।
৩) *মহানদী অববাহিকা*:-বাঘেলখন্ড ও ছোটনাগপুর মালভূমির দক্ষিনে অবস্থিত নদী অববাহিকা।
৪) *গড়জাত পাহাড়*:-মহানদী অববাহিকার পূর্বদিকে অবস্থিত উড়িষ্যার উঁচু ভূমিকে গড় জাত পাহাড় বলে।
৫) *দণ্ডকারণ্য অঞ্চল*:-ছত্তিশগড় সমভূমির দক্ষিণ অংশের ছত্তিশগড় ও উড়িষ্যা রাজ্যে দণ্ডকারণ্য অঞ্চল অবস্থিত।
৮) মহারাষ্ট্র মালভূমি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
অথবা
টিকা লেখো দাক্ষিণাত্যের মালভূমির একটি অংশ ডেকানট্রাপ নামে পরিচিত।
*উত্তর*:-
মহারাষ্ট্র মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশে আছে মহারাষ্ট্র মালভূমি। এই মালভূমি লাভা মালভূমি নামে পরিচিত।
১) ভূ বিজ্ঞানীদের মতে বহু কোটি বছর আগে কোন রকম বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে ভূগর্ভ থেকে ফাটলের মাধ্যমে লাভা বেরিয়ে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে ফেলে।
২) পরবর্তীকালে এই লাভাস্রোত ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে ব্যাসল্ট শিলার পরিণত করে।
৩) লাভা গঠিত এই মালভূমির আরেক নাম “ডেকান ট্রাপ”হয়। “ট্রাপ ”কথাটির একটি সুইডিস শব্দ। এর বাংলা প্রতিশব্দ ‘ধাপ ’বা ‘সিঁড়ি'।
৪) সমগ্র মালভূমিতে নানা প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে সিড়ির মত ধাপে ধাপে নেমে গেছে। এই জন্য এই লাভা মালভূমি কে ‘ডেকান ট্রাপ' বলা হয়।
৯) মধ্য ভারতের উচ্চভূমির ভাগ গুলি কি কি?
*উত্তর*:-
আঞ্চলিক অবস্থান অনুসারে মধ্য ভারতের উচ্চভূমি কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
১) আরাবল্লী পর্বত
২) পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমি
৩) বুন্দেলখন্ড মালভূমি
৪) মধ্য ভারতের
৫)পঠার মালব মালভূমি
৬)বিন্ধ পর্বত
৭)বিন্ধের খাড়া ঢাল
৮)নর্মদা নদীর উপত্যকা
৯)রেওয়া মালভূমি।
১০) আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কে “সবুজদীপ” বলে কেন ?
*উত্তর*:-
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ু নিরক্ষীয় প্রকৃতির হওয়ায় এখানে চিরহরিৎ গাছের ঘন বনভূমি দেখা যায়। এইজন্য এই দ্বীপপুঞ্জের অপর নাম “সবুজ দ্বীপ”।
বি:দ্র:-মাধ্যমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের সেরা নিবেদন ভারতের ভূগোল থেকে আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম। প্রত্যেকে প্রস্তুতি নিতে থাকুন আমাদের ওয়েবসাইট থেকে এবং আপনাদের চূড়ান্ত ফলাফল এর অপেক্ষা করুন।
নিঃস্বার্থভাবে আমাদের এই প্রচেষ্ঠ আপনাদের সামনে সুন্দর এবং সরলীকরণ হয়ে দাঁড়াবে আপনাদের পূর্ণমাণ তোলার ক্ষেত্রে।
মন্তব্যসমূহ