ভারতের মৌসুমী জলবায়ু সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য জানতে আপনারা আমার ইউটিউব চ্যানেলটি সার্চ করুন এবং দুস্থ ও মেধাবী ছাত্র ছাত্রীর কাছে আপনারা পৌঁছে দিন যারা অর্থের অভাবে পড়াশোনা ঠিকঠাক করতে পারছে না।
YouTube
Geography short route,Rabi Sankar sahoo
১) ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রক গুলি সম্পর্কে আলোচনা করো?
*উত্তর*:
∆ *ভারতের জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক সমূহ:-
যেসব উপাদান ভারতের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলি হল—
১) *অক্ষাংশ*:-ভারতের প্রায় মাঝখান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বিস্তৃত। সুতরাং অক্ষাংশগত অবস্থান অনুসারে ভারতের উত্তরাংশে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল এবং দক্ষিণাংশ উষ্ণ অঞ্চলের অন্তর্গত। তাই দক্ষিণ ভারতের চেয়ে উত্তর ভারতে উষ্ণতা সাধারণভাবে কম।
২) *সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা*:-সমুদ্রতল থেকে কোন স্থানের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তার তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এইজন্য গাঙ্গেয় সমভূমির চেয়ে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে উষ্ণতা যথেষ্ট কম।
৩) *সমুদ্র থেকে দূরত্ব*:-যে স্থান সমুদ্র উপকূল থেকে যত দূরে অবস্থিত, সেখানে দিন ও রাতের এবং শীত-গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্য ততো বেশি হয়। উত্তর ও উত্তর- পশ্চিম ভারত সমুদ্র উপকূল থেকে বহু দূরে অবস্থিত বলে সাময়িক বায়ুর প্রভাব কম। তাই এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। এছাড়া উপকূল থেকে দূরবর্তী এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও কম।
৪) *সমুদ্রের প্রভাব*:-ভারতের দক্ষিণ অংশে তিনদিক সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত বলে স্থলবায়ু ও সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু সমভাবাপন্ন প্রকৃতির হয়।
৫) *পর্বতের অবস্থান*:-ভারতের উত্তরে হিমালয় পর্বত শ্রেণী পূর্ব-পশ্চিমে বৃস্তিত বলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয়ের দক্ষিণ বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। আবার এই হিমালয় পর্বত থাকার জন্য সাইবেরিয়ার কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস ভারতে প্রবেশ করতে পারে না, ফলে শীতকালে শীত তেমন তীব্র হয় না। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতিপথে আড়াআড়িভাবে অবস্থানের জন্য পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পশ্চিম প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। পর্বতের অবস্থান এর তারতম্যের ফলে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের তারতম্য ঘটে। পর্বতের অনুবাদ ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের সৃষ্টি হয়।
৬) *মৌসুমী বায়ু প্রবাহ*:-ভারতের জলবায়ুর সর্বাধিক নিয়ন্ত্রক হল মৌসুমী বায়ু। দক্ষিণ-পশ্চিম আদ্র মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালে উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু স্থলভাগ থেকে আছে বলে শুষ্ক থাকে।
৭) *থর মরুভূমির অবস্থান* :-গ্রীষ্মকালে রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চলে অধিক উষ্ণতার ফলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। ফলে মৌসুমী বায়ু ছুটে এসে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
২) ★ ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো?
উত্তর:
*ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য*:
∆ ঋতু পরিবর্তন:-
ভারতের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ঋতু পরিবর্তন। ভারতের প্রধান চারটি ঋতু চক্রাকারে আবর্তিত হয়। যথা—
ক) গ্রীষ্মকাল—(মার্চ থেকে মে),
খ) বর্ষাকাল—( জুন থেকে সেপ্টেম্বর),
গ) শরৎকাল—( অক্টোবর থেকে নভেম্বর),
ঘ) শীতকাল—( ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস)।
এছাড়া শীতের আগেও রয়েছে নাতিদীর্ঘ হেমন্তকাল অসিত এরপর রয়েছে নাতিদীর্ঘ বসন্তকাল।
১) *মৌসুমি বায়ুর প্রভাব*:-মৌসুমী বায়ু ভারতের জলবায়ুর ওপর সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করে।
২) ঋতু পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের বন্টন, তাপমাত্রার পরিবর্তন, বায়ুপ্রবাহ মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর নির্ভর করে।
৩) *বৃষ্টিপাতের অসম বন্টন*:-দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতের অধিকাংশ বৃষ্টিপাত ঘটে। কিন্তু এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়। উত্তর-পূর্ব ভারতে ও পশ্চিম উপকূলের সর্বাধিক এবং রাজস্থান মরু অঞ্চল এবং কাশ্মীরের উত্তরাংশে সর্বনিম্ন।
৪) বৃষ্টিপাতের সাময়িক বিরতি*: -ভারতের বৃষ্টিপাত একটানা হয়না। মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতের সাময়িক বিরতি ঘটে ।
৫) অনিয়মিত ও অনিশ্চিত বৃষ্টিপাত*:-মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন অত্যন্ত অনিশ্চিত। মৌসুমী বায়ুর এই খামখেয়ালি প্রকৃতির জন্য ভারতের বিভিন্ন অংশে সব বছর সমানভাবে বৃষ্টিপাত হয় না। কখনো অতি বৃষ্টির জন্য বন্যা, আবার কখনও কখনও অল্প বৃষ্টির ফলে খরার সৃষ্টি হয়।
৬) *আর্দ্র গ্রীষ্মকাল ও প্রায় শুষ্ক শীতকাল:-ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত ঘটে। ফলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। অপরদিকে এখানে মৌসুমী বায়ু প্রত্যাগমন করে বলে জলবায়ু শুষ্কপ্রকৃতির হয়।
৭) *ঋতুকালীন বায়ুপ্রবাহ :-ঋতুকালীন বায়ুপ্রবাহ মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই গ্রীষ্মকালে ভারতের দক্ষিণ থেকে উত্তরে এবং শীতকালে উত্তর থেকে দক্ষিনে বায়ু প্রবাহ ঘটে।
৮) *স্থানীয় বায়ুর প্রভাব:-নানা প্রকার স্থানীয় বায়ু ভারতের জলবায়ুকে কিছুটা প্রভাবিত করে থাকে। যেমন—পূর্বভারতে কালবৈশাখী, উত্তর-পশ্চিম ভারতের ‘লু’ ও ‘আধি’স্থানীয় ভাবে আবহাওয়া ও জলবায়ু কিছুটা নিয়ন্ত্রিত করে থাকে।
৯) *উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:-ভারতের দক্ষিণ অংশে নিম্ন অক্ষাংশে ও সমুদ্রের কাছে অবস্থিত বলে জলবায়ু কিছুটা উষ্ণ কিছুটা সমভাবাপন্ন প্রকৃতির। অপরদিকে সমুদ্র থেকে বহু দূরে অবস্থান করায় দেশের মধ্য ও উত্তর অংশের জলবায়ু কিছুটা চরমভাবাপন্ন।
১০) *সময় ও স্থানভেদে তাপমাত্রার পরিবর্তন:-বছরের বিভিন্ন সময়ে ভারতের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটে।
ক) গ্রীষ্মকালে সূর্যরশ্মি ভারতে লম্বভাবে পড়ে বলে গড় তাপমাত্রা বেশি হয়। এইসময় রাজস্থানে ও তাপমাত্রা 48°c পর্যন্ত উঠে যায়।
খ) শীতকালে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে বলে তাপমাত্রা কম থাকে (15 —20°c)।
গ) জুন মাসের পর থেকে মৌসুমী বায়ুর আগমনের সাথে সাথে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায়।
ঘ) অধিক উচ্চতার জন্য হিমালয় পার্বত্য এলাকায় সারাবছর শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে। শীতকালে এখানে তুষারপাত ঘটে।
ঙ) দেশের পূর্ব-পশ্চিমে সমুদ্র অবস্থান করায় উপকূল বরাবর সারাবছর সমভাবাপন্ন আবহাওয়া বিরাজ করে।
বি:দ্র: (মাধ্যমিকের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে আমরা আপনাদের সাথে রয়েছি, আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট এর সমস্ত প্রশ্ন গুলি নিয়মিতভাবে পড়াশোনা করতে থাকুন এবং অর্থের অভাবে যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে পারছেন না তাদের কাছে আপনারা এই নোটগুলো পৌঁছে দিন আমরা নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের জন্য রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।)
মন্তব্যসমূহ