উত্তর)
সংজ্ঞা : যে কৃষি ব্যবস্থায় বাজারকেন্দ্রিক আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের এর মাধ্যমে বৃহদায়তনের সব্জী , ফল ও ফুলের চাষ করা হয় তাকে বাজার বাগান কৃষি (Horticulture) বলে।
নামকরণ : ,Horticulture, শব্দটি লাতিন শব্দ ,Hortus, অর্থাৎ বাগান বা ,Garden, এবং Culture, অর্থাৎ চাষ থেকে এসেছে।
উদাহরণ : উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স,জার্মানি প্রভৃতি দেশে বাজার বাগান কৃষি অধিক দেখা যায়।
2) বাজার বাগান কৃষির প্রধান ফসল গুলির নাম লেখ ?
উত্তর)
বাজার বাগান কৃষির প্রধান ফসল হল শাকসবজি, ফলমূল ও ফুল।
১) ওলেরিকালচার : সারাবছর শাকসবজি চাষকে ওলেরি কালচার বলে।
যেমন-- টম্যাটো,আলু,কপি ,গাজর ।
২) পোমাম বা পমিকালচার : সারাবছর ফলমূলের চাষ কে পোমাম কালচার বলে।
যেমন -- আঙুর, আপেল, নাসপাতি প্রভৃতি।
৩) ফ্লোরিকালচার : সারা বছর ধরে হয় এমন ফুলের চাষ কে ফ্লোরিকালচার বলে।
যেমন -- চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া প্রভৃতি।
3) হর্টিকালচার বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ ?
উত্তর) বৈশিষ্ট্য :
১) উচ্চ ফলনশীল বীজ, পর্যাপ্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়।
২) উৎপাদিত ফসল মূলত রপ্তানি নির্ভর।
৩) এই কৃষিব্যবস্থা শ্রমনীবিড় ও মূলধন প্রজ্ঞার।
৪) উৎপাদিত ফসল অধিকাংশই পচনশীল।
৫) জোত গুলি মাঝারি মাপের হয়।
৬) এই কৃষি ব্যবস্থায় জলসেচের ভূমিকা অপরিসীম।
৭) এই কৃষি ব্যবস্থায় উৎপাদন কেন্দ্র ও বাজারের মধ্যে উন্নত ট্রাক পরিবহন দেখা যায় যাকে ট্রাক ফার্মিং বলে।
৮) শহরাঞ্চলে নিত্যনৈমিত্তিক শাকসবজির চাহিদা এই কৃষি পূরন করে।
4) পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে স্থানান্তর কৃষির কি কি নামে পরিচিত ?
উত্তর)
স্থানান্তর কৃষির বিভিন্ন নাম :
দেশের নাম কৃষির নাম
১) মধ্য আমেরিকা মিলপা
২) ব্রাজিল রোকা
৩) মালেশিয়া লাডাং ৪) ৪) মায়ানমার। টাঙ্গিয়া
৫) কঙ্গো প্রজাতন্ত্র মাসোলা
৬) ভেনেজুয়েলা। কোনুক
৭) ফিলিপাইনস। কেইনজিন
৮) ইন্দোনেশিয়া হুমা
৯) থাইল্যান্ড তামরাই
১০) বাংলাদেশ। ঝুম
১১) শ্রীলংকা চেনা
১২) ভারত। ঝুম
5) ভারতের রাজ্যভিত্তিক স্থানান্তর কৃষির নাম গুলি কী কী ?
উত্তর ) স্থানান্তর কৃষির রাজ্যভিত্তিক নামকরণ :
রাজ্যের নাম কৃষির নাম
১) ওড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশ -- পোডু
২) কেরল। ---------------- পোনম
৩) মধ্যপ্রদেশ, --------------মোশান বেওয়ডবীরা
৪) উত্তর-পূর্ব ভারত ----------- ঝুম
6) সেচন কৃষি কাকে বলে ?
উত্তর) মূলত জলসেচ নির্ভর কৃষি কে সেচন কৃষি বলে। এই কৃষিব্যবস্থা মূলত শুষ্ক জলবায়ু যুক্ত অঞ্চলের নদী অববাহিকায় বিকশিত হয়েছে।
এই পদ্ধতিতে কৃষিকার্যের জন্য নদীতে বাঁধ দেওয়া হয় ও জলা ধার নির্মাণ করা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে সুরঙ্গ পথে জল নিয়ে গিয়ে সেচকার্য করা হয়, একে কারেজ পদ্ধতি বলে।
7) সেচন কৃষির বৈশিষ্ট্য লেখ ।
উত্তর)
বৈশিষ্ট্য :
১) সারা বছর ধরে চাষাবাদ করা যায়।
২) সেচ ব্যবস্থায় বিকাশ সাধনে কৃষিজমির সম্প্রসারণ ঘটে।
৩) হেক্টরপ্রতি ফসল উৎপাদন বেশি।
৪) জমির সুসংহত ব্যবহার সম্ভব হয়।
৫) অধিক সে জমির লবনতা বৃদ্ধি পায়।
৬) স্থানীয় প্রয়োজনও বাজারের গতি প্রকৃতি অনুযায়ী ফসল নির্বাচন করা যায়।
উদাহরণ : নীলনদ অববাহিকায় কৃষি কাজ।
8) দোহ কৃষি ( Dairy farming) কী ?
উত্তর) এককথায় অত্যন্ত প্রগাঢ় ভাবে পশু পালন পদ্ধতি কে দহো কৃষি বলে। দোহ কৃষির প্রধান উৎপাদন হলো দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি, যেমন--ছানা, পনির ,মাখন, ঘি, দই ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য :
১) শুষ্ক জলবায়ু যুক্ত অঞ্চলে এবং তৃণভূমিতে দোহ কৃষির বিকাশ অধিক হয়।
২) দোহ কৃষিতে বাণিজ্যিকভাবে পশুপালন হয়।
দৃষ্টান্ত: ইউরোপের নেদারল্যান্ড , ব্রিটেনের , উত্তর আমেরিকায় বৃহৎহ্রদ অঞ্চলের দক্ষিণ , দিকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দোহ কৃষির অধিক বিকাশ হয়েছে।
9) ইন্টারকালচার বলতে কি বোঝো?
সংজ্ঞা: একটি নির্দিষ্ট জমিতে বিভিন্ন সারিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানো কে ইন্টারকালচার বা আন্তঃকৃষি বলে।
বৈশিষ্ট্য:
১) এই কৃষিক্ষেত্র থেকে সারা বছর পাওয়া যায় ফসল।
২) এটি কিছুটা ঋতুভিত্তক কৃষি ক্ষেত্র।
দৃষ্টান্ত: উন্নত দেশগুলিতে দেখা যায় তবে বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশেও দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ
Thank you sir.