নিচের প্রশ্নগুলি 3 marks খুব গুরুত্বপূর্ণ তাই সকলকে বলবো গুরুত্বসহকারে প্রশ্নগুলি পড়তে থাকুন এবং নিজের উত্তরের খাতায় পাশাপাশি উত্তর গুলো দেখে নেওয়ার চেষ্টা করো।
যে সমস্ত দুস্থ এবং মেধাবী ছাত্র ছাত্রী শিক্ষকের কাছে পড়ার জন্য অর্থনৈতিক সমস্যা থাকে তাদের ক্ষেত্রে বলব আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকে ভূগোল বিষয় গুলি গ্রহণ করো এবং তোমরা অবশ্যই ভালো রেজাল্ট করতে পারবে।
১) ★ভারতকে “মৌসুমি জলবায়ুর দেশ” বলা হয় কেন?
অথবা,
ভারতের জলবায়ুতে “মৌসুমি জলবায়ু” বলে কেন?
*উত্তর*:-
‘মৌসুমী’ শব্দটির উৎপত্তি আরবি শব্দ ‘মৌসিম’থেকে। আরবি ‘মৌসিম’ শব্দের অর্থ "ঋতু"। ঋতু অনুসারে প্রবাহিত বায়ু কে মৌসুমী বায়ু বলে। ভারতের জলবায়ু প্রধানত মৌসুমী বায়ু কোন বায়ু প্রবাহ দ্বারা সর্বাধিক প্রভাবিত। গ্রীষ্মকালে আর্দ্র দক্ষিণ- পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে শীতল ও শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। এই দুই বিপরীত ধর্মী বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে ভারতের জলবায়ুতে বিপরীতধর্মী দুটি প্রধান ঋতু সৃষ্টি হয়েছে। একটি আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং অপরটি শুষ্ক শীতকাল। আবার এই দুই মৌসুমী বায়ুর চক্রাকারে পরিবর্তনের প্রভাবে ভারতের জলবায়ুতে ঋতু চক্র সৃষ্টি হয়। প্রকৃতপক্ষে ভারতের জলবায়ু সম্পূর্ণরূপে মৌসুমী বায়ু দ্বারা প্রবাহিত। তাই ভারতকে “মৌসুমি জলবায়ুর” দেশ বা ভারতের জলবায়ুতে “মৌসুমি জলবায়ু” বলা হয়।
২) ★করমন্ডল উপকূলে শীতকালে বৃষ্টিপাত এর কারণ কি?
*উত্তর*:-
ভারতে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস শীতকাল। শীতকালে ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু। মধ্য এশিয়ার বরফাবৃত স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে এই বায়ু অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক। এ বায়ু ভারতের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। এবায় উক মূলত শুষ্ক হলেও বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে যাবার সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এবং করমন্ডল উপকূলে পূর্বঘাট পর্বতমালা ধাপিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এইজন্য করমন্ডল উপকূলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।
৩) ★তামিলনাড়ু বা করমন্ডল উপকূলে বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয় কেন?
*উত্তর*:-
ভারতের দক্ষিণ পূর্ব উপকূলে অন্ধ্রপ্রদেশে রাজ্যের কৃষ্ণা নদীর বদ্বীপ থেকে তামিলনাড়ু কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগকে করমন্ডল উপকূল বলে।
১) একবার বর্ষাকালে ভারত মহাসাগরের দিক থেকে আগত আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিস্তার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ঘটে।
২) দ্বিতীয়বার শীতকালে শুষ্ক উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে যখন করমন্ডল উপকূলে পৌঁছায় তখন বঙ্গোপসাগর থেকে সংগৃহীত জলীয়বাষ্প পূর্বঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
সুতরাং করমন্ডল উপকূলে বৃষ্টিপাত হয় বছরে দুবার— একবার বর্ষাকালে এবং দ্বিতীয়বার শীতকালে এইজন্য বলা হয় “তামিলনাড়ু উপকূলে বা করমন্ডল উপকূলে বছরে দুবার বর্ষাকাল হয়”।
৪) ∆ভারতে শীতকাল শুষ্ক হওয়ার কারণ কী?
*উত্তর*:-
শীতকালে দক্ষিণ গোলার্ধে মকর ক্রান্তি রেখার উপর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে অত্যধিক উত্তাপ এর জন্য নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিকভাবে বায়ুর উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত এই উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু ভারতের উপর দিয়ে দক্ষিণ গোলার্ধের নিম্নচাপ বলয়ের দিকে ছুটে আসে। মধ্য এশিয়ার বরফাবৃত স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে এই বায়ু অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির হয় অর্থাৎ জলীয়বাষ্প থাকে না বললেই চলে। এর ফলে শীতকালে সমগ্র দেশের তাপমাত্রা যথেষ্ট পেলেও জলীয়বাষ্পের অভাবে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না তাই ভারতের শীতকাল শুষ্ক।
৫) ★শিলং অপেক্ষা মৌসিনরামে বৃষ্টিপাত বেশি কেন?
*উত্তর*:-
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করে। মেঘালয় খাসিয়া পাহাড়ের বাধা পেয়ে ওই বায়ুপ্রবাহ হঠাৎ অনেক উঁচুতে উঠে যায় এবং প্রবল শৈত্য ঘনীভূত হয়ে পাহাড়ের দিক দক্ষিণ অবস্থিত চেরাপুঞ্জির নিকটবর্তী মৌসিনরাম এ প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। আদ্রবায়ু পাহাড়ে বাধা প্রতিবাদ ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে এই বায়ুতে আর জলীয়বাষ্প থাকে না। তাই এই শুষ্ক বায়ু যখন পাহাড় অতিক্রম করে পাহাড়ের ওপর দিকে অর্থাৎ অনুবাদ ঢালে, প্রচুর তখন সেখানে আর বৃষ্টিপাত ঘটে না। পাহাড়ের অনুবাদ ঢাল এর প্রায় দৃষ্টিহীন এলাকাকে “বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল” বলে। মেঘালয়ের শিলং এই বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল অবস্থিত বলে এখানে মৌসিনরামের তুলনায় বৃষ্টিপাত খুবই কম।
৬) ★শিলং, দার্জিলিং প্রভৃতি স্থানে জলবায়ু শীতল কেন?
*উত্তর*:-
কোন স্থানের উচ্চতা ভূপৃষ্ঠের উচ্চতার উপর অনেকটা নির্ভরশীল। বায়ুমণ্ডল সরাসরি সূর্যকিরণে উত্তপ্ত হয় না। ভূপৃষ্ঠে সূর্যরশ্মি গ্রহণ করে উত্তপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ প্রভৃতি পদ্ধতির মাধ্যমে তাপ বায়ুমন্ডলে সঞ্চালিত হলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়। তাই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা হ্রাস পায়। আবার বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরের বায়ুতে ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প কম থাকায় বায়ু সৌরতাপ কে বেশি শোষণ করতে পারে না। ফলে উপরের স্তরের বায়ুর উষ্ণতা ও কম হয়। যেহেতু শিলং, দার্জিলিং প্রভৃতি স্থানে পর্বতের উচ্চতা অবস্থিত তাই এই সব স্থানে জলবায়ু শীতল প্রকৃতির হয়।
মন্তব্যসমূহ